সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

ফ্যাসিস্টের গুলিতে চোখ হারানো ১১ তরুণ পেলেন ওমরাহর টিকিট, যাচ্ছেন অভিভাবকসহ

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৪৭:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫ ৮৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

গত বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট বাহিনীর গুলিতে দুই চোখ হারানো ১১ তরুণ এবার ওমরাহ পালন করতে যাচ্ছেন সৌদি আরবে। একটি বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিজন তরুণের সঙ্গে একজন করে অভিভাবক—মোট ২২ জন—পবিত্র ওমরাহ পালনের সুযোগ পেয়েছেন।

শনিবার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত ‘জুলাই পুনর্জাগরণ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তাদের হাতে বিমানের টিকিট ও আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়। প্রতিজন পেলেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের টিকিট এবং স্কাই ক্যাপিটাল এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহান, অতিরিক্ত সচিব আব্দুন নাসের খান, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. খায়ের আহমেদ চৌধুরী এবং চক্ষু হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা সমন্বয়ক ডা. যাকিয়া সুলতানা নীলা।

চোখ হারানো ১১ জন তরুণ হলেন—মোজাম্মেল হক, তৌহিদ উদ্দিন ভূঞা, মো. বেল্লাল হোসেন, রাকিবুল ইসলাম, দুর্জয় আহম্মেদ, ওমর ফারুক, সাব্বির আহমেদ, আমজাদ হোসেন, হিমেল, নিলু পারভীন ও মিজানুর রহমান বাদল। তারা কেউই একা চলাফেরা করতে পারেন না; প্রতিদিনের জীবনে নির্ভর করতে হয় পরিবারের সদস্য বা সহকর্মীদের ওপর। এ কারণে প্রতিজনের সঙ্গে একজন করে অ্যাটেন্ডেন্ট পাঠানো হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, “এই তরুণরা শুধু দৃষ্টিশক্তি হারাননি, হারিয়েছেন স্বাভাবিক জীবনের স্বাধীনতা। কিন্তু হারাননি আত্মমর্যাদা।” তাদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতেই এই আধ্যাত্মিক সফরের আয়োজন করা হয়েছে।

আয়োজকরা জানান, এই উদ্যোগ কেবল একটি ভ্রমণ নয়—এটি সমাজের নৈতিক দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। ভবিষ্যতেও যেন এই তরুণদের পাশে থাকার অঙ্গীকার জানান তারা।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

ফ্যাসিস্টের গুলিতে চোখ হারানো ১১ তরুণ পেলেন ওমরাহর টিকিট, যাচ্ছেন অভিভাবকসহ

আপডেট সময় : ০২:৪৭:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫

 

গত বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট বাহিনীর গুলিতে দুই চোখ হারানো ১১ তরুণ এবার ওমরাহ পালন করতে যাচ্ছেন সৌদি আরবে। একটি বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিজন তরুণের সঙ্গে একজন করে অভিভাবক—মোট ২২ জন—পবিত্র ওমরাহ পালনের সুযোগ পেয়েছেন।

শনিবার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত ‘জুলাই পুনর্জাগরণ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তাদের হাতে বিমানের টিকিট ও আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়। প্রতিজন পেলেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের টিকিট এবং স্কাই ক্যাপিটাল এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহান, অতিরিক্ত সচিব আব্দুন নাসের খান, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. খায়ের আহমেদ চৌধুরী এবং চক্ষু হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা সমন্বয়ক ডা. যাকিয়া সুলতানা নীলা।

চোখ হারানো ১১ জন তরুণ হলেন—মোজাম্মেল হক, তৌহিদ উদ্দিন ভূঞা, মো. বেল্লাল হোসেন, রাকিবুল ইসলাম, দুর্জয় আহম্মেদ, ওমর ফারুক, সাব্বির আহমেদ, আমজাদ হোসেন, হিমেল, নিলু পারভীন ও মিজানুর রহমান বাদল। তারা কেউই একা চলাফেরা করতে পারেন না; প্রতিদিনের জীবনে নির্ভর করতে হয় পরিবারের সদস্য বা সহকর্মীদের ওপর। এ কারণে প্রতিজনের সঙ্গে একজন করে অ্যাটেন্ডেন্ট পাঠানো হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, “এই তরুণরা শুধু দৃষ্টিশক্তি হারাননি, হারিয়েছেন স্বাভাবিক জীবনের স্বাধীনতা। কিন্তু হারাননি আত্মমর্যাদা।” তাদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতেই এই আধ্যাত্মিক সফরের আয়োজন করা হয়েছে।

আয়োজকরা জানান, এই উদ্যোগ কেবল একটি ভ্রমণ নয়—এটি সমাজের নৈতিক দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। ভবিষ্যতেও যেন এই তরুণদের পাশে থাকার অঙ্গীকার জানান তারা।