নিভে গেল হাদীসের দিগন্তে জ্বলজ্বলে প্রদীপ
- আপডেট সময় : ০৫:৪৩:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫ ১৭১ বার পড়া হয়েছে

আজহারের আকাশ আজ শোকমগ্ধ, বাতাসে বিষণ্ণতার সুর। লাখো শিক্ষার্থী , আলেম ও মুহাদ্দিসের হৃদয়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। নিভে গেছে হাদীসের এক জ্যোতিষ্ক, স্তব্ধ হয়ে গেছে ইলমে নববীর এক দীপ্ত মিনার।
বর্তমান যুগে আমিরুল মুমিনীন ফিল হাদীস খ্যাত, ইলমে নববীর সেই অনন্য ধারক, হাদীস বিজ্ঞানের নক্ষত্রপুঞ্জে জ্বলজ্বলে উজ্জ্বল নক্ষত্র, লক্ষাধিক হাদীসের সনদসহ হাফিজ, বিশ্বের শ্রেষ্ঠ শাইখুল মুহাদ্দিসীন, ড. সাইয়্যেদ আহমদ ওমর হাশিম (রহিমাহুল্লাহ) — আজ ইন্তেকাল করেছেন।
তিনি ছিলেন আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, হাদীস অনুষদের সাবেক ডিন, এবং গত বছর দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় “বর্তমান মুসলিম বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মানব” সম্মানে ভূষিত হন।
যার নাম উচ্চারিত হলেই হৃদয় শ্রদ্ধায় কেঁপে উঠে , যার দারসে উপস্থিত হয়ে মনে হতো— আমরা যেন নববী যুগের সেই সোনালি প্রভাতের আলোয় স্নান করছি।
তিনি ছিলেন এক জীবন্ত সানাদ, হাদীস বিজ্ঞানের জীবন্ত ইতিহাস।
তাঁর পিতার স্বপ্নে প্রাপ্ত রাসূলুল্লাহ (স.)- এর নির্দেশে
তিনি জীবন উৎসর্গ করেছিলেন হাদীসের সেবায়। ইলমে নববীর প্রচার ও সংরক্ষণেই কেটেছে তাঁর সমগ্র জীবন।
তাঁর কণ্ঠে হাদীসের বাণী ছিল নূরের মতো বিশুদ্ধ, সওগাতের মতো পবিত্র।
তিনি ছিলেন ফায়যুল বারী ফি শারহিল বুখারী-এর প্রণেতা— যা হাদীস শাস্ত্রে তাঁর অনন্য অবদানের উজ্জ্বল সাক্ষ্য।
তাঁর বিনয় ছিল সমুদ্রের গভীরতার মতো, আর জ্ঞান ছিল বাহরুল ইলমের প্রতিধ্বনি। রাসূলুল্লাহ (স.)- এর নাম উচ্চারণ করলেই তাঁর নয়ন সিক্ত হয়ে উঠত। স্বপ্নে বহুবার তিনি প্রিয় নবীর সাক্ষাৎ লাভ করেছেন – এ যেন তাঁর জীবনের আধ্যাত্মিক মুকুট।
হায়! আজ আমরা সেই নূরানী মুখ থেকে আর কোনো দারস শুনতে পাব না। হুইলচেয়ারে বসে থেকেও তিনি বিশ্বব্যাপী দারস ও দাওয়াতের আলো ছড়িয়েছেন, দুনিয়াবী স্বার্থের বিন্দুমাত্র চিন্তা না করে। সারাজীবন উৎসর্গ করেছেন শুধু আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (স.)- এর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের ওস্তাদকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন, তাঁর কবরকে নূরে ভরিয়ে দিন, আর তাঁর রেখে যাওয়া ইলমের স্রোতধারা যেন চিরদিন মুসলিম উম্মাহর প্রাণে প্রবাহিত থাকে। আমিন, ইয়া রাব্বাল ‘আলামিন।
এসইউটি/
















