সীমান্তে অপেক্ষায় লাখ রোহিঙ্গা, আবারও ঢলের শঙ্কায় বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ১২:১০:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫ ১৪২ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত এবং আরাকান আর্মির নির্যাতনের কারণে অন্তত এক লাখ রোহিঙ্গা সীমান্তে অপেক্ষা করছে। যে কোনো সময় তারা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে অনেকেই এখনও রাখাইনের ভয়াবহ স্মৃতি বহন করছেন। বুথিডং থেকে পালিয়ে আসা সেলিম নামে এক যুবক জানান, আরাকান আর্মির নির্যাতনে তিনি তার মা ও পরিবারের তিনজনকে হারিয়েছেন। ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, কারও হাত-পা কেটে নেওয়া হয়েছে, আবার কেউ স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারবেন না।
শুক্রবার রাত থেকে ভোর পর্যন্ত টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তে টানা গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা চৌধুরী জানান, ওপারের গ্রামগুলোতে হঠাৎ সংঘর্ষ শুরু হলে সীমান্তবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিজিবি টেকনাফ ২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন জানান, কোস্টগার্ড ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, গত এক বছরে প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এখনও অন্তত এক লাখ সীমান্তে অপেক্ষা করছে। শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, সীমান্তে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। মাদক, অস্ত্র ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও বাড়ছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, মিয়ানমারের নীতির পরিবর্তন না হলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের অন্যান্য সংঘাতপ্রবণ দেশের শরণার্থীরা তৃতীয় দেশে আশ্রয় পেলেও রোহিঙ্গারা সে সুযোগ পায়নি।
সম্প্রতি বিজিবি সীমান্ত থেকে আরাকান আর্মির এক সদস্যকে অস্ত্রসহ আটক করেছে। এছাড়া নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, এ পর্যন্ত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে, তাদের মধ্যে তিনজন মিয়ানমারের নাগরিক।
২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও রাখাইনদের নির্যাতনে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এবারও একই ধরনের ঢল নামতে পারে যদি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কার্যকর না হয়।













