তৃণমূল থেকে জননেতা: মাওলানা সাইফুল ইসলাম ইয়াহইয়া
- আপডেট সময় : ০৭:১৯:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৩৯৬ বার পড়া হয়েছে

মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা ও জুড়ী) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মাওলানা সাইফুল ইসলাম ইয়াহইয়া সংগঠনের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও আমিরাত শাখার সভাপতি।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিগত ১৭ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থী তালিকায় তার নাম ঘোষণা করেন আমীরে মজলিস আল্লামা মামুনুল হক। আলহাজ্ব মাওলানা সাইফুল ইসলাম ইয়াহইয়া শিক্ষা, ধর্মীয় দাওয়াহ, ব্যবসা, সমাজসেবা ও রাজনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন।
মাওলানা সাইফুল ইসলাম ইয়াহইয়া মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের মুর্শিবাদকুরা গ্রামে ১৯৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাক, যিনি একজন সফল ব্যবসায়ী ছিলেন এবং বর্তমানে দাওয়াতি তাবলিগের সাথে যুক্ত আছেন। তাঁর দাদা মরহুম মৌলভী আকরাম আলী (রহ.) ছিলেন খোদাভীরু ও দ্বীনদার ব্যক্তিত্ব, যার তত্ত্বাবধানে ইয়াহইয়া ছোটবেলা থেকেই দ্বীনি শিক্ষা অর্জন করেন। তিনি পারিবারিক জীবনে পাঁচ পুত্র সন্তানের জনক।
প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় নিজ গ্রামের মুর্শিবাদকুরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে বাহাদুরপুর জালালীয়া মাদরাসা, হাকালুকি দারুসসুন্নাহ মোহাম্মদিয়া মাদরাসা এবং মৌলভীবাজারের জামেয়া হেমায়াতুল ইসলাম রাজনগরে অধ্যয়ন করেন।
পরবর্তীতে সিলেটের জামিয়া মাদানিয়া কাজির বাজার থেকে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার অধীনে ফজিলত (স্নাতক) ও তাকমিল ফিল হাদিস (মাস্টার্স) সম্পন্ন করেন। তিনি বাংলাদেশ কোরআন শিক্ষা প্রশিক্ষণ বোর্ড থেকে ক্বিরাতের সর্বোচ্চ সনদ অর্জন করেন। কিছুদিন ভারতের দারুল উলূম দেওবন্দে হাদিসের দারসে অংশগ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জামেয়া বায়তুল আমানে মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদের তত্ত্বাবধানে তাখাসসুস ফিল ইফতা অধ্যয়নরত। এছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ট্যুরিজম ও বিজনেসে দুটি ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেছেন।
শিক্ষাজীবন শেষে একটি ক্যাডেট স্কুল ও মাদরাসায় শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে ব্যবসায় মনোনিবেশ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হজ্জ-উমরাহ ট্রাভেল এজেন্সি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে তিনি আরব আমিরাত, বাংলাদেশ, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রে “লু’লু আল মারজান ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরিজম এলএলসি” পরিচালনা করছেন। এছাড়া সাইফ আল হায়াত টেকনিক্যাল কোম্পানি ও তাহনুন’স এলএলসি’র চেয়ারম্যান।
তিনি সিলেট শাহপরান বাইপাসে একটি আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান “মাদরাসাতুল কাওনাইন ইন্টারন্যাশনাল” প্রতিষ্ঠা করেছেন, যেখানে আরবি ও ইংরেজি শিক্ষার সমন্বয়ে দেশ-বিদেশের ছাত্ররা পড়াশোনা করছে। এছাড়া তিনি মা’হাদুল কাওনাইন মডেল মক্তব শিক্ষা কার্যক্রমের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, জামেয়া তা’লিমুল কোরআন বালিকা মাদরাসার ট্রাস্টি এবং একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত আছেন।
তিনি এনটিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান পিএইচপি কোরআনের আলো-এর বিচারক ছিলেন। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতে ATA- ট্রাভেল-ট্যুরিজম-টাইপিং অ্যাসোসিয়েশন-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বাংলাদেশ সমিতির স্থায়ী কমিটির সদস্য, বড়লেখা সমিতি আমিরাতের সাধারণ সম্পাদক এবং সিলেটের কাওনাইন টাওয়ার ও ইউনিট হাউজিং প্রকল্পের সাথে জড়িত।
ব্যবসায়িক ও সামাজিক কাজে তিনি মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, এশিয়া ও আমেরিকার অসংখ্য দেশ ভ্রমণ করেছেন। তার ভ্রমণ তালিকায় রয়েছে— ওমান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সৌদি আরব, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, কিরগিজস্তানসহ বহু দেশ। এসব অভিজ্ঞতা তাকে উন্নয়নমুখী রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে সহায়তা করেছে।
মাওলানা সাইফুল ইসলাম ইয়াহইয়া মরহুম আমীরে মজলিস প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমান (রহ.) এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মৌলভীবাজার জেলা শাখার আমৃত্যু সভাপতি মরহুম মাওলানা খলিলুর রহমান রাজনগরী (রহ.)-এর অত্যন্ত স্নেহভাজন ছিলেন। রাজনৈতিক ময়দানে ছাত্রজীবন থেকেই ইসলামী ছাত্র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। তিনি খেলাফত প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের একজন নিবেদিত প্রাণ।
ছাত্র জীবনে তিনি বিভিন্ন শাখায় ও ইউনিটে ছাত্র মজলিসের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে গণ মানুষের সংগঠন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের বড়লেখা উপজেলা শাখার সমাজকল্যাণ সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদক, আন্তর্জাতিক শাখা আমিরাতের সহ-সভাপতি এবং বর্তমানে আমিরাত শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বড়লেখা উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে হারিয়ে দেওয়া হয় এবং খুব অল্প ভোটের ব্যবধানে তিনি পরাজিত হন। এর পরও তিনি দমে যাননি, নিঃশব্দে করে গেছেন সাংগঠনিক কাজ।
তৃণমূল পর্যায়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে নতুন করে সংগঠিত করতে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে গঠিত হচ্ছে নতুন কমিটি। এতে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজ উপজেলা বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলায় নিয়মিত শাখাসমূহের বৈঠক, সভা-সমাবেশ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে চলেছেন। তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় তৃণমূলে রিকশা প্রতীককে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মুফতী হিফজুর রহমান হেলাল বলেন, মাঠপর্যায়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে সংঘটিত করতে তাঁর কার্যক্রম প্রশংসনীয়। বড়লেখা-জুড়ী উপজেলায় তাঁর মতো একজন তরুণ, শিক্ষিত ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাকে আমরা এমপি হিসেবে দেখতে চাই।
এছাড়াও তিনি সাইফুল ইসলাম ইয়াহইয়া শিক্ষা সেবা আয়োজক কমিটি এবং বঞ্চিত গ্রামবাংলা সোসাইটি নামে দুটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছেন। এর মাধ্যমে শিক্ষা, চিকিৎসা, দারিদ্র বিমোচন, ঘরবাড়ি নির্মাণ, ত্রাণ ও শীতবস্ত্র বিতরণ, এতিম মেয়েদের বিবাহে সহায়তা এবং মসজিদ-মাদ্রাসায় সহযোগিতা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব ও স্থানীয় জনতার দাবিতে এবার তিনি মৌলভীবাজার-১ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি বলেন, আল্লামা আজিজুল হক (রহ.), আল্লামা হাবিবুর রহমান (রহ.), আল্লামা ওবায়দুল হক এমপি (রহ.), আল্লামা নেজাম উদ্দীন (রহ.), আল্লামা জুবায়ের আহমেদ আনসারী (রহ.) এবং আল্লামা খলিলুর রহমান মুহাদ্দিসে রাজনগরী (রহ.)-এর রেখে যাওয়া আমানত রিকশা প্রতীককে বিজয়ী করা তার লক্ষ্য।
তিনি বড়লেখা ও জুড়ীর জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমার জীবন ও যৌবন মানবতার কল্যাণে উৎসর্গ করেছি। এখন আপনাদের ভালোবাসা, দোয়া ও রায় প্রয়োজন। আসুন, রিকশা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করে রাষ্ট্রীয় এবং উন্নয়ন সুবিধাবঞ্চিত মৌলভীবাজার-১ তথা আমাদের বড়লেখা ও জূড়ী উপজেলাকে একটি মডেল সংসদীয় আসনে পরিণত করি।”
এসইউটি/















