জুলাই শহীদদের স্মরণে কিশোরগঞ্জে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর গণ-কোরআন খতম
- আপডেট সময় : ১১:২০:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫ ৯৮ বার পড়া হয়েছে

২০২৪ সালের জুলাই মাসে ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে কিশোরগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী এক ধর্মীয় আয়োজন—তিন শতাধিক স্কুল শিক্ষার্থীর গণ-কোরআন খতম।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিকেলে শহরের ঐতিহাসিক শহীদি মসজিদ চত্বরে এই আয়োজন সম্পন্ন হয়। এতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। কর্মসূচিটি আয়োজন করে আফতার স্কুল মক্তব বাংলাদেশ, সহযোগিতায় ছিল তরুণ আলেম প্রজন্ম, কিশোরগঞ্জ।
দারুল আরকাম ইনস্টিটিউটের কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের একাধিক শাখা থেকে আগত শিক্ষার্থীরা ঘণ্টাব্যাপী ইবাদতের মাধ্যমে একযোগে ১০টি কোরআন খতম করেন। পরে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় করা হয় বিশেষ মোনাজাত।
অনুষ্ঠান শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জামিয়া ইমদাদিয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা শিব্বীর আহমদ রশীদ, কবি ও লেখক মাওলানা সাইফ সিরাজ, দারুল আরকাম ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, নায়েবে মুহতামিম মুফতি আব্দুল্লাহ সাদেক, সহকারী পরিচালক মাওলানা আকরাম খন্দকার ও শিক্ষক মাওলানা এ কে এম নাজিম উদ্দিন।
বক্তারা বলেন, নতুন প্রজন্মের মাঝে ইতিহাস সচেতনতা ও আত্মত্যাগের মর্যাদা জাগিয়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে কোরআন খতম কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি ইতিহাস চেতনার বীজ বপনের এক কার্যকর পন্থা।
তারা আরও বলেন, শহীদদের স্মরণে কোরআন খতম ও দোয়া তাদের আমলনামায় যুক্ত হবে ইনশাআল্লাহ। এ উদ্যোগ সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।
আয়োজনের শেষ মুহূর্তে মাওলানা শিব্বীর আহমদ রশীদের আবেগঘন মোনাজাতে উপস্থিত সবাই শহীদদের জন্য দোয়া করেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই ধর্মীয় কর্মসূচি কিশোরগঞ্জের ধর্মপ্রাণ ও সচেতন মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোতে এ ধরনের উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।













