মহেশখালীতে মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন
- আপডেট সময় : ০৯:৩৭:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫ ৯৫ বার পড়া হয়েছে

মুসলিম নারীদের ‘ভাগওয়া লাভ ট্র্যাপ’ থেকে প্রতিকার, গাজীপুরের আশামনি ধর্ষণ, মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ মাদানিকে রহস্যজনক গুম এবং সর্বশেষ মহেশখালীতে ইসকন সদস্যদের মাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শানে কুরুচিপূর্ণ কটুক্তির ঘটনার প্রতিবাদে মহেশখালীতে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) জুমার নামাজ শেষে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি মিছিল নিয়ে পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। পরবর্তী সময়ে এটি উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে রূপ নেয়।
বক্তারা বলেন, “রাসূলুল্লাহ (সা.) সমগ্র মানবজাতির মুক্তির প্রতীক। নবীজির মর্যাদা মুসলমানের ঈমানের অংশ। তাঁর অবমাননার শাস্তি হওয়া উচিত সর্বোচ্চ দৃষ্টান্তমূলক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এই ধৃষ্টতা দেখাতে না পারে।”
আরও বলেন, “ইসলামবিরোধী ষড়যন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে চালানো হচ্ছে। নারীদের টার্গেট করে বিভ্রান্ত করা, আলেমদের ওপর নির্যাতন বা গুম—এসব একই চক্রের অংশ। এ অপতৎপরতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইনের কঠোর প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি।”
সমাবেশে আয়োজকরা জানান, ইসলাম ও নবীজির মর্যাদা রক্ষায় ভবিষ্যতেও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
গত ২৩ অক্টোবর রাতে মহেশখালীর ইসকন সদস্য উত্তম কুমার দে, অশিম কুমার দে ও বিপ্লব কুমার দে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবী (সা.)-কে নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করলে তা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে এবং উত্তাল প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসলে মহেশখালী থানা পুলিশ ও কোস্টগার্ড যৌথ অভিযান পরিচালনা করে রাতেই তাদের আটক করে।
পরদিন (২৪ অক্টোবর) আদালতে সোপর্দ করলে বিজ্ঞ আদালত তাদের জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দেন।
মানববন্ধনে প্রধান বক্তা হিসেবে হেফাজতে ইসলাম মহেশখালী উপজেলা শাখার আমীর মাওলানা জামালুল আনোয়ার বলেন—“নবীজির অবমাননা কোনো মুসলমান সহ্য করতে পারে না। আমরা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। তবে শুধু গ্রেফতার নয়, এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আইন যতদিন ন্যায়বিচার না দেবে, ততদিন এমন অপকর্ম বন্ধ হবে না।”
তিনি আরো বলেন— “এই কটুক্তির ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচজনসহ মোট আটজনের নামে মহেশখালী থানায় মামলা করা হয়েছে। আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হোক।”
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ বলেন— “ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার মতো গুরুতর অপরাধে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। প্রশাসন সবসময় জনগণের পাশে আছে।”
মহেশখালী থানার ওসি মঞ্জুরুর হক বলেন— “ঘটনার পরপরই পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেফতার করেছে। তদন্ত কার্যক্রম চলছে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে দ্রুত চার্জশিট দাখিল করা হবে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় স্থানীয় তৌহিদি জনতা ও ধর্মপ্রাণ মুসলিম সমাজের দাবি—নবী অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
এসইউটি/
















