ফেনীতে এবারের বন্যায় ক্ষতি ২৩৮ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে
- আপডেট সময় : ১১:১৭:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫ ৭৪ বার পড়া হয়েছে

টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে ফের প্লাবিত হয়েছে ফেনীর বিস্তীর্ণ জনপদ। জেলার পাঁচটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী এলাকাগুলো বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। গত ৮ জুলাই শুরু হওয়া বন্যায় বাঁধ ভাঙনের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষি, অবকাঠামো ও জনসম্পদ খাতে। জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এবারের বন্যায় মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩৮ কোটি ৪০ লাখ ৪৬ হাজার ৪৩১ টাকা।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বন্যায় কৃষিখাতে ২ হাজার ৭২৫ দশমিক ৬ হেক্টর জমির ফসল ও বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে, যার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭৫ কোটি টাকা। মৎস্য খাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪৪০ হেক্টর হ্যাচারি এবং ১ হাজার ৬৭৭টি পুকুর ও জলাশয়—ক্ষতির পরিমাণ ৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।
প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, বন্যায় ৬৬ হাজার ৮২৫টি প্রাণী ভেসে গেছে বা মারা গেছে, যার মধ্যে রয়েছে গরু, ছাগল, ভেড়া ও বিপুল সংখ্যক হাঁস-মুরগি। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১ কোটি ৩২ লাখ টাকার বেশি।
বন্যায় জেলার ৩১৯ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এলজিইডি ও সড়ক বিভাগ জানিয়েছে, অন্তত ৬১টি ব্রিজ-কালভার্টসহ অন্যান্য স্থাপনার ক্ষতি হয়েছে ৮২ কোটি ৩০ লাখ টাকার বেশি। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ভেঙেছে অন্তত ৪৩ কিলোমিটার বাঁধ—ক্ষতি ৫৩ কোটি টাকারও বেশি।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতেও ক্ষয়ক্ষতি কম নয়। জেলার ৫১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ১৪টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিক্ষা খাতে ক্ষতি হয়েছে ৩৬ লাখ এবং স্বাস্থ্যখাতে ১৭ লাখ টাকা।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর জানিয়েছে, ৩ হাজারের বেশি নলকূপ ও ২ হাজার ৭৪০টি টয়লেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৪ কোটি টাকা। বন বিভাগ জানিয়েছে, ৩৯ হেক্টরের বেশি বনায়ন ও ৮ হাজার নার্সারি ধ্বংস হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, ৭৫ কিলোমিটার বৈদ্যুতিক লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ক্ষতি ৪৪ লাখ টাকা।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রতিবছর একই দুর্ভোগে পড়লেও স্থায়ী ও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে অবস্থার কোনো উন্নতি হচ্ছে না। ফুলগাজীর মুন্সিরহাটের বাসিন্দা আলী আহম্মদ বলেন, “পুকুর-ঘর সব কিছু চলে গেছে। স্থায়ী বাঁধ না হলে এ দুর্ভোগ থামবে না।”
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মাহবুব আলম জানান, “ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ তালিকা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ঘরবাড়ি পুনর্গঠনের জন্য বরাদ্দ এলে কাজ শুরু হবে। আংশিক ক্ষয়ক্ষতির ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “গত বছরের বন্যা ও এবারকার অভিজ্ঞতা বলছে, জেলায় আরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র দরকার। ফেনী এখন স্পষ্টতই একটি বন্যাপ্রবণ এলাকা।”
এর আগে গেল বছর জুলাই-আগস্টে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ফেনী জেলায় ২৯ জনের প্রাণহানি ঘটে। সেবারও শত কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতির হিসাব উঠে এসেছিল প্রশাসনের প্রতিবেদনে। এবার সেই চিত্র আরও ভয়াবহ রূপে ফিরে এসেছে।














