‘সমন্বয়ক’ রিয়াদের তেলেসমাতি, এক বছরেই গ্রামে পাকা বাড়ি
- আপডেট সময় : ১২:৩২:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫ ৯৮ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর গুলশানে চাঁদাবাজির সময় হাতেনাতে আটক হওয়া ‘সমন্বয়ক’ আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান রিয়াদকে ঘিরে একের পর এক বিস্ময়কর তথ্য বেরিয়ে আসছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও স্থানীয় পর্যায়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
শনিবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় গুলশানে এক সাবেক সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যের কাছে চাঁদা নিতে গিয়ে চার সহযোগীসহ ধরা পড়েন রিয়াদ। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনার পর থেকে আলোচনায় উঠে আসে তাঁর হঠাৎ উত্থান ও আর্থিক অস্বচ্ছতা।
জানা গেছে, রিয়াদের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের নবীপুর বাজার সংলগ্ন ৫ নম্বর ওয়ার্ডে। পরিবারটি আগে ছিল হতদরিদ্র। রিয়াদের দাদা ওয়ালীউল্যাহ ও বাবা আবু রায়হান দুইজনই রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বর্তমানে তাঁর বাবা দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। পরিবারের সদস্যদের কষ্টে বেড়ে ওঠা রিয়াদের হঠাৎ উত্থানে বিস্মিত গ্রামবাসী।
গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরপরই আর্থিক অবস্থার劇 পরিবর্তন ঘটে রিয়াদের। পরিবারটির ভাঙা ঘরের পাশেই শুরু হয় পাকা দালান নির্মাণ। একইসঙ্গে রিয়াদের বিলাসবহুল গাড়িতে চড়া ও দামি পোশাক পরা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়।
স্থানীয়রা জানান, রিয়াদ নবীপুর হাই স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর কোম্পানীগঞ্জ সরকারি মুজিব মহাবিদ্যালয়ে পড়তে গিয়ে ছাত্রলীগে যোগ দেন। পরে ঢাকায় এসে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যুক্ত হন কোটাবিরোধী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে। সেখান থেকে ধীরে ধীরে নিজেকে পরিচয় দেন ‘সমন্বয়ক’ হিসেবে।
তবে সংগঠন থেকে প্রাপ্ত পদ ব্যবহার করে রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েন রিয়াদ। ফেসবুক ঘেঁটে দেখা গেছে, তাঁর বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সঙ্গে ছবি রয়েছে, যেগুলো দিয়ে তিনি নিজের প্রভাব প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতেন।
রিয়াদের মা সামসুন্নাহার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমরা না খেয়ে ওকে শহরে পাঠাইছিলাম, সে ভালো ছেলেই ছিল। টিভিতে দেখি পুলিশ ওরে ধরছে, এখন কীভাবে মেনে নেই?”
নবীপুর হাই স্কুলের সাবেক সভাপতি শিহাব উদ্দিন বলেন, “এই ছেলেকে গ্রামের মানুষ দান-খয়রাত করে লেখাপড়া শিখিয়েছে। এখন শুনি সে ভয়ংকর চাঁদাবাজ হয়েছে, এটা বিশ্বাসই করতে পারছি না।”
গ্রামের বাসিন্দারা প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন, রিয়াদের মতো আরও কেউ শহরে গিয়ে ‘সমন্বয়ক’ বা রাজনৈতিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি করে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছে কি না—তা তদন্ত করে বের করার। একইসঙ্গে চাঁদাবাজ রিয়াদকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনারও দাবি জানান তারা।














