সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

“বিশ্ব মানের মুহাদ্দিস আব্দুল মালিক হাফিজাহুল্লাহ” — বললেন এক ইয়ামানি খতিব

আইবি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৫৫:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫ ১৪০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

|উসাইদ মুহাম্মদ|

 

গত শুক্রবার জুমা পড়লাম এক ইয়ামানি ইমামের পেছনে। খুতবাটি ছিল বিশ্বমানের। তাঁর বাচনভঙ্গি, শব্দের ঝংকার, আবেগের তীব্রতা—সব মিলিয়ে এক কথায় মাথা নষ্ট করে দেওয়ার মতো।

খুতবার এক পর্যায়ে তিনি গাজার মজলুম জনগণের অবর্ণনীয় কষ্ট ফুটিয়ে তুলছিলেন। কথা বলতে বলতে আবেগে ভারসাম্য হারিয়ে ফেললেন। হঠাৎই কেঁদে ফেললেন তিনি। সেই মুহূর্তে পুরো মসজিদে এমন এক পরিবেশ তৈরি হলো, যেন নীরবতার এক ফরাশ বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে—শুধু শোনা যাচ্ছে ইমামের কাঁপা কণ্ঠ।

নামাজ শুরু হলো। ইয়ামানিদের কণ্ঠ এমনিতেই মোহময়, আর এই ইমামের তেলাওয়াতে ছিল এক বিশেষ ধরনের গাম্ভীর্য ও অন্তর্নিহিত তেজ।

নামাজ শেষে আমি অনেক চেষ্টা করে তাঁর সঙ্গে মুসাফাহা করলাম।

তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘কোন দেশ থেকে এসেছো?’

বললাম, ‘বাংলাদেশ।’

তিনি বললেন, ‘ওহ্! আব্দুল মালিক হাফিজাহুল্লাহ আছেন না? চিনো তাকে? তুমি আলেম?’

আমি অবাক হয়ে বললাম, ‘জ্বি জ্বি, আর সবাই উনাকে চেনে। উনি তো এখন আমাদের জাতীয় খতিব।’

তিনি বললেন, ‘আল্লাহু আকবার! খুব ভালো সংবাদ। তাঁর হাদিসের দরসে বসার সুযোগ হয়েছে কখনও?’

আমি বললাম, ‘জ্বি না, শায়েখ।’

তিনি বললেন, ‘সুযোগ পেলে একদিন বসবে ইনশাআল্লাহ। তিনি বিশ্বমানের মুহাদ্দিস। আমি যদি কখনো বাংলাদেশে যাই, ইনশাআল্লাহ তাঁর সঙ্গে দেখা করব। আর তুমি দেশে গেলে আমার সালাম দিও।’

এরপর ইমাম সাহেব চলে গেলেন। আশপাশের অন্যান্য মুসল্লিরাও তাঁর সঙ্গে মুসাফাহা করলেন।

আমি ঠায় দাঁড়িয়ে রইলাম। চোখের সামনে দিয়ে তাঁর চলে যাওয়া দেখছিলাম। কিছুটা স্তব্ধ, কিছুটা বিমুগ্ধ।

মসজিদ থেকে বের হতে হতে আমার মনে পড়ে যাচ্ছিল… আব্দুল মালিক হাফিজাহুল্লাহকে আমি কত কাছ থেকে দেখেছি!

যেদিন বাইতুর রাসূল (সা.) মাদরাসায় ভর্তি হয়েছিলাম, সেদিন হুজুর কীভাবে কীভাবে যেন অফিসে ছিলেন। এমনিতে হুজুর প্রায়ই আসতেন। মাদরাসার হুজুররা তখন আমাকে ভর্তির ইন্টারভিউয়ের জন্য কুরআন থেকে পড়তে বলেছিলেন। আমি আব্দুল মালিক হুজুরের সামনেই পড়ছিলাম। তখন চিনতাম না তাঁকে। দেখে আহামরি কিছু মনে হয়নি।

তেলাওয়াত শেষে হুজুর বলেছিলেন: ‘কুরআন শুধু গলা দিয়ে পড়ার জিনিস না। গলা থেকে একটু নিচে হাত দাও।’

আমি বুকের বাম পাশে হাত রাখলাম।

তিনি বললেন: ‘হ্যাঁ, এই জায়গা দিয়ে পড়তে হয় কুরআনকে। লাহান সুন্দর, কিন্তু অন্তর দিয়ে পড়া উচিত।’

আজ ভাবি, কী গভীর কথা ছিল সেটা।

 

আল্লাহ তাআলা আব্দুল মালিক হাফিজাহুল্লাহকে হিফাজত করুন, তাঁর ইলমকে কবুল করুন, এবং আমাদেরকে তাঁর যথাযথ সম্মান ও কদর করার তাওফিক দিন। তিনি বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য নেয়ামত।

আজ যারা বলে—‘বায়তুল মোকাররমের জন্য আরও যোগ্য কেউ দরকার’— তারা হয়তো হুজুরের ইলম, তারাক্কি, দরস, দরসগাহ, প্রভাব—এসবের ঘ্রাণও পায়নি। আরবের বড় বড় ইলমি জাহাজ যারা—তারা আব্দুল মালিক হুজুরকে চিনে, সম্মান করে এবং কদর করে।

আর আমরা বাংলাদেশে বসে, তাঁকে চিনে উঠতে পারলাম না।

 

লেখক: বিশিষ্ট ক্যালিগ্রাফি শিল্পী।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

“বিশ্ব মানের মুহাদ্দিস আব্দুল মালিক হাফিজাহুল্লাহ” — বললেন এক ইয়ামানি খতিব

আপডেট সময় : ১২:৫৫:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫

 

|উসাইদ মুহাম্মদ|

 

গত শুক্রবার জুমা পড়লাম এক ইয়ামানি ইমামের পেছনে। খুতবাটি ছিল বিশ্বমানের। তাঁর বাচনভঙ্গি, শব্দের ঝংকার, আবেগের তীব্রতা—সব মিলিয়ে এক কথায় মাথা নষ্ট করে দেওয়ার মতো।

খুতবার এক পর্যায়ে তিনি গাজার মজলুম জনগণের অবর্ণনীয় কষ্ট ফুটিয়ে তুলছিলেন। কথা বলতে বলতে আবেগে ভারসাম্য হারিয়ে ফেললেন। হঠাৎই কেঁদে ফেললেন তিনি। সেই মুহূর্তে পুরো মসজিদে এমন এক পরিবেশ তৈরি হলো, যেন নীরবতার এক ফরাশ বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে—শুধু শোনা যাচ্ছে ইমামের কাঁপা কণ্ঠ।

নামাজ শুরু হলো। ইয়ামানিদের কণ্ঠ এমনিতেই মোহময়, আর এই ইমামের তেলাওয়াতে ছিল এক বিশেষ ধরনের গাম্ভীর্য ও অন্তর্নিহিত তেজ।

নামাজ শেষে আমি অনেক চেষ্টা করে তাঁর সঙ্গে মুসাফাহা করলাম।

তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘কোন দেশ থেকে এসেছো?’

বললাম, ‘বাংলাদেশ।’

তিনি বললেন, ‘ওহ্! আব্দুল মালিক হাফিজাহুল্লাহ আছেন না? চিনো তাকে? তুমি আলেম?’

আমি অবাক হয়ে বললাম, ‘জ্বি জ্বি, আর সবাই উনাকে চেনে। উনি তো এখন আমাদের জাতীয় খতিব।’

তিনি বললেন, ‘আল্লাহু আকবার! খুব ভালো সংবাদ। তাঁর হাদিসের দরসে বসার সুযোগ হয়েছে কখনও?’

আমি বললাম, ‘জ্বি না, শায়েখ।’

তিনি বললেন, ‘সুযোগ পেলে একদিন বসবে ইনশাআল্লাহ। তিনি বিশ্বমানের মুহাদ্দিস। আমি যদি কখনো বাংলাদেশে যাই, ইনশাআল্লাহ তাঁর সঙ্গে দেখা করব। আর তুমি দেশে গেলে আমার সালাম দিও।’

এরপর ইমাম সাহেব চলে গেলেন। আশপাশের অন্যান্য মুসল্লিরাও তাঁর সঙ্গে মুসাফাহা করলেন।

আমি ঠায় দাঁড়িয়ে রইলাম। চোখের সামনে দিয়ে তাঁর চলে যাওয়া দেখছিলাম। কিছুটা স্তব্ধ, কিছুটা বিমুগ্ধ।

মসজিদ থেকে বের হতে হতে আমার মনে পড়ে যাচ্ছিল… আব্দুল মালিক হাফিজাহুল্লাহকে আমি কত কাছ থেকে দেখেছি!

যেদিন বাইতুর রাসূল (সা.) মাদরাসায় ভর্তি হয়েছিলাম, সেদিন হুজুর কীভাবে কীভাবে যেন অফিসে ছিলেন। এমনিতে হুজুর প্রায়ই আসতেন। মাদরাসার হুজুররা তখন আমাকে ভর্তির ইন্টারভিউয়ের জন্য কুরআন থেকে পড়তে বলেছিলেন। আমি আব্দুল মালিক হুজুরের সামনেই পড়ছিলাম। তখন চিনতাম না তাঁকে। দেখে আহামরি কিছু মনে হয়নি।

তেলাওয়াত শেষে হুজুর বলেছিলেন: ‘কুরআন শুধু গলা দিয়ে পড়ার জিনিস না। গলা থেকে একটু নিচে হাত দাও।’

আমি বুকের বাম পাশে হাত রাখলাম।

তিনি বললেন: ‘হ্যাঁ, এই জায়গা দিয়ে পড়তে হয় কুরআনকে। লাহান সুন্দর, কিন্তু অন্তর দিয়ে পড়া উচিত।’

আজ ভাবি, কী গভীর কথা ছিল সেটা।

 

আল্লাহ তাআলা আব্দুল মালিক হাফিজাহুল্লাহকে হিফাজত করুন, তাঁর ইলমকে কবুল করুন, এবং আমাদেরকে তাঁর যথাযথ সম্মান ও কদর করার তাওফিক দিন। তিনি বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য নেয়ামত।

আজ যারা বলে—‘বায়তুল মোকাররমের জন্য আরও যোগ্য কেউ দরকার’— তারা হয়তো হুজুরের ইলম, তারাক্কি, দরস, দরসগাহ, প্রভাব—এসবের ঘ্রাণও পায়নি। আরবের বড় বড় ইলমি জাহাজ যারা—তারা আব্দুল মালিক হুজুরকে চিনে, সম্মান করে এবং কদর করে।

আর আমরা বাংলাদেশে বসে, তাঁকে চিনে উঠতে পারলাম না।

 

লেখক: বিশিষ্ট ক্যালিগ্রাফি শিল্পী।