সোহাগ হত্যা মামলায় তিন আসামির দায় স্বীকার টিটন, আলমগীর ও লম্বা মনিরের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি
- আপডেট সময় : ১২:৪৭:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫ ১১৬ বার পড়া হয়েছে

পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে ভাঙারি ব্যবসায়ী মো. সোহাগ (৩৯) হত্যাকাণ্ডে দায় স্বীকার করেছেন তিন আসামি। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাঁরা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
দায় স্বীকারকারী আসামিরা হলেন—টিটন গাজী, মো. আলমগীর ও মনির ওরফে লম্বা মনির।
ঢাকা মহানগর হাকিম মো. মনিরুল ইসলাম, মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম ও আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ তাঁদের স্বীকারোক্তি রেকর্ড করেন। এরপর আদালত তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
জানা গেছে, দুপুরে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ তিন আসামিকে আদালতে হাজির করে এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মনিরুজ্জামান জবানবন্দি লিপিবদ্ধের আবেদন করেন। আদালত তিন ম্যাজিস্ট্রেটের খাসকামরায় পৃথকভাবে জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
৯ জুলাই সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর ফটকের সামনে সোহাগকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
১১ জুলাই সোহাগ হত্যা মামলায় টিটন গাজীকে ৫ দিনের এবং ১২ জুলাই আলমগীর ও লম্বা মনিরকে ৪ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ড শেষে তাঁরা আজ হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেন।
নিহতের বোন মঞ্জুয়ারা বেগম কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, সোহাগ দীর্ঘদিন ধরে পুরান ঢাকায় ভাঙারির ব্যবসা করতেন। আধিপত্য বিস্তার ও ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে আসামিরা তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তাঁরা একপর্যায়ে সোহাগের গুদাম তালাবদ্ধ করে এবং এলাকা ছাড়ার হুমকি দেয়।
ঘটনার দিন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সোহাগের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে বের করে মারধর করতে করতে হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সিমেন্টের ব্লক, রড, লাঠি ও ইট দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে তাঁর নিথর দেহ রাস্তায় ফেলে রেখে যায়।
এ ঘটনায় সোহাগের পরিবারের পক্ষ থেকে ১৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।















