সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

থানায় থানায় দেনদরবার করে বেড়াতেন চাঁদাবাজ রিয়াদ

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:২৯:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫ ১০৪ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

রাজধানীর গুলশানে আওয়ামী লীগের সাবেক নারী সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তারের বাড়িতে চাঁদা দাবির ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান রিয়াদ শুধু গুলশান নয়, বনানী ও মিরপুরসহ রাজধানীর একাধিক এলাকায় চাঁদাবাজি ও দেনদরবারে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গুলশান থানা পুলিশের তথ্যমতে, রিয়াদ নিজেকে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ও ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’ নেতা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন থানায় গিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে দেনদরবার করছেন। সঙ্গে ছিলেন আরও ১০-১২ জন তরুণ-তরুণী, যারা রিয়াদের কথায় সায় দিচ্ছিলেন।

গুলশান থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, “গুলশান ছাড়াও বনানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা মৌখিকভাবে রিয়াদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

গুলশানে চাঁদাবাজির ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও ঘটনার সময় পালিয়ে যান কাজী গৌরব ওরফে অপু। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সর্বাধিক আলোচিত আসামি রিয়াদের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগে। মাত্র এক বছর আগেও তার বাবা রিকশা চালাতেন এবং পরিবারটি ভাঙা ঘরে বসবাস করত। কোরবানির ঈদে কখনো গরু কিনতে পারত না। অথচ এবার তাদের বাড়ি হয়েছে পাকা, আর কোরবানিতে কেনা হয়েছে দেড় লাখ টাকার গরু। বিষয়টি গ্রামে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রিয়াদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে আলোচনায় আসে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির দুই ভাই সাকাদাউন সিয়াম ও সাদমান সাদাব। তারাও গুলশানের ঘটনায় গ্রেপ্তার হন। জানা গেছে, সিয়াম সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প কমিটির সদস্য ছিলেন।

এই দুই ভাইয়ের বাবা এস এম কবিরুজ্জামান রাজশাহীর একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে মাত্র সাড়ে ছয় হাজার টাকা বেতনে চাকরি করেন। তারা রাজশাহী থেকে ঢাকায় এসে পড়াশোনা শুরু করেন এবং একসময় টিউশনি করে চলতেন। তবে ৫ আগস্টের পর সেই টিউশনিও ছেড়ে দেন।

পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্তে এই চক্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত মিলেছে। পুরো ঘটনার পেছনে একটি সংগঠিত প্রতারক চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

থানায় থানায় দেনদরবার করে বেড়াতেন চাঁদাবাজ রিয়াদ

আপডেট সময় : ০৩:২৯:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫

 

রাজধানীর গুলশানে আওয়ামী লীগের সাবেক নারী সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তারের বাড়িতে চাঁদা দাবির ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান রিয়াদ শুধু গুলশান নয়, বনানী ও মিরপুরসহ রাজধানীর একাধিক এলাকায় চাঁদাবাজি ও দেনদরবারে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গুলশান থানা পুলিশের তথ্যমতে, রিয়াদ নিজেকে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ও ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’ নেতা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন থানায় গিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে দেনদরবার করছেন। সঙ্গে ছিলেন আরও ১০-১২ জন তরুণ-তরুণী, যারা রিয়াদের কথায় সায় দিচ্ছিলেন।

গুলশান থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, “গুলশান ছাড়াও বনানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা মৌখিকভাবে রিয়াদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

গুলশানে চাঁদাবাজির ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও ঘটনার সময় পালিয়ে যান কাজী গৌরব ওরফে অপু। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সর্বাধিক আলোচিত আসামি রিয়াদের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগে। মাত্র এক বছর আগেও তার বাবা রিকশা চালাতেন এবং পরিবারটি ভাঙা ঘরে বসবাস করত। কোরবানির ঈদে কখনো গরু কিনতে পারত না। অথচ এবার তাদের বাড়ি হয়েছে পাকা, আর কোরবানিতে কেনা হয়েছে দেড় লাখ টাকার গরু। বিষয়টি গ্রামে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রিয়াদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে আলোচনায় আসে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির দুই ভাই সাকাদাউন সিয়াম ও সাদমান সাদাব। তারাও গুলশানের ঘটনায় গ্রেপ্তার হন। জানা গেছে, সিয়াম সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প কমিটির সদস্য ছিলেন।

এই দুই ভাইয়ের বাবা এস এম কবিরুজ্জামান রাজশাহীর একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে মাত্র সাড়ে ছয় হাজার টাকা বেতনে চাকরি করেন। তারা রাজশাহী থেকে ঢাকায় এসে পড়াশোনা শুরু করেন এবং একসময় টিউশনি করে চলতেন। তবে ৫ আগস্টের পর সেই টিউশনিও ছেড়ে দেন।

পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্তে এই চক্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত মিলেছে। পুরো ঘটনার পেছনে একটি সংগঠিত প্রতারক চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।