এসএসসি রেজাল্ট ঘিরে উন্মাদনা নিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহর মূল্যবান মন্তব্য
- আপডেট সময় : ১১:০২:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫ ১৩৪ বার পড়া হয়েছে

এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট প্রকাশকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর যে মাত্রাতিরিক্ত উন্মাদনা ও হুল্লোড় দেখা যায়, তা সমাজে এক অস্বাস্থ্যকর সংস্কৃতির জন্ম দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এই প্রবণতা আমাদের ব্যথিত এবং শঙ্কিত করছে।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, “পরীক্ষায় ভালো ফল করা নিঃসন্দেহে আনন্দের বিষয়। কিন্তু সেই আনন্দের উদযাপন নির্দিষ্ট মাত্রার ভেতরেই হওয়া উচিত। অথচ আমাদের মিডিয়াগুলো এই পরীক্ষাকে ঘিরে এমন মাত্রায় সংবাদ কাভারেজ দেয়, যার নজির পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে নেই।”
তিনি সতর্ক করেন, এই অতিরিক্ত উচ্ছ্বাসই পরীক্ষায় কম ফল করা শিক্ষার্থীদের মনে অপরাধবোধ সৃষ্টি করে। ডিপ্রেশনে ভোগা এসব শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ আত্মহননের পথও বেছে নেয়। এর দায় যেমন গণমাধ্যমের, তেমনই দায় রয়েছে সন্তানদের ‘প্রতিযোগিতার বাজারে’ ছেড়ে দেওয়া বাবা-মায়েরও।
শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও বলেন, “সামগ্রিক জীবনের সাফল্যের তুলনায় একটি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা আঁচড় রেখে যাওয়ার মতো ঘটনা নয়। তারপরও এই উন্মাদনা প্রমাণ করে— আমরা দিন দিন ভোগবাদী, বস্তুবাদী এবং পরকাল ভোলা মানুষ হয়ে যাচ্ছি।”
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “সন্তান যদি বিপদের মুখেও সত্য কথা বলে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করে, সুযোগ পেয়েও ঘুষ না নেয়— সেই সন্তানের জন্য কোনো বাবা-মা মিষ্টি বিতরণ করেন না। কিন্তু জিপিএ-৫ পেলে আমরা যেন মিষ্টির বন্যা বইয়ে দিতে চাই। এ এক অদ্ভুত মনোবৈকল্য।”
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবারে সততার শিক্ষা না থাকায় অনেক বাবা-মাই সন্তানের নকলের পক্ষে অবস্থান নেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। অনেক সন্তান ভালো ছাত্রের খাতা না দেখে লিখতে পারলে ভর্ৎসনার শিকার হয়।
তিনি মনে করিয়ে দেন, “জিপিএ ৫ সাময়িক সাফল্য। কিন্তু একজন মুমিনের জীবনে চূড়ান্ত সাফল্য তখনই আসে, যখন সে জাহান্নাম থেকে বেঁচে চিরসুখের জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে। আল্লাহ পবিত্র কুরআনে এটাকেই আসল সফলতা বলেছেন।”
শায়খ আহমাদুল্লাহর এই পোস্টে অসংখ্য মানুষ ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান এবং পরীক্ষাকেন্দ্রিক উন্মাদনা রোধে সচেতনতার আহ্বান জানান।
















