ফুলবাড়িয়ায় সাংবাদিক তুহিনের বাড়িতে বাবা-মায়ের হৃদয়বিদারক আহাজারি
- আপডেট সময় : ০৬:৪৬:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অগাস্ট ২০২৫ ১০৭ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুর নগরের ব্যস্ততম এলাকা চান্দনা চৌরাস্তা মোড়ে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের (৩৮) মৃত্যুতে তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামে চলছে শোকের মাতম। এই নির্মম ঘটনার পর থেকে গোটা এলাকায় নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া।

তুহিনের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তার বৃদ্ধা মা বকুল বেগম। কখনো কান্না করতে করতে জ্ঞান হারাচ্ছেন, আবার জ্ঞান ফিরে পেলেই আহাজারি করে বলছেন, “আমার ছেলে তুহিনরে এভাবে হত্যা করবে এটা ভাবতেও পারছি না। কী দোষ ছিল আমার ছেলের? এই জীবনে আর তুহিনরে আমি আর দেখতে পারবো না।”
নিহতের পিতা হাসান জামাল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “১৫ বছর আগে এক ছেলের লাশ কাঁধে করে কবর দিয়েছি। এবার আরেক ছেলের লাশ কাঁধে তুলতে হলো। এর চেয়ে দুর্ভাগা পিতা আর কে আছে? যারা আমার ছেলেকে খুন করেছে, তাদের বিচার দেখে যেতে চাই।”
তুহিনের চাচাতো ভাই নাসির উদ্দিন জানান, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে রাত থেকেই এলাকার মানুষ ভাটিপাড়া গ্রামের বাড়িতে ছুটে আসছেন। তিনি বলেন, “তুহিন ছোটবেলা থেকে খুব শান্ত ছিল। এসএসসি পাস করে গাজীপুরে চলে যায়। এলাকায় সবার প্রিয় ছিল সে। তার মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না কেউ। দ্রুতই হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি করছি।”
তুহিনের এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ময়মনসিংহের সাংবাদিক সমাজেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাবেক ট্রেজারার ও দৈনিক কালের কণ্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদক নিয়ামুল কবীর সজল বলেন, “তুহিনকে যেভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তা একেবারেই বর্বরোচিত। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং দ্রুত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।”
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে গাজীপুর শহরের চান্দনা চৌরাস্তা মোড়ে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তিনি দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের গাজীপুর প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নিহত তুহিন পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে ছিলেন সবার ছোট।













