সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ

আবুল কালাম আজাদ, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৭:৫০:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫ ৮৯ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে “জুলাই গণঅভ্যুত্থান, আমাদের প্রত্যাশা ও সীমাবদ্ধতা” শীর্ষক এক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (০৫ আগস্ট ২০২৫) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।

আলোচনা সভার শুরুতেই শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন ও পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, “যত বড় ত্যাগ, তত বড় অর্জন সম্ভব। ৯০-এর আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান—সবকিছুই সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের প্রতীক।” তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের চেতনা থেকে বিচ্যুত হলে আগামী দিনের সরকারগুলোকেও জবাবদিহি করতে হবে। এই ইতিহাস যেন পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত হয়, সেই দাবিও জানাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ আসির ইনতিশারুল হকের পিতা আ.হ.ম এনামুল হক লিটন এবং শহীদ হৃদয় ইসলামের মা মাজেদা খাতুন। তাঁরা তাদের আবেগঘন বক্তব্যে সন্তান হারানোর বেদনা ও দেশের জন্য আত্মত্যাগের গর্ব একসঙ্গে প্রকাশ করেন। হৃদয় ইসলামের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি এখনো আমার ছেলের বিচার পাইনি।

প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ডা. মোঃ মাহবুবুর রহমান লিটন। তিনি বলেন, “জুলাই ২৪ কখনো ভুলে গেলে চলবে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের স্মরণ করিয়ে দেবে সেই রক্তঝরা দিনের কথা। শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী, বিভিন্ন অনুষদের ডিন এবং রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মোঃ মিজানুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সহকারী অধ্যাপক মোঃ অলি উল্লাহ এবং সঞ্চালনা করেন ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক মোঃ জিল্লাল হোসাইন।

আলোচনা শেষে “বৈষম্যের বিরুদ্ধে জুলাই চব্বিশ” শীর্ষক স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন এবং চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

এর আগে সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে ঢাক-ঢোলের তালে বিজয় র‍্যালি বের হয়, যা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়। বাদ আসর কেন্দ্রীয় মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয় শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় ও আহতদের সুস্থতা চেয়ে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ

আপডেট সময় : ০৭:৫০:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫

 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে “জুলাই গণঅভ্যুত্থান, আমাদের প্রত্যাশা ও সীমাবদ্ধতা” শীর্ষক এক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (০৫ আগস্ট ২০২৫) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।

আলোচনা সভার শুরুতেই শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন ও পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, “যত বড় ত্যাগ, তত বড় অর্জন সম্ভব। ৯০-এর আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান—সবকিছুই সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের প্রতীক।” তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের চেতনা থেকে বিচ্যুত হলে আগামী দিনের সরকারগুলোকেও জবাবদিহি করতে হবে। এই ইতিহাস যেন পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত হয়, সেই দাবিও জানাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ আসির ইনতিশারুল হকের পিতা আ.হ.ম এনামুল হক লিটন এবং শহীদ হৃদয় ইসলামের মা মাজেদা খাতুন। তাঁরা তাদের আবেগঘন বক্তব্যে সন্তান হারানোর বেদনা ও দেশের জন্য আত্মত্যাগের গর্ব একসঙ্গে প্রকাশ করেন। হৃদয় ইসলামের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি এখনো আমার ছেলের বিচার পাইনি।

প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ডা. মোঃ মাহবুবুর রহমান লিটন। তিনি বলেন, “জুলাই ২৪ কখনো ভুলে গেলে চলবে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের স্মরণ করিয়ে দেবে সেই রক্তঝরা দিনের কথা। শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী, বিভিন্ন অনুষদের ডিন এবং রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মোঃ মিজানুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সহকারী অধ্যাপক মোঃ অলি উল্লাহ এবং সঞ্চালনা করেন ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক মোঃ জিল্লাল হোসাইন।

আলোচনা শেষে “বৈষম্যের বিরুদ্ধে জুলাই চব্বিশ” শীর্ষক স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন এবং চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

এর আগে সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে ঢাক-ঢোলের তালে বিজয় র‍্যালি বের হয়, যা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়। বাদ আসর কেন্দ্রীয় মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয় শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় ও আহতদের সুস্থতা চেয়ে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।