সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

হাফেজ হচ্ছে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষার্থীরাও

ইনসাইড ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় : ১০:২৩:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫ ১৭৩ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

উইটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষার্থী মুখে কোরআন তেলাওয়াত শুনলে সাধারণত মাদ্রাসা শিক্ষার্থী মনে হবে। কারণ সম্পূর্ণ ব্রিটিশ কারিকুলামে চলা এই ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের বাকি সব বিষয়ের পাশাপাশি বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে আরবি এবং ইসলামিক শিক্ষার ওপর।

পাঠ্যসূচির অংশ হিসেবে আরবি ভাষা ও ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে পাঠদান করা হয় ক্যামব্রিজ কারিকুলাম অনুসরণ করা এই প্রতিষ্ঠানটিতে। প্লে-গ্রুপ থেকে শুরু করে ও-লেভেল পর্যন্ত প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে কোরআন শিক্ষার প্রতি উৎসাহিত করা হয়ে থাকে।

ক্লাসের স্বাভাবিক পড়াশোনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোরআন হিফজের এই উদ্যোগ নেয়া হয়। কোরআন হিফজে আগ্রহীদের জন্য প্রতিদিন ভোরবেলা থেকেই রুটিন শুরু হয়। এজন্য প্রতিদিন ফজর নামাজের পর দুঘণ্টা সময় পান শিক্ষার্থীরা। এমনকি ক্লাসের পর আলাদাভাবেও কোরআন শিক্ষায় শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সময় দিয়ে থাকেন।

ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হওয়া স্বত্বেও এখানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের বিশেষ করে ও-লেভেলের শিক্ষার্থীদের বাসায় আলাদা টিচার কিংবা কোনোরকম কোচিং সেন্টারের প্রয়োজন যেন না হয় সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে থাকে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

ও লেভেল এবং এ লেভেল পরীক্ষায় নিয়মিত ভালো ফলাফল করে আসছে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। দিকে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান যেন ক্ষুণ্ন না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষকদেরকেও দেয়া হয় প্রশিক্ষণ।

এদিকে, নিজের সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিন্তে থাকেন অভিভাবকরা এবং স্কুল থেকে লেখাপড়ার পাশাপাশি নিয়মানুবর্তিতা এবং শৃঙ্খলাবোধ শিখছে বলে সন্তুষ্টিও প্রকাশ করেন তারা।

স্কুলের আরবি ও আল-কোরআন সমন্বয়ক মুফতি মাসুম বিল্লাহ বলেন, আমাদের এই প্রোগ্রামে ৪০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এখানে প্রশিক্ষিত শিক্ষক, করিকুলাম এবং সর্বোচ্চ মনিটরিংয়ের কারণে আশা করতে পারছি আমাদের অগ্রযাত্রা সুফল পাবে।

উইটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপাল পারভিন কাদের বলেন, আজকাল শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা যায়, কোচিংয়ে যাওয়ার টেন্ডেন্সি অনেক বেশি। আমরা শুরু থেকে সেই অভ্যাসটা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেই। ফলে তাদের সব ধরনের বিষয় আমাদের দেখতে হয়।’

স্কুলের অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ জামান বলেন, আরবি ভাষা এবং ইসলামিক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার মূল উদ্দেশ্য হল তারা যেন পবিত্র কোরআন শুদ্ধভাবে শিখতে পারেন। এমনকি তাদের এমনভাবে গড়ে তোলা হয় যেন মধ্যপ্রাচ্যসহ, ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ার সুযোগ সহজেই পেতে পারে।

২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করে সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে উইটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। রাজধানীর লালমাটিয়ায় অবস্থিত এই স্কুলের ৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থী পবিত্র কোরআনের হাফেজ হয়েছেন যাদের মধ্যে ৩০ জন মেয়ে শিক্ষার্থীও রয়েছেন। উইটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা এবং শারীরিক চর্চার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে।

এসইউটি/

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

হাফেজ হচ্ছে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষার্থীরাও

আপডেট সময় : ১০:২৩:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫

উইটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষার্থী মুখে কোরআন তেলাওয়াত শুনলে সাধারণত মাদ্রাসা শিক্ষার্থী মনে হবে। কারণ সম্পূর্ণ ব্রিটিশ কারিকুলামে চলা এই ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের বাকি সব বিষয়ের পাশাপাশি বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে আরবি এবং ইসলামিক শিক্ষার ওপর।

পাঠ্যসূচির অংশ হিসেবে আরবি ভাষা ও ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে পাঠদান করা হয় ক্যামব্রিজ কারিকুলাম অনুসরণ করা এই প্রতিষ্ঠানটিতে। প্লে-গ্রুপ থেকে শুরু করে ও-লেভেল পর্যন্ত প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে কোরআন শিক্ষার প্রতি উৎসাহিত করা হয়ে থাকে।

ক্লাসের স্বাভাবিক পড়াশোনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোরআন হিফজের এই উদ্যোগ নেয়া হয়। কোরআন হিফজে আগ্রহীদের জন্য প্রতিদিন ভোরবেলা থেকেই রুটিন শুরু হয়। এজন্য প্রতিদিন ফজর নামাজের পর দুঘণ্টা সময় পান শিক্ষার্থীরা। এমনকি ক্লাসের পর আলাদাভাবেও কোরআন শিক্ষায় শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সময় দিয়ে থাকেন।

ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হওয়া স্বত্বেও এখানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের বিশেষ করে ও-লেভেলের শিক্ষার্থীদের বাসায় আলাদা টিচার কিংবা কোনোরকম কোচিং সেন্টারের প্রয়োজন যেন না হয় সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে থাকে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

ও লেভেল এবং এ লেভেল পরীক্ষায় নিয়মিত ভালো ফলাফল করে আসছে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। দিকে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান যেন ক্ষুণ্ন না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষকদেরকেও দেয়া হয় প্রশিক্ষণ।

এদিকে, নিজের সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিন্তে থাকেন অভিভাবকরা এবং স্কুল থেকে লেখাপড়ার পাশাপাশি নিয়মানুবর্তিতা এবং শৃঙ্খলাবোধ শিখছে বলে সন্তুষ্টিও প্রকাশ করেন তারা।

স্কুলের আরবি ও আল-কোরআন সমন্বয়ক মুফতি মাসুম বিল্লাহ বলেন, আমাদের এই প্রোগ্রামে ৪০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এখানে প্রশিক্ষিত শিক্ষক, করিকুলাম এবং সর্বোচ্চ মনিটরিংয়ের কারণে আশা করতে পারছি আমাদের অগ্রযাত্রা সুফল পাবে।

উইটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপাল পারভিন কাদের বলেন, আজকাল শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা যায়, কোচিংয়ে যাওয়ার টেন্ডেন্সি অনেক বেশি। আমরা শুরু থেকে সেই অভ্যাসটা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেই। ফলে তাদের সব ধরনের বিষয় আমাদের দেখতে হয়।’

স্কুলের অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ জামান বলেন, আরবি ভাষা এবং ইসলামিক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার মূল উদ্দেশ্য হল তারা যেন পবিত্র কোরআন শুদ্ধভাবে শিখতে পারেন। এমনকি তাদের এমনভাবে গড়ে তোলা হয় যেন মধ্যপ্রাচ্যসহ, ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ার সুযোগ সহজেই পেতে পারে।

২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করে সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে উইটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। রাজধানীর লালমাটিয়ায় অবস্থিত এই স্কুলের ৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থী পবিত্র কোরআনের হাফেজ হয়েছেন যাদের মধ্যে ৩০ জন মেয়ে শিক্ষার্থীও রয়েছেন। উইটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা এবং শারীরিক চর্চার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে।

এসইউটি/