দোকানে তালা, গলায় চাঁদার দড়ি—নাটোরে জামায়াত-বিএনপি কর্মীদের তাণ্ডব
- আপডেট সময় : ১২:১৬:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫ ১৫৬ বার পড়া হয়েছে

দোনাটোরের বড়াইগ্রামে চাঁদা না পেয়ে ১০টি দোকানে তালা লাগানোর অভিযোগে জামায়াত নেতা ও বিএনপির কর্মীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার আহম্মেদপুর বাজারে এই ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—জামায়াতে ইসলামী জোয়াড়ী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি ও আহম্মেদপুর এলাকার বাসিন্দা রুহুল আমিন (৪৫), তাঁর ভাই জামায়াত কর্মী আজিমুদ্দিন (৪০), বিএনপি কর্মী হায়দার আলী (৪৮) ও তাঁর বাবা মুজিবর রহমান (৭০)।
জাহাঙ্গীর আলম নামের এক দোকানি বাদী হয়ে বড়াইগ্রাম থানায় ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেন। তিনি এবং নওপাড়া গ্রামের কোরবান আলী, শাহ আলম হোসেন ও মোতালেব হোসেন দাবি করেন, জমির মালিক তারা এবং সেখানে তাঁদের ১০টি দোকান রয়েছে।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘অনেক দিন ধরে বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করছিল রুহুল আমিন ও তাঁর ভাইয়েরা। চাঁদা না দিলে তাঁরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের মারধর করেন এবং তালা দিয়ে দোকান বন্ধ করে দেন। শেষে আমরা বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে রক্ষা পাই।’
কোরবান আলী বলেন, ‘বিকেলে সেনাবাহিনী ও বড়াইগ্রাম থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে এবং তালা খুলে ব্যবসার ব্যবস্থা করে দেন।’
তবে গ্রেপ্তারের আগে রুহুল আমিন দাবি করেন, ‘ওই জমি আমাদের, দোকানিরা দখল করে আছে। তবে এভাবে তালা দেওয়া আমাদের ঠিক হয়নি।’
বিএনপি কর্মী হায়দার আলী বলেন, ‘জমি নিয়ে বিরোধ মীমাংসায় ব্যর্থ হয়ে আমরা দখল করেছি, তবে সেটি ঠিক হয়নি।’
জোয়াড়ী ইউনিয়ন জামায়াতের সমাজকল্যাণ সম্পাদক আব্দুল মালেক বলেন, ‘রুহুল আমিন ও তাঁর ভাই জামায়াতের দায়িত্বে আছেন। তাঁদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক গোলাম সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘চাঁদা না দেওয়ায় ১০টি দোকানে তালা দেওয়ার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আসামিদের মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হবে।’












