দানের টাকায় স্কুলে পড়া রিয়াদ চাঁদাবাজ হয়ে ওঠায় হতবাক নবীপুরবাসী
- আপডেট সময় : ০৩:৪৩:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫ ৯২ বার পড়া হয়েছে

চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আবদুর রাজ্জাক রিয়াদকে ঘিরে বিস্ময় ও ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তার গ্রামের মানুষ। নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নবীপুর গ্রামে দানের টাকায় যিনি এক সময় স্কুলে পড়তেন, সেই রিয়াদের নামে রাজধানীতে চাঁদা দাবির মামলার খবর শুনে হতবাক এলাকাবাসী।
সোমবার (২৮ জুলাই) দুপুরে নবীপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, রিয়াদের বাড়িতে একটি পাকা ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রায় আড়াই মাস আগে শুরু হওয়া কাজের ছাদ ঢালাই দেওয়া হয়েছে গত সপ্তাহে। এলাকার মানুষ বলছেন, এক বছর আগেও যেখানে রিকশাচালক বাবার সংসারে সাদামাটা জীবনযাপন করতেন রিয়াদ, সেখানে হঠাৎ পরিবর্তন নজরে আসে ৫ আগস্টের পর থেকে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জুনায়েদ হোসেন বলেন, “রিয়াদ এমনিতে ভদ্র ছেলে ছিল। কিন্তু সমন্বয়ক হওয়ার পর থেকে তার মধ্যে পরিবর্তন এসেছে। বছর না ঘুরতেই বাড়িতে পাকা ভবন করছে। চাঁদাবাজির ঘটনায় গ্রেফতার হওয়ার পর এলাকায় এখন তাকে নিয়ে প্রচুর আলোচনা।”
প্রতিবেশী সোলায়মান জানান, “রিয়াদ এখন কোটি টাকার মালিক। দামি বাইক চালায়, বাড়িতে পাকা ভবন করছে। এসব নিয়েই মানুষের মুখে মুখে কথা।”
গ্রামের আরও অনেকেই বলেছেন, আগে রিয়াদের পরিবার সরকারি সাহায্য বা দান খয়রাতেই চলত। মা রেজিয়া বেগম ও বাবা আবু রায়হান বলেছেন, তারা অনুদান, ব্র্যাক থেকে ঋণ ও ছেলের টিউশনি করা টাকায় এই ভবন নির্মাণ করছেন। তবে তারা কোনো ঋণের কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
রিয়াদের পুরোনো শিক্ষক শিহাব উদ্দিন বলেন, “সে আমাদের স্কুলের গর্ব ছিল। মানুষ দান করে ওকে পড়াশোনা করিয়েছে। সে চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেফতার—এটা খুবই বেদনাদায়ক।”
স্থানীয় একজন প্রকৌশলী জানান, রিয়াদের বাড়ির আয়তন আনুমানিক এক হাজার বর্গফুট। এই পরিমাণ নির্মাণকাজে প্রায় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা খরচ হওয়ার কথা। পুরো ভবনের নির্মাণে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে।
রিয়াদের সহপাঠী কোরবান আলী হৃদয় বলেন, “সে ঢাকায় গিয়ে রাজনীতি করত শুনেছি। পরে সমন্বয়ক হয়। এখন গ্রেফতার হওয়ার পর অনেকেই হতাশ।”
গত শনিবার (২৬ জুলাই) গুলশানে সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদা দাবি করার অভিযোগে রিয়াদসহ চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় গুলশান থানায় মামলা হলে আদালত রিয়াদসহ চারজনকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠান।
রিয়াদের ফেসবুক ঘেঁটে দেখা যায়, তিনি রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে তা প্রকাশ করতেন। অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টার সঙ্গেও ছবিতে দেখা গেছে তাকে।
এলাকাবাসীর বক্তব্য, “যে ছেলেকে এক সময় দান খয়রাতে মানুষ পড়িয়েছে, আজ তার নাম চাঁদাবাজির মামলায়—এটা খুবই লজ্জাজনক।”














