সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

বাকৃবিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত, র‍্যালিতে ফ্যাসিবাদবিরোধী অঙ্গীকার

আবুল কালাম আজাদ, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:৩৯:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫ ৮১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) প্রাঙ্গণে ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে মঙ্গলবার (০৫ আগস্ট ২০২৫ ) দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১০টায় বৃষ্টিভেজা আবহাওয়ার মধ্যেও এক বিজয় র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‍্যালির নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া, যিনি প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মোঃ শহীদুল হকের সভাপতিত্বে র‍্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন করিডোর ঘুরে পুনরায় প্রশাসন ভবনের নিচে এসে শেষ হয়।

বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, “আজকের দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ফ্যাসিস্ট সরকার বিরোধী আন্দোলনে যেসব ছাত্র-জনতা প্রাণ দিয়েছেন, আমরা তাঁদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটে।” তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতে যেন ফ্যাসিস্টরা আর কখনো বাংলাদেশের মাটিতে শেকড় গাড়তে না পারে, এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।”

দিনের অন্যান্য আয়োজনে ছিল শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনে দুপুর ১২টায় শিশু কিশোর কাউন্সিলের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী। মোট পাঁচটি গ্রুপে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় জাতীয় পতাকা, গণদাবি, পানির গুরুত্ব, ‘রক্তাক্ত জুলাই’ ও ‘বিজয় ২৪’-এর ওপর শিশুদের আঁকা চিত্র প্রদর্শিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. জি. এম. মুজিবর রহমান।

সন্ধ্যা ৭.৩০টায় অনুষ্ঠিত হয় ডিবেটিং সংঘ আয়োজিত বিতর্ক প্রতিযোগিতার ফাইনাল। বিতর্কের বিষয় ছিল “জুলাই পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে আর কখনো ফ্যাসিজম ফিরে আসতে পারবে না।” প্রতিযোগিতা শেষে ‘জুলাই আন্দোলন’ বিষয়ক ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। চিত্রাঙ্কনে আলভিনা আক্তার চন্দ্রিমা, সারা হোসেন, রামিসা জাহান রোজা, তাহরিন হাসান দীপ্ত এবং জান্নাত জাহান প্রথম পুরস্কার লাভ করেন। ভিডিও বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে বাকৃবি সাংবাদিক সমিতি।

পুরো আয়োজনে অংশ নেন ডিন কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দ, রেজিস্ট্রার, ট্রেজারার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, প্রক্টর, বিভাগীয় প্রধানগণ, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের মানুষ।

দিনটি শেষে সবার মুখে ছিল একটাই প্রত্যয়—এই বিজয় যেন হয় দীর্ঘস্থায়ী, ফ্যাসিজম যেন আর কখনো ফিরে না আসে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

বাকৃবিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত, র‍্যালিতে ফ্যাসিবাদবিরোধী অঙ্গীকার

আপডেট সময় : ১১:৩৯:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫

 

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) প্রাঙ্গণে ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে মঙ্গলবার (০৫ আগস্ট ২০২৫ ) দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১০টায় বৃষ্টিভেজা আবহাওয়ার মধ্যেও এক বিজয় র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‍্যালির নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া, যিনি প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মোঃ শহীদুল হকের সভাপতিত্বে র‍্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন করিডোর ঘুরে পুনরায় প্রশাসন ভবনের নিচে এসে শেষ হয়।

বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, “আজকের দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ফ্যাসিস্ট সরকার বিরোধী আন্দোলনে যেসব ছাত্র-জনতা প্রাণ দিয়েছেন, আমরা তাঁদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটে।” তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতে যেন ফ্যাসিস্টরা আর কখনো বাংলাদেশের মাটিতে শেকড় গাড়তে না পারে, এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।”

দিনের অন্যান্য আয়োজনে ছিল শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনে দুপুর ১২টায় শিশু কিশোর কাউন্সিলের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী। মোট পাঁচটি গ্রুপে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় জাতীয় পতাকা, গণদাবি, পানির গুরুত্ব, ‘রক্তাক্ত জুলাই’ ও ‘বিজয় ২৪’-এর ওপর শিশুদের আঁকা চিত্র প্রদর্শিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. জি. এম. মুজিবর রহমান।

সন্ধ্যা ৭.৩০টায় অনুষ্ঠিত হয় ডিবেটিং সংঘ আয়োজিত বিতর্ক প্রতিযোগিতার ফাইনাল। বিতর্কের বিষয় ছিল “জুলাই পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে আর কখনো ফ্যাসিজম ফিরে আসতে পারবে না।” প্রতিযোগিতা শেষে ‘জুলাই আন্দোলন’ বিষয়ক ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। চিত্রাঙ্কনে আলভিনা আক্তার চন্দ্রিমা, সারা হোসেন, রামিসা জাহান রোজা, তাহরিন হাসান দীপ্ত এবং জান্নাত জাহান প্রথম পুরস্কার লাভ করেন। ভিডিও বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে বাকৃবি সাংবাদিক সমিতি।

পুরো আয়োজনে অংশ নেন ডিন কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দ, রেজিস্ট্রার, ট্রেজারার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, প্রক্টর, বিভাগীয় প্রধানগণ, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের মানুষ।

দিনটি শেষে সবার মুখে ছিল একটাই প্রত্যয়—এই বিজয় যেন হয় দীর্ঘস্থায়ী, ফ্যাসিজম যেন আর কখনো ফিরে না আসে।