সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

১৭ জুলাইয়ে গায়েবানা জানাজায় পুলিশের বাধা, ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৩৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫ ২৮২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

২০২৪ সালের ১৭ জুলাই (বুধবার) কোটা সংস্কার আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ হয় গায়েবানা জানাজা, সংঘর্ষ, বিক্ষোভ, রেল ও সড়ক অবরোধ, ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা এবং পুলিশের দমনপীড়নের মধ্য দিয়ে। পবিত্র আশুরার ছুটির দিনেও সারাদেশ উত্তাল হয়ে ওঠে আন্দোলনকারীদের প্রতিবাদে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ওঠে আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র। ভোর থেকে ছাত্রলীগ কর্মীদের ক্যাম্পাস থেকে তাড়িয়ে দিয়ে রাজনীতিমুক্ত ঘোষণা করে আন্দোলনকারীরা। ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হল বন্ধ ঘোষণা করে, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে নির্দেশ দেয়। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে।

পূর্বের দিন রংপুর, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলায় নিহত আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরামসহ অন্তত ছয়জনের মাগফিরাত কামনায় এদিন ঢাবি রাজু ভাস্কর্যে গায়েবানা জানাজার আয়োজন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। জানাজা শুরু হওয়ার আগেই পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বিকেল ৪টায় উপাচার্যের বাসভবনের সামনে জানাজা আদায় করা হয়। জানাজা শেষে শিক্ষার্থীরা কফিন বহন করে শপথ নেন এবং ঘোষণা দেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

পরে আন্দোলনকারীরা টিএসসি অভিমুখে গেলে পুলিশ বাধা দেয় এবং কয়েক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। আন্দোলনকারীরা সেখানেই অবস্থান নেয়। আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম জানান, পুলিশ ক্যাম্পাসের প্রতিটি প্রবেশ পথে বাধা দিয়েছে এবং হলের ভেতরে টিয়ার গ্যাস ও গুলি ছুড়ে শিক্ষার্থীদের তাড়িয়ে দিয়েছে।

দিনজুড়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গায়েবানা জানাজায় বাধা, হামলা ও দমন-পীড়নের ঘটনা ঘটে। ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অনেক জায়গায় শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে বাধা দেয়।

হানিফ উড়ালসড়কের কাজলা টোলপ্লাজায় আগুন দেওয়া হয়, শনিরআখড়া থেকে কাজলা পর্যন্ত ২০টিরও বেশি স্থানে আগুন জ্বলে।

আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সন্ধ্যার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ টিএসসিতে গিয়ে বলেন, পুলিশ হল খালি করার অনুমতি পেয়েছে, সময়মতো না ছাড়লে ছাড় দেওয়া হবে না।

এর আগে ১৬ জুলাই রাতে ছাত্রলীগের হামলার জবাবে আন্দোলনকারীরা ঢাবির ১৪টি আবাসিক হলে ঢুকে ছাত্রলীগ নেতাদের কক্ষ ভাঙচুর করে এবং ‘ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ’ মর্মে অঙ্গীকারনামায় প্রাধ্যক্ষদের স্বাক্ষর আদায় করে।

১৭ জুলাই বিকেলে আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা দেন, ১৮ জুলাই বৃহস্পতিবার সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ পালন করা হবে। এদিন হাসপাতাল ও জরুরি সেবা ছাড়া সবকিছু বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে আন্দোলনকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে ছাত্রসমাজ ন্যায়বিচার পাবে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক আন্দোলনকে স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতে চলে যাওয়া দাবি করে ‘বসে থাকার সময় নেই’ মন্তব্য করেন। ওবায়দুল কাদের দলীয় নেতাকর্মীদের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রস্তুতি নিতে বলেন, ‘আমাদের অস্তিত্বের ওপর হামলা এসেছে।’

এদিন আবু সাঈদকে রংপুরের পীরগঞ্জে নিজ গ্রামে দাফন করা হয়। সকাল সোয়া ৯টায় জাফরপাড়া কামিল মাদ্রাসা মাঠে জানাজা ও সোয়া ১০টায় দাফন সম্পন্ন হয়।

একই দিন বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশ সেখানে বাধা দিলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না করে হামলা চালিয়ে মানুষ হত্যা করেছে।

চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে গায়েবানা জানাজায় হাজারো মানুষ অংশ নেয়। সারা দেশে ১০টিরও বেশি স্থানে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে অংশ নেয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

১৭ জুলাইয়ে গায়েবানা জানাজায় পুলিশের বাধা, ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা

আপডেট সময় : ১১:৩৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫

 

২০২৪ সালের ১৭ জুলাই (বুধবার) কোটা সংস্কার আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ হয় গায়েবানা জানাজা, সংঘর্ষ, বিক্ষোভ, রেল ও সড়ক অবরোধ, ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা এবং পুলিশের দমনপীড়নের মধ্য দিয়ে। পবিত্র আশুরার ছুটির দিনেও সারাদেশ উত্তাল হয়ে ওঠে আন্দোলনকারীদের প্রতিবাদে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ওঠে আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র। ভোর থেকে ছাত্রলীগ কর্মীদের ক্যাম্পাস থেকে তাড়িয়ে দিয়ে রাজনীতিমুক্ত ঘোষণা করে আন্দোলনকারীরা। ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হল বন্ধ ঘোষণা করে, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে নির্দেশ দেয়। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে।

পূর্বের দিন রংপুর, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলায় নিহত আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরামসহ অন্তত ছয়জনের মাগফিরাত কামনায় এদিন ঢাবি রাজু ভাস্কর্যে গায়েবানা জানাজার আয়োজন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। জানাজা শুরু হওয়ার আগেই পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বিকেল ৪টায় উপাচার্যের বাসভবনের সামনে জানাজা আদায় করা হয়। জানাজা শেষে শিক্ষার্থীরা কফিন বহন করে শপথ নেন এবং ঘোষণা দেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

পরে আন্দোলনকারীরা টিএসসি অভিমুখে গেলে পুলিশ বাধা দেয় এবং কয়েক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। আন্দোলনকারীরা সেখানেই অবস্থান নেয়। আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম জানান, পুলিশ ক্যাম্পাসের প্রতিটি প্রবেশ পথে বাধা দিয়েছে এবং হলের ভেতরে টিয়ার গ্যাস ও গুলি ছুড়ে শিক্ষার্থীদের তাড়িয়ে দিয়েছে।

দিনজুড়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গায়েবানা জানাজায় বাধা, হামলা ও দমন-পীড়নের ঘটনা ঘটে। ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অনেক জায়গায় শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে বাধা দেয়।

হানিফ উড়ালসড়কের কাজলা টোলপ্লাজায় আগুন দেওয়া হয়, শনিরআখড়া থেকে কাজলা পর্যন্ত ২০টিরও বেশি স্থানে আগুন জ্বলে।

আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সন্ধ্যার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ টিএসসিতে গিয়ে বলেন, পুলিশ হল খালি করার অনুমতি পেয়েছে, সময়মতো না ছাড়লে ছাড় দেওয়া হবে না।

এর আগে ১৬ জুলাই রাতে ছাত্রলীগের হামলার জবাবে আন্দোলনকারীরা ঢাবির ১৪টি আবাসিক হলে ঢুকে ছাত্রলীগ নেতাদের কক্ষ ভাঙচুর করে এবং ‘ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ’ মর্মে অঙ্গীকারনামায় প্রাধ্যক্ষদের স্বাক্ষর আদায় করে।

১৭ জুলাই বিকেলে আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা দেন, ১৮ জুলাই বৃহস্পতিবার সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ পালন করা হবে। এদিন হাসপাতাল ও জরুরি সেবা ছাড়া সবকিছু বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে আন্দোলনকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে ছাত্রসমাজ ন্যায়বিচার পাবে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক আন্দোলনকে স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতে চলে যাওয়া দাবি করে ‘বসে থাকার সময় নেই’ মন্তব্য করেন। ওবায়দুল কাদের দলীয় নেতাকর্মীদের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রস্তুতি নিতে বলেন, ‘আমাদের অস্তিত্বের ওপর হামলা এসেছে।’

এদিন আবু সাঈদকে রংপুরের পীরগঞ্জে নিজ গ্রামে দাফন করা হয়। সকাল সোয়া ৯টায় জাফরপাড়া কামিল মাদ্রাসা মাঠে জানাজা ও সোয়া ১০টায় দাফন সম্পন্ন হয়।

একই দিন বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশ সেখানে বাধা দিলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না করে হামলা চালিয়ে মানুষ হত্যা করেছে।

চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে গায়েবানা জানাজায় হাজারো মানুষ অংশ নেয়। সারা দেশে ১০টিরও বেশি স্থানে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে অংশ নেয়।