উম্মাহর আধ্যাত্মিক রাহবর ও পথপ্রদর্শক শাপলা আন্দোলনের কিংবদন্তি মহানায়ক
বাংলার শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ.-এর ইন্তেকালের ৫ বছর পূর্ণ
- আপডেট সময় : ০৮:২৬:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২১৩ বার পড়া হয়েছে

আজ থেকে পাঁচ বছর আগে, ২০২০ ইং সনের ১৮ই সেপ্টেম্বর (৫ই সফর ১৪৪২ হিজরী) বাংলাদেশের ইসলামী অঙ্গনের সর্বজনস্বীকৃত আধ্যাত্মিক রাহবর, আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার রূপকার ও সুযোগ্য সুদক্ষ মুহতামিম, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আমীর, উম্মাহর আধ্যাত্মিক রাহবর ও পথপ্রদর্শক, শাপলা আন্দোলনের কিংবদন্তি মহানায়ক, শাগরিদে মাদানী বাংলার শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ. এক ন্যাক্কারজনক ঘটনার রাজ-সাক্ষী হয়ে আমাদের থেকে চিরবিদায় নিয়েছিলেন। মুহূর্তেই থমকে দাঁড়ায় সবকিছু। যেন চারিদিকে সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে।
দেখতে দেখতে আজ শায়েখের ইন্তেকালের পাঁচটি বছর পূর্ণ হয়ে গেলো।
শায়খ রহ. এর চলে যাওয়ার শূন্যতা আমাদের জন্য অপূরণীয়। ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় জন্ম নেওয়া বাংলার শায়খুল ইসলাম ছোটবেলা থেকেই ইসলামী শিক্ষার প্রতি প্রবল অনুরাগী ছিলেন। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে তিনি হাটহাজারী মাদরাসায় ভর্তি হন এবং পরবর্তীতে ভারতের দারুল উলূম দেওবন্দে গমন করে বিশ্বখ্যাত আলেম, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সিপাহসালার ও সফল মহানায়ক আওলাদে রাসূল ﷺ হযরত হুসাইন আহমদ মাদানী রহ.-এর খাছ শাগরিদ ও খলিফা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
বাংলাদেশে ফিরে এসে তিনি দীর্ঘ প্রায় ৬০ বছর হাটহাজারী মাদরাসায় হাদিসের দরস প্রদান করেছেন। হাটহাজারী মাদরাসার মুহতামিম হওয়ার পর সুদক্ষ পরিচালনার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ কওমী মাদরাসা শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে রূপান্তরিত করেন। শায়েখ রহ. দেশের হাজার হাজার মাদরাসা, মসজিদ ও দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।
বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ, বাংলাদেশ তালীমুল কুরআন (নূরানী) শিক্ষা বোর্ড ও আল-হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ছিলেন। কওমী সনদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির পেছনে তাঁর অক্লান্ত শ্রম ও নেতৃত্বে অতুলনীয় ভূমিকা রেখেছেন। কওমী শিক্ষা ব্যবস্থার ঐক্য প্রতিষ্ঠা, সংস্কার ও উন্নয়নে তিনি ছিলেন অবিচল অগ্রদূত।
১৯ই জানুয়ারি ২০০৯ ইং সনে প্রতিষ্ঠিত হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আমীর ছিলেন তিনি। শায়েখের নেতৃত্বে ঐতিহাসিক শাপলার মহা-আন্দোলন সফল হয়। যতদিন শাপলা, শাহবাগ, জাগরণ মঞ্চ, বাংলাদেশের অস্তিত্ব বহাল থাকবে, ততদিন একটা নাম গর্বভরে উচ্চারিত হবেই—(“সেই জাগরণী নাম”) বাংলার শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ.।
শাহবাগের নাস্তিক্যপাড়ায় যখন তোলপাড়, সারাদেশ যখন অস্থির, কোন পথে এগুচ্ছে বাংলাদেশ তা যখন অজানা, ঠিক তখনই শায়েখ রহ. এর আহ্বানে সমগ্র বাংলাদেশের ইতিহাসের গতিপথ পাল্টে গিয়েছিল।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ঈমান ও আকিদা রক্ষার সংগ্রামে অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছে। শিরক-বেদআত প্রতিরোধ, ইসলামী বিরোধী অপপ্রচার, নাস্তিক-মুরতাদ অপশক্তির বিরুদ্ধে এক বজ্রকণ্ঠের নাম হিসাবে দেশ ও দ্বীনের স্বার্থে তাঁর ভূমিকা সর্বজনবিদিত।
শায়খুল ইসলাম রহ. ২০২০ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর ইন্তেকাল করেন। শায়েখের ইন্তেকালে গোটা দেশ শোকাহত হয়। লক্ষ লক্ষ মানুষের অংশগ্রহণে ঐতিহাসিক জানাজা অনুষ্ঠিত হয় উম্মুল মাদারিস হাটহাজারী মাদরাসায়। আজ ৫ম ইন্তেকাল বার্ষিকীতে আমরা শায়েখ রহ. কে স্মরণ করি গভীর শ্রদ্ধা, ভক্তি ও ভালোবাসায়। শায়েখ রহ. ছিলেন আমল, দাওয়াত ও নেতৃত্বের আলোকবর্তিকা। শায়েখের রেখে যাওয়া প্রতিষ্ঠান, শাগরিদ, খোলাফা এবং কর্মধারা আজও আমাদের মাঝে বেঁচে আছে।
শায়খুল ইসলাম রহ. এর মৃত্যুকালের ন্যাক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যারা জড়িত ছিল এবং যারা এই সন্ত্রাসী হামলাকে অস্বীকার করে বা তাদের পক্ষাবলম্বন করে কথা বলে, তাদের উপর আল্লাহর লানত বর্ষিত হোক। শায়খুল ইসলাম রহ. যদি প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর ওলি হয়ে থাকেন তাহলে তাদের (মদদদাতা বা সাপোর্টদাতাদের) পরিবার, মা, বাবা, সন্তান (ছেলে-মেয়ে) এমনকি তাদের প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পর্যন্ত অভিশপ্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়বে। ওগো আল্লাহ, তাদের সবার জীবন অভিশপ্ত করে তুলুন। তাদের দুনিয়া-আখেরাত সব ধ্বংস করে দিন—আমিন।
আল্লাহ তায়ালার শাহী দরবারে শায়েখের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহ তায়ালা শায়েখ রহ. কে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন। নাওয়ারুল্লাহু মারক্বাদাহ—আমীন।
● মুহাম্মদ আতিকুর রহমান আজিজী, ফাযেল: দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসা।
এসইউটি/
















