সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

রুয়া নির্বাচন: বিএনপিপন্থীদের বর্জন, জামায়াতপন্থী ২৭ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:০৭:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫ ১০০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (রুয়া) নির্বাচনের আয়োজন হলেও তা বর্জন করেছেন বিএনপিপন্থী অ্যালামনাই সদস্যরা। শনিবার (২০ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তবে ভোট শুরুর আগেই ৫১টি পদের মধ্যে ২৭টিতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় প্রার্থীদের বিনা ভোটে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এসব পদে নির্বাচিতদের অধিকাংশই জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের মধ্যে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ ও সংরক্ষিত নারী আসনের প্রতিনিধি সহ গুরুত্বপূর্ণ পদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন।

সন্ধ্যায় ঘোষিত বাকি ২৪টি পদের ফলাফলে দেখা যায়, ২৩টিতেই জামায়াতপন্থী প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

নির্বাচিতদের মধ্যে সহসভাপতি হয়েছেন মো. কেরামত আলী ও মো. মতিউর রহমান আকন্দ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল আহসান ও দেলাওয়ার হোসেন। তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হয়েছেন মো. শামসুজ্জোহা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ড. মো. হারুন-অর-রশিদ, ক্রীড়া সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক, যুগ্ম আইন সম্পাদক মো. মিল্টন হোসেন এবং কল্যাণ ও উন্নয়ন সম্পাদক শাহ্ হোসাইন আহমদ মেহদী।

নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন মো. আশফাকুর রহমান, আবু তালেব, আব্দুল বাছেদ, আবদুল খালেক, এম উমার আলী, আ স ম খায়েরুজ্জামান, গোলাম রছুল, নূরুল ইসলাম, মো. মহিউদ্দীন, মাহবুবুল আহসান, মো. রফিকুল ইসলাম, রেজাউল করিম, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, মোহা. লতিফুর রহমান ও শফিকুল ইসলাম।

অন্যদিকে বিএনপিপন্থী অ্যালামনাই সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, রুয়ার গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। তাদের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত করা হলেও প্রতিষ্ঠাকালীন অনেক সদস্যকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

রাবি ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপিপন্থী অ্যালামনাই আসলাম রেজা বলেন, “রুয়া একটি অরাজনৈতিক সংগঠন হলেও এটিকে রাজনৈতিক মোড়কে নির্বাচন বানচাল করা হয়েছে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের ছায়ায় পরিচালিত এই নির্বাচন একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য সাজানো।”

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে রাবি উপাচার্য ও রুয়া নির্বাচন কমিশনের সভাপতি সালেহ হাসান নকীব বলেন, “দীর্ঘদিন পর একটি কার্যকর রুয়া গঠনের পথে আমরা এগোচ্ছি। নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবিধান লঙ্ঘনের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।”

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে অ্যালামনাইদের সেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে রুয়া গঠিত হলেও এবারই প্রথম পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। বর্তমানে রুয়ার জীবন সদস্য সংখ্যা ৮ হাজার ২৭৫ জন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

রুয়া নির্বাচন: বিএনপিপন্থীদের বর্জন, জামায়াতপন্থী ২৭ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত

আপডেট সময় : ১২:০৭:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫

 

প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (রুয়া) নির্বাচনের আয়োজন হলেও তা বর্জন করেছেন বিএনপিপন্থী অ্যালামনাই সদস্যরা। শনিবার (২০ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তবে ভোট শুরুর আগেই ৫১টি পদের মধ্যে ২৭টিতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় প্রার্থীদের বিনা ভোটে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এসব পদে নির্বাচিতদের অধিকাংশই জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের মধ্যে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ ও সংরক্ষিত নারী আসনের প্রতিনিধি সহ গুরুত্বপূর্ণ পদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন।

সন্ধ্যায় ঘোষিত বাকি ২৪টি পদের ফলাফলে দেখা যায়, ২৩টিতেই জামায়াতপন্থী প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

নির্বাচিতদের মধ্যে সহসভাপতি হয়েছেন মো. কেরামত আলী ও মো. মতিউর রহমান আকন্দ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল আহসান ও দেলাওয়ার হোসেন। তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হয়েছেন মো. শামসুজ্জোহা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ড. মো. হারুন-অর-রশিদ, ক্রীড়া সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক, যুগ্ম আইন সম্পাদক মো. মিল্টন হোসেন এবং কল্যাণ ও উন্নয়ন সম্পাদক শাহ্ হোসাইন আহমদ মেহদী।

নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন মো. আশফাকুর রহমান, আবু তালেব, আব্দুল বাছেদ, আবদুল খালেক, এম উমার আলী, আ স ম খায়েরুজ্জামান, গোলাম রছুল, নূরুল ইসলাম, মো. মহিউদ্দীন, মাহবুবুল আহসান, মো. রফিকুল ইসলাম, রেজাউল করিম, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, মোহা. লতিফুর রহমান ও শফিকুল ইসলাম।

অন্যদিকে বিএনপিপন্থী অ্যালামনাই সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, রুয়ার গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। তাদের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত করা হলেও প্রতিষ্ঠাকালীন অনেক সদস্যকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

রাবি ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপিপন্থী অ্যালামনাই আসলাম রেজা বলেন, “রুয়া একটি অরাজনৈতিক সংগঠন হলেও এটিকে রাজনৈতিক মোড়কে নির্বাচন বানচাল করা হয়েছে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের ছায়ায় পরিচালিত এই নির্বাচন একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য সাজানো।”

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে রাবি উপাচার্য ও রুয়া নির্বাচন কমিশনের সভাপতি সালেহ হাসান নকীব বলেন, “দীর্ঘদিন পর একটি কার্যকর রুয়া গঠনের পথে আমরা এগোচ্ছি। নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবিধান লঙ্ঘনের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।”

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে অ্যালামনাইদের সেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে রুয়া গঠিত হলেও এবারই প্রথম পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। বর্তমানে রুয়ার জীবন সদস্য সংখ্যা ৮ হাজার ২৭৫ জন।