সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

ছোট্ট তাছিনের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

তোফায়েল আলম ভূঁইয়া, দুর্গাপুর উপজেলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০১:২১:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫ ৮৫ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দুই হাত-পা বেঁধে রেখেই লালন করতে হয় শিশু তাছিনকে। মাত্র আট বছর বয়সেই কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে ধীরে ধীরে মৃত্যুপথযাত্রী হয়ে পড়ছে সে। মানসিক ভারসাম্যহীনতায় আক্রান্ত তাছিন প্রায়ই নিজের শরীরে নিজেই আঘাত করে তার কোমল দেহ ক্ষতবিক্ষত করে ফেলে। অসহায় বাবা-মা বাধ্য হয়ে তার দুই হাত-পা বেঁধে রাখেন, যাতে সে নিজেকে আঘাত না করে।

তাছিনের বয়স যখন মাত্র দুই বছর, তখন থেকেই অস্বাভাবিক আচরণ শুরু হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই আচরণের মাত্রাও বেড়ে যায়। পারিবারিক দরিদ্রতার কারণে এখন আর চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারছেন না তাছিনের বাবা-মা। ফলে রোগটি চরম আকার ধারণ করেছে। দিনরাত বেঁধে রাখতে হচ্ছে শিশুটিকে।

তাছিনের বাবা নেত্রকোণার দুর্গাপুর পৌরশহরের দশাল এলাকার রিকশাচালক সুজন মিয়া ও মা গার্মেন্টস কর্মী তাসলিমা বেগম। একমাত্র সন্তান আবু তাছিনের এই অসহায় অবস্থা দেখে তারা ভেঙে পড়েছেন। টাকার অভাবে সন্তানের চিকিৎসা করাতে না পেরে ছেলের সুস্থতার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন তারা।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে রোগটি তাছিনের শরীরে গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে। তবে নিয়মিত উন্নত চিকিৎসা ও সেবাযত্নের মাধ্যমে সে ধীরে ধীরে সুস্থ হতে পারে।

ইতোমধ্যে তাছিনকে বেঁধে রাখার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি নজরে আসে বিএনপির কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামালের। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে তাছিনের খোঁজখবর নেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকালে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে শিশুটির সম্পূর্ণ চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “একটি শিশু কখনোই শৃঙ্খলিত জীবনে বেঁচে থাকতে পারে না। তাছিন যেন সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে—তার সমস্ত চিকিৎসার দায়িত্ব আমি নিচ্ছি।”

এই মানবিক উদ্যোগে স্থানীয় জনগণ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সকলের প্রত্যাশা—এই সহায়তা তাছিনের জীবনে নতুন আলো এনে দিক, যেন অন্যান্য শিশুর মতো সেও মায়ের কোলে ফিরে আসতে পারে।

islamicbdnews.com/SUT

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

ছোট্ট তাছিনের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

আপডেট সময় : ০১:২১:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

দুই হাত-পা বেঁধে রেখেই লালন করতে হয় শিশু তাছিনকে। মাত্র আট বছর বয়সেই কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে ধীরে ধীরে মৃত্যুপথযাত্রী হয়ে পড়ছে সে। মানসিক ভারসাম্যহীনতায় আক্রান্ত তাছিন প্রায়ই নিজের শরীরে নিজেই আঘাত করে তার কোমল দেহ ক্ষতবিক্ষত করে ফেলে। অসহায় বাবা-মা বাধ্য হয়ে তার দুই হাত-পা বেঁধে রাখেন, যাতে সে নিজেকে আঘাত না করে।

তাছিনের বয়স যখন মাত্র দুই বছর, তখন থেকেই অস্বাভাবিক আচরণ শুরু হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই আচরণের মাত্রাও বেড়ে যায়। পারিবারিক দরিদ্রতার কারণে এখন আর চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারছেন না তাছিনের বাবা-মা। ফলে রোগটি চরম আকার ধারণ করেছে। দিনরাত বেঁধে রাখতে হচ্ছে শিশুটিকে।

তাছিনের বাবা নেত্রকোণার দুর্গাপুর পৌরশহরের দশাল এলাকার রিকশাচালক সুজন মিয়া ও মা গার্মেন্টস কর্মী তাসলিমা বেগম। একমাত্র সন্তান আবু তাছিনের এই অসহায় অবস্থা দেখে তারা ভেঙে পড়েছেন। টাকার অভাবে সন্তানের চিকিৎসা করাতে না পেরে ছেলের সুস্থতার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন তারা।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে রোগটি তাছিনের শরীরে গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে। তবে নিয়মিত উন্নত চিকিৎসা ও সেবাযত্নের মাধ্যমে সে ধীরে ধীরে সুস্থ হতে পারে।

ইতোমধ্যে তাছিনকে বেঁধে রাখার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি নজরে আসে বিএনপির কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামালের। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে তাছিনের খোঁজখবর নেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকালে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে শিশুটির সম্পূর্ণ চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “একটি শিশু কখনোই শৃঙ্খলিত জীবনে বেঁচে থাকতে পারে না। তাছিন যেন সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে—তার সমস্ত চিকিৎসার দায়িত্ব আমি নিচ্ছি।”

এই মানবিক উদ্যোগে স্থানীয় জনগণ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সকলের প্রত্যাশা—এই সহায়তা তাছিনের জীবনে নতুন আলো এনে দিক, যেন অন্যান্য শিশুর মতো সেও মায়ের কোলে ফিরে আসতে পারে।

islamicbdnews.com/SUT