সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

সাংবাদিক সন্তানের র’ক্ত ঝরলেও বিচার মেলেনি, সদরঘাটে বসে কাঁদলেন মা-বাবা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫ ১০৪ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ঢাকা টাইমসের সিনিয়র রিপোর্টার মেহেদী হাসান (৩২)। ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী উড়ালসেতু এলাকায়।

মেহেদীর গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার হোসনাবাদ গ্রামে। কর্মসূত্রে তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জে স্ত্রী ফারহানা ইসলাম ও দুই কন্যা সন্তান—তিন বছর বয়সী মায়মুনা বিনতে নিশা ও দশ মাসের মেহেরাশকে নিয়ে থাকতেন।

ঘটনার দিন যাত্রাবাড়ীতে ছাত্র ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় সংবাদ সংগ্রহ করছিলেন মেহেদী। হাতে ক্যামেরা ও গলায় গণমাধ্যমের আইডি থাকা সত্ত্বেও তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মেহেদীর বাবা মোশাররফ হোসেন বলেন, “আমি সরকারের কাছে অট্টালিকা চাই না, আমি আমার সন্তানের বিচার চাই। পুলিশ পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে।” তিনি আরও বলেন, “১৮ জুলাই ছেলেকে হ’ত্যার পর ২৭ জুলাই যাত্রাবাড়ী থানার এসআই হোসাইন জাহিদ একটি মিথ্যা মামলা করেন। সেখানে জামায়াত, বিএনপি, ছাত্র-জনতাসহ প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে আসামি করা হয়।”

তিনি অভিযোগ করেন, “ওরা চেয়েছিল শেখ হাসিনাকে সারাজীবন ক্ষমতায় রেখে সুবিধা নিতে। কিন্তু শেখ হাসিনাকে আল্লাহ তায়ালা অন্য দেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন, কারণ তিনি থাকলে মানুষের ক্ষতি হতো।”

মেহেদীর মা মাহমুদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার কোনো ঘর ছিল না, অনেক কষ্টে ছেলেকে মানুষ করেছি। ঢাকায় ৩০০ টাকায় ভাড়া থাকতাম। একবার রোদে কাপড় শুকাতে দিয়েছিলাম, চোর নিয়ে যায়। তখন এক কাপড়ে এক সপ্তাহ থেকেছি।”

তিনি জানান, “কয়েকদিন আগে ঢাকায় গিয়েছিলাম, কিন্তু কোথাও থাকার জায়গা ছিল না। মেহেদী তো আর নেই, তার স্ত্রী এখন আমাদের বাসায় নেয় না। লঞ্চ থেকে নেমে সদরঘাটে বসে ছিলাম। শহিদ হওয়ার পর থেকে তার স্ত্রী আর আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে না।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

সাংবাদিক সন্তানের র’ক্ত ঝরলেও বিচার মেলেনি, সদরঘাটে বসে কাঁদলেন মা-বাবা

আপডেট সময় : ০৮:৩৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫

 

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ঢাকা টাইমসের সিনিয়র রিপোর্টার মেহেদী হাসান (৩২)। ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী উড়ালসেতু এলাকায়।

মেহেদীর গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার হোসনাবাদ গ্রামে। কর্মসূত্রে তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জে স্ত্রী ফারহানা ইসলাম ও দুই কন্যা সন্তান—তিন বছর বয়সী মায়মুনা বিনতে নিশা ও দশ মাসের মেহেরাশকে নিয়ে থাকতেন।

ঘটনার দিন যাত্রাবাড়ীতে ছাত্র ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় সংবাদ সংগ্রহ করছিলেন মেহেদী। হাতে ক্যামেরা ও গলায় গণমাধ্যমের আইডি থাকা সত্ত্বেও তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মেহেদীর বাবা মোশাররফ হোসেন বলেন, “আমি সরকারের কাছে অট্টালিকা চাই না, আমি আমার সন্তানের বিচার চাই। পুলিশ পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে।” তিনি আরও বলেন, “১৮ জুলাই ছেলেকে হ’ত্যার পর ২৭ জুলাই যাত্রাবাড়ী থানার এসআই হোসাইন জাহিদ একটি মিথ্যা মামলা করেন। সেখানে জামায়াত, বিএনপি, ছাত্র-জনতাসহ প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে আসামি করা হয়।”

তিনি অভিযোগ করেন, “ওরা চেয়েছিল শেখ হাসিনাকে সারাজীবন ক্ষমতায় রেখে সুবিধা নিতে। কিন্তু শেখ হাসিনাকে আল্লাহ তায়ালা অন্য দেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন, কারণ তিনি থাকলে মানুষের ক্ষতি হতো।”

মেহেদীর মা মাহমুদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার কোনো ঘর ছিল না, অনেক কষ্টে ছেলেকে মানুষ করেছি। ঢাকায় ৩০০ টাকায় ভাড়া থাকতাম। একবার রোদে কাপড় শুকাতে দিয়েছিলাম, চোর নিয়ে যায়। তখন এক কাপড়ে এক সপ্তাহ থেকেছি।”

তিনি জানান, “কয়েকদিন আগে ঢাকায় গিয়েছিলাম, কিন্তু কোথাও থাকার জায়গা ছিল না। মেহেদী তো আর নেই, তার স্ত্রী এখন আমাদের বাসায় নেয় না। লঞ্চ থেকে নেমে সদরঘাটে বসে ছিলাম। শহিদ হওয়ার পর থেকে তার স্ত্রী আর আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে না।”