কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একের পর এক দুর্ঘটনা
- আপডেট সময় : ০২:৩৬:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫ ১৪২ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দিন দিন বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এতে যাত্রী, স্থানীয় বাসিন্দা ও নেটিজনদের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মহাসড়কের নিরাপত্তা ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পটিয়া, লোহাগড়া, চকরিয়া, ঈদগাঁও, রামু ও খরুলিয়া মোড়ে প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। কখনো ট্রাক, কখনো যাত্রীবাহী বাস বা কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যাচ্ছে। এর ফলে একদিকে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে বহু পরিবার হারাচ্ছে আপনজনকে।
শুধু গত এক সপ্তাহে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে তিনটি বড় দুর্ঘটনায় অন্তত সাতজন নিহত এবং অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা দুর্ঘটনার জন্য চালকদের বেপরোয়া গতি, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, অতিরিক্ত ওভারটেকিং এবং মহাসড়কে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকার বিষয়গুলোকে দায়ী করেছেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ফোর লেন না হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে তারা মনে করেন।
ফেসবুক, টিকটক ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অসংখ্য মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। কেউ লিখেছেন— “মহাসড়ক এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।” “প্রতিদিনই দুর্ঘটনার খবর শুনতে শুনতে আতঙ্কে আছি।” “কেবল যাত্রীদের জীবনই নয়, চালকদেরও ঝুঁকি বাড়ছে।”
অভিযোগ রয়েছে, সড়কে অবৈধ পার্কিং, যত্রতত্র স্টপেজ এবং লাইসেন্সবিহীন চালকদের নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন। যাত্রীদের দাবি, ট্রাফিক পুলিশের নিয়মিত তদারকি না থাকায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত চালক প্রশিক্ষণ, গতি নিয়ন্ত্রণ, কঠোর ট্রাফিক আইন প্রয়োগ, মহাসড়কের ভাঙা অংশ সংস্কার এবং জরুরি সেবা কার্যক্রম বাড়ানো জরুরি। তারা সতর্ক করে বলেন, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ‘মৃত্যুর সড়ক’ হিসেবেই পরিচিতি পাবে।















