শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত
- আপডেট সময় : ০৯:২৩:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬ ২৩১ বার পড়া হয়েছে

শাওয়াল মাস—আরবি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী দশম মাস। এর আগমন ঘটে বরকতময় রমযান মাসের পরপরই। এই মাসটি ইবাদত-বন্দেগি ও নফল আমলের জন্য বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। কারণ, এই মাসেই মুসলিম উম্মাহ ঈদুল ফিতরের আনন্দ উদযাপন করে। এছাড়া হজের কার্যক্রমও শুরু হয় শাওয়াল মাস থেকে, যা চলতে থাকে যিলকদ ও যিলহজ্জ মাসব্যাপী। এই দিকগুলো শাওয়ালকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ মাসে পরিণত করেছে।
শাওয়াল মাসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আমল হলো—ছয়টি নফল রোজা। এই রোজাগুলোর ফজিলত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: “যে ব্যক্তি রমজানের রোজা পালন করেছে, এরপর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখবে, সে যেন পুরো বছর রোজা রাখার সওয়াব লাভ করলো।” (সহীহ মুসলিম: ২/৮২২, হাদীস: আবু আইয়ুব আনসারী রা.)
আল্লাহ বলেন: “যে কেউ একটি সৎকর্ম করবে, তার জন্য থাকবে দশগুণ প্রতিদান।” (সূরা আল-আনআম: ৩/১৬০)
এই আয়াত এবং হাদীস অনুযায়ী:
রমজানের ৩০টি রোজা × ১০ = ৩০০ দিনের সওয়াব
শাওয়ালের ৬টি রোজা × ১০ = ৬০ দিনের সওয়াব
মোট: ৩৬০ দিন = এক বছরের রোজার সমতুল্য।
ফকীহগণ বলছেন: মালিকি, শাফেয়ী, হাম্বলি ও পরবর্তী হানাফি ফকীহদের মতে—শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখা সুন্নাত। রাসূল (ছা.) নিজেও তা পালন করেছেন এবং সাহাবিদের উদ্বুদ্ধ করেছেন।
হাদীস শরীফে এসেছে: “রমজান মাসের রোজা দশ মাসের সমান, আর এরপর শাওয়ালের ছয়টি রোজা দুই মাসের সমান। এভাবে পুরো এক বছরের রোজা পূর্ণ হয়।” (মুসনাদে দারেমি: ২/২১, সনদ সহীহ)
الفتاوى الهندية (١/٢٠١)
حاشية الدسوقي (١/٥١٥)
مغني المحتاج (١/٤٤٦)
كشاف القناع (٢/٣٣٨)
الموسوعة الفقهية (٢٨/٩٨)
শাওয়ালের ছয় রোজা পালন করা শুধুমাত্র একটি নফল আমল নয়; বরং তা রাসূলের সুন্নাত, সাহাবায়ে কেরামের আমল এবং ফকীহদের নির্দেশিত পথ। এই রোজাগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বছরের রোজার সওয়াব অর্জন করা যায়। তাই আমাদের সকলের উচিত, রমজানের পরে শাওয়ালের ছয়টি রোজা আদায় করা এবং এই মহান ফজিলতের অংশীদার হওয়া।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই গুরুত্বপূর্ণ রোজাগুলো সঠিকভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমীন।
● মুহাম্মদ আরশাদ: দাওরায়ে হাদিস ও উচ্চতর ইসলামী আইন গবেষণা, ফাতাওয়া বিভাগ, জামিয়া মাদানিয়া শুলকবহর, চট্টগ্রাম।











