সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অনন্য আরবি ভাষা ডিপ্লোমা

মুহাম্মদ আম্মার হোসাইন
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৫:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৯৯ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আরবি ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে মারকাজ শেখ জায়েদ নিঃসন্দেহে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই মারকাজ বিশ্বমানের আরবি ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত। শূন্য স্তর থেকে অষ্টম স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত এ কোর্স বিদেশি ছাত্রদের জন্য এক অনন্য নিয়ামত। প্রত্যেক স্তরের পরিসর প্রায় পঁইতাল্লিশ থেকে পঞ্চাশ দিনের নিবিড় ও দিনব্যাপী অধ্যয়ন-অভ্যাসে সীমাবদ্ধ। পাঠ, লিখন, শ্রবণ, ব্যাকরণ ও বালাগাত—সবকিছুর সমন্বিত পাঠদান করেন বিদগ্ধ ডক্টরগণ, যাদের প্রত্যেকেই “আফসাহুল কালাম”-এর শিরোপায় ভূষিত।

এখানকার পরীক্ষা সহজ নয়; লিখিত ও মৌখিক উভয় পরীক্ষাই জটিল ও কঠোর। তবে নিয়মিত উপস্থিতি, অধ্যবসায় এবং নিরলস চেষ্টাই সফলতার দ্বার উন্মুক্ত করে। গৃহকর্ম সম্পাদন এবং নিয়মিততা এখানে কেবল শৃঙ্খলা নয়, বরং অপরিহার্য বিধান। প্রতিটি পাঠ্যেই শত শত সমার্থক শব্দের সমাহার ছাত্রদের ভাষাজ্ঞানকে এক অসামান্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। উচ্চ সাহিত্যচর্চার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ এই কোর্সকে করেছে অনন্য ও ব্যতিক্রমী। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে পুনরায় আমেরিকান ডলার বা মিশরীয় সমপরিমাণ পাউন্ড পরিশোধ করে স্তর সম্পূর্ণ করতে হয়।

শেষ স্তর—মুতামাইয়্যিজ (উচ্চতর স্তর)-এ শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর গবেষণামূলক থিসিস জমা দিতে হয়। ডক্টরগণ তা পর্যালোচনা করেন, প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে জ্ঞান যাচাই করেন এবং থিসিসের আলোকে ফলাফল নির্ধারণ করেন। শুধু তাই নয়, প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে তার রচনা শ্রেণিকক্ষে উপস্থাপন করতে হয় এবং তা নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা হয়।

প্রতিদিন চার ঘণ্টাব্যাপী গভীর ও সুবিন্যস্ত লেকচার, আর উস্তাদদের অমায়িক ব্যবহার—যেখানে রাগ বা কঠোরতার কোনো স্থান নেই—এই ডিপ্লোমাকে করেছে এক ভিন্নমাত্রার শিক্ষানভিজ্ঞতা।

মারকাজ শেখ জায়েদ আজ কেবল আরব বিশ্বেই নয়, বরং সমগ্র বিশ্বে সুনাম ও সুখ্যাতি অর্জন করেছে। তুরস্ক, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, কিরগিজস্তান, চীন, ইউরোপ ও আমেরিকার অগণিত ছাত্র কেবল এই ডিপ্লোমা অর্জনের জন্যই এখানে আগমন করে, এবং সমাপনান্তে স্বদেশে ফিরে যায়। সমাপনীতে সকল স্তরের ফল একত্রে বিবেচিত হয় এবং প্রদত্ত সনদের মূল্য প্রায় গ্রাজুয়েট বা স্নাতক ডিগ্রির সমতুল্য।

আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি যে, নগণ্য এক ছাত্র হয়েও কৃতিত্বের সঙ্গে এ মহান মারকাজ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পেরেছি। আল্লাহ তা‘আলা তাওফিক দিলে আমাদের বাংলাদেশেও আমরা প্রতিষ্ঠা করব এমন এক আন্তর্জাতিক আরবি ভাষা ডিপ্লোমা মারকাজ, যা মারকাজ শেখ জায়েদের ধারা অনুসরণ করবে এবং বিশ্বমানের শিক্ষার নজির স্থাপন করবে।

● মুহাম্মদ আম্মার হোসাইন: শিক্ষার্থী, ইসলামি আইন বিভাগ, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, মিশর।

এসইউটি/

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অনন্য আরবি ভাষা ডিপ্লোমা

আপডেট সময় : ০৮:৫৫:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আরবি ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে মারকাজ শেখ জায়েদ নিঃসন্দেহে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই মারকাজ বিশ্বমানের আরবি ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত। শূন্য স্তর থেকে অষ্টম স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত এ কোর্স বিদেশি ছাত্রদের জন্য এক অনন্য নিয়ামত। প্রত্যেক স্তরের পরিসর প্রায় পঁইতাল্লিশ থেকে পঞ্চাশ দিনের নিবিড় ও দিনব্যাপী অধ্যয়ন-অভ্যাসে সীমাবদ্ধ। পাঠ, লিখন, শ্রবণ, ব্যাকরণ ও বালাগাত—সবকিছুর সমন্বিত পাঠদান করেন বিদগ্ধ ডক্টরগণ, যাদের প্রত্যেকেই “আফসাহুল কালাম”-এর শিরোপায় ভূষিত।

এখানকার পরীক্ষা সহজ নয়; লিখিত ও মৌখিক উভয় পরীক্ষাই জটিল ও কঠোর। তবে নিয়মিত উপস্থিতি, অধ্যবসায় এবং নিরলস চেষ্টাই সফলতার দ্বার উন্মুক্ত করে। গৃহকর্ম সম্পাদন এবং নিয়মিততা এখানে কেবল শৃঙ্খলা নয়, বরং অপরিহার্য বিধান। প্রতিটি পাঠ্যেই শত শত সমার্থক শব্দের সমাহার ছাত্রদের ভাষাজ্ঞানকে এক অসামান্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। উচ্চ সাহিত্যচর্চার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ এই কোর্সকে করেছে অনন্য ও ব্যতিক্রমী। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে পুনরায় আমেরিকান ডলার বা মিশরীয় সমপরিমাণ পাউন্ড পরিশোধ করে স্তর সম্পূর্ণ করতে হয়।

শেষ স্তর—মুতামাইয়্যিজ (উচ্চতর স্তর)-এ শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর গবেষণামূলক থিসিস জমা দিতে হয়। ডক্টরগণ তা পর্যালোচনা করেন, প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে জ্ঞান যাচাই করেন এবং থিসিসের আলোকে ফলাফল নির্ধারণ করেন। শুধু তাই নয়, প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে তার রচনা শ্রেণিকক্ষে উপস্থাপন করতে হয় এবং তা নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা হয়।

প্রতিদিন চার ঘণ্টাব্যাপী গভীর ও সুবিন্যস্ত লেকচার, আর উস্তাদদের অমায়িক ব্যবহার—যেখানে রাগ বা কঠোরতার কোনো স্থান নেই—এই ডিপ্লোমাকে করেছে এক ভিন্নমাত্রার শিক্ষানভিজ্ঞতা।

মারকাজ শেখ জায়েদ আজ কেবল আরব বিশ্বেই নয়, বরং সমগ্র বিশ্বে সুনাম ও সুখ্যাতি অর্জন করেছে। তুরস্ক, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, কিরগিজস্তান, চীন, ইউরোপ ও আমেরিকার অগণিত ছাত্র কেবল এই ডিপ্লোমা অর্জনের জন্যই এখানে আগমন করে, এবং সমাপনান্তে স্বদেশে ফিরে যায়। সমাপনীতে সকল স্তরের ফল একত্রে বিবেচিত হয় এবং প্রদত্ত সনদের মূল্য প্রায় গ্রাজুয়েট বা স্নাতক ডিগ্রির সমতুল্য।

আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি যে, নগণ্য এক ছাত্র হয়েও কৃতিত্বের সঙ্গে এ মহান মারকাজ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পেরেছি। আল্লাহ তা‘আলা তাওফিক দিলে আমাদের বাংলাদেশেও আমরা প্রতিষ্ঠা করব এমন এক আন্তর্জাতিক আরবি ভাষা ডিপ্লোমা মারকাজ, যা মারকাজ শেখ জায়েদের ধারা অনুসরণ করবে এবং বিশ্বমানের শিক্ষার নজির স্থাপন করবে।

● মুহাম্মদ আম্মার হোসাইন: শিক্ষার্থী, ইসলামি আইন বিভাগ, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, মিশর।

এসইউটি/