সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

মেয়ের কফিনে চুমু দিয়ে শেষ বিদায় বাবার

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৯:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫ ৯৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

বাবার কপালে চুমু খেয়ে স্কুলে যেত মেহেনাজ আফরি হুমায়রা (৯)। মঙ্গলবার সকালে সেই বাবা দেলোয়ার হোসাইন চোখের পানি ফেলে কফিনে চুমু খেয়ে বিদায় জানালেন একমাত্র মেয়েকে।

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার হতেয়া কেরানীপাড়ায় মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকালে যখন মেহেনাজের মরদেহ পৌঁছে, তখন স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো বাড়ি। গ্রামের মানুষ রাতভর অপেক্ষায় ছিলেন প্রিয় ছোট্ট মুখটি শেষবার দেখার জন্য।

এর আগের দিন সোমবার (২১ জুলাই) রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হলে ঘটনাস্থলেই মারা যায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেনাজ আফরি হুমায়রা।

নিহত মেহেনাজ ছিলেন দেলোয়ার হোসাইন ও সুমি আক্তারের একমাত্র সন্তান। দেলোয়ার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলা বিভাগের সরকারি প্রভাষক। দুর্ঘটনার সময় মেহেনাজের মা স্কুল ভবনের নিচে ছিলেন। বাবার ভাষ্য, “মেহেনাজ ছুটি পেয়েছিল। বলেছিলাম, ‘অপেক্ষা করো—তোমার মা নিতে আসবে’। কিন্তু তার আগেই বিমানের ধ্বংসস্তূপে ঢেকে যায় ওর শ্রেণিকক্ষ। স্ত্রীর চোখের সামনেই ঘটে সবকিছু। তাকে কীভাবে সান্ত্বনা দেবো বুঝতে পারছি না।”

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার পর মেহেনাজের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বিকেলে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে দেলোয়ার হোসাইন তার মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন। সন্ধ্যার পর থেকেই গ্রামের মানুষ ভিড় করতে থাকেন বাড়িতে। অবশেষে রাত ২টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে এসে পৌঁছায় ছোট্ট মেহেনাজের মরদেহ।

নিহতের দাদা আব্দুল বাছেদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার দাদু আর কোনোদিন আসবে না! আর আমাকে দাদু বলে ডাকবে না।”

১৫ বছর আগে মাইলস্টোন স্কুলে যোগ দেন দেলোয়ার। ১১ বছর আগে সুমি আক্তারকে বিয়ে করেন। সেই সংসারের একমাত্র আলো ছিল ছোট্ট মেহেনাজ।

তবে সেই আলো আজ নিভে গেছে এক বেদনাবিধুর ট্র্যাজেডিতে। কফিনে চুমু খেয়ে বাবার শেষ বিদায় হয়ে রইল ছোট্ট মেহেনাজের জন্য। আর কখনো বাবা-মায়ের সঙ্গে গ্রামের বাড়ি ফিরবে না সে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

মেয়ের কফিনে চুমু দিয়ে শেষ বিদায় বাবার

আপডেট সময় : ০৯:৫৯:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫

 

বাবার কপালে চুমু খেয়ে স্কুলে যেত মেহেনাজ আফরি হুমায়রা (৯)। মঙ্গলবার সকালে সেই বাবা দেলোয়ার হোসাইন চোখের পানি ফেলে কফিনে চুমু খেয়ে বিদায় জানালেন একমাত্র মেয়েকে।

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার হতেয়া কেরানীপাড়ায় মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকালে যখন মেহেনাজের মরদেহ পৌঁছে, তখন স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো বাড়ি। গ্রামের মানুষ রাতভর অপেক্ষায় ছিলেন প্রিয় ছোট্ট মুখটি শেষবার দেখার জন্য।

এর আগের দিন সোমবার (২১ জুলাই) রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হলে ঘটনাস্থলেই মারা যায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেনাজ আফরি হুমায়রা।

নিহত মেহেনাজ ছিলেন দেলোয়ার হোসাইন ও সুমি আক্তারের একমাত্র সন্তান। দেলোয়ার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলা বিভাগের সরকারি প্রভাষক। দুর্ঘটনার সময় মেহেনাজের মা স্কুল ভবনের নিচে ছিলেন। বাবার ভাষ্য, “মেহেনাজ ছুটি পেয়েছিল। বলেছিলাম, ‘অপেক্ষা করো—তোমার মা নিতে আসবে’। কিন্তু তার আগেই বিমানের ধ্বংসস্তূপে ঢেকে যায় ওর শ্রেণিকক্ষ। স্ত্রীর চোখের সামনেই ঘটে সবকিছু। তাকে কীভাবে সান্ত্বনা দেবো বুঝতে পারছি না।”

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার পর মেহেনাজের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বিকেলে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে দেলোয়ার হোসাইন তার মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন। সন্ধ্যার পর থেকেই গ্রামের মানুষ ভিড় করতে থাকেন বাড়িতে। অবশেষে রাত ২টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে এসে পৌঁছায় ছোট্ট মেহেনাজের মরদেহ।

নিহতের দাদা আব্দুল বাছেদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার দাদু আর কোনোদিন আসবে না! আর আমাকে দাদু বলে ডাকবে না।”

১৫ বছর আগে মাইলস্টোন স্কুলে যোগ দেন দেলোয়ার। ১১ বছর আগে সুমি আক্তারকে বিয়ে করেন। সেই সংসারের একমাত্র আলো ছিল ছোট্ট মেহেনাজ।

তবে সেই আলো আজ নিভে গেছে এক বেদনাবিধুর ট্র্যাজেডিতে। কফিনে চুমু খেয়ে বাবার শেষ বিদায় হয়ে রইল ছোট্ট মেহেনাজের জন্য। আর কখনো বাবা-মায়ের সঙ্গে গ্রামের বাড়ি ফিরবে না সে।