সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি মুছে বিতর্কে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক

আইবি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:২৮:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৭৯ বার পড়া হয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ময়মনসিংহ শহরের দেয়ালে আঁকা ফ্যা’সিস্টবিরোধী, দু’র্নী’তিবিরোধী ও রাষ্ট্র সংস্কারধর্মী গ্রাফিতি মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছে জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলমের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, জেলা প্রশাসকের সরকারি বাসভবনের সীমানা প্রাচীরে আঁকা জুলাই–আগস্ট অভ্যুত্থানের চেতনা নিয়ে করা গ্রাফিতি প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে মুছে সাদা রঙে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। কাজটি পেয়েছে আওয়ামীপন্থী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মের্সাস এম.এস. এন্টারপ্রাইজ। এতে স্থানীয়দের প্রশ্ন—এটি কি ইতিহাস মুছে ফেলার প্রকল্প?

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার প’ত’নের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে বিপ্লবী গ্রাফিতি আঁকেন। এক বছরের মাথায় সেসব চিত্র মুছে ফেলার ঘটনায় শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

আন্দোলনের নেতা আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘আগেও জেলা প্রশাসন শিক্ষার্থীদের আঁকা ছবি মুছে ফেলেছিল। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল আর করা হবে না। কিন্তু এবার নিজেদের বাসভবনের দেয়াল থেকেই ইতিহাস মুছে দিল।’

স্থানীয়রা জানান, দেয়াল উঁচু করা, রঙ করা ও কাঁটাতার বসানোর কাজের জন্য ১৮ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে মের্সাস এম.এস. এন্টারপ্রাইজ। তবে নতুন দেয়ালে পুনরায় গ্রাফিতি আঁকা হবে কিনা, সে বিষয়ে কোনো চুক্তি হয়নি।

বিএনপি, জামায়াত ও নাগরিক আন্দোলনের নেতারা বলেছেন, শিক্ষার্থীদের আঁকা গ্রাফিতি রক্তাক্ত জুলাই-আগস্টের চেতনার প্রতীক। সেটি মুছে ফেলা আন্দোলনের স্মৃতি মুছে ফেলার শামিল।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি। এনডিসি সাইফুল্লাহিল গালিব জানিয়েছেন, দেয়াল সংস্কারের জন্য গ্রাফিতি মুছে দেওয়া হয়েছে এবং পরে নতুন করে আঁকা হবে। তবে নগরবাসীর প্রশ্ন—ইতিহাস একবার মুছে ফেলার পর আবার আঁকলে কি সত্যিই স্মৃতি সংরক্ষণ সম্ভব?

আইজে/

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি মুছে বিতর্কে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক

আপডেট সময় : ০৭:২৮:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ময়মনসিংহ শহরের দেয়ালে আঁকা ফ্যা’সিস্টবিরোধী, দু’র্নী’তিবিরোধী ও রাষ্ট্র সংস্কারধর্মী গ্রাফিতি মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছে জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলমের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, জেলা প্রশাসকের সরকারি বাসভবনের সীমানা প্রাচীরে আঁকা জুলাই–আগস্ট অভ্যুত্থানের চেতনা নিয়ে করা গ্রাফিতি প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে মুছে সাদা রঙে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। কাজটি পেয়েছে আওয়ামীপন্থী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মের্সাস এম.এস. এন্টারপ্রাইজ। এতে স্থানীয়দের প্রশ্ন—এটি কি ইতিহাস মুছে ফেলার প্রকল্প?

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার প’ত’নের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে বিপ্লবী গ্রাফিতি আঁকেন। এক বছরের মাথায় সেসব চিত্র মুছে ফেলার ঘটনায় শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

আন্দোলনের নেতা আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘আগেও জেলা প্রশাসন শিক্ষার্থীদের আঁকা ছবি মুছে ফেলেছিল। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল আর করা হবে না। কিন্তু এবার নিজেদের বাসভবনের দেয়াল থেকেই ইতিহাস মুছে দিল।’

স্থানীয়রা জানান, দেয়াল উঁচু করা, রঙ করা ও কাঁটাতার বসানোর কাজের জন্য ১৮ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে মের্সাস এম.এস. এন্টারপ্রাইজ। তবে নতুন দেয়ালে পুনরায় গ্রাফিতি আঁকা হবে কিনা, সে বিষয়ে কোনো চুক্তি হয়নি।

বিএনপি, জামায়াত ও নাগরিক আন্দোলনের নেতারা বলেছেন, শিক্ষার্থীদের আঁকা গ্রাফিতি রক্তাক্ত জুলাই-আগস্টের চেতনার প্রতীক। সেটি মুছে ফেলা আন্দোলনের স্মৃতি মুছে ফেলার শামিল।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি। এনডিসি সাইফুল্লাহিল গালিব জানিয়েছেন, দেয়াল সংস্কারের জন্য গ্রাফিতি মুছে দেওয়া হয়েছে এবং পরে নতুন করে আঁকা হবে। তবে নগরবাসীর প্রশ্ন—ইতিহাস একবার মুছে ফেলার পর আবার আঁকলে কি সত্যিই স্মৃতি সংরক্ষণ সম্ভব?

আইজে/