সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

আফগানিস্তানে গোপন নারীদের বিউটি পার্লার বন্ধের নির্দেশ তালেবানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৪১:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫ ১০৮ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

আফগানিস্তানে গোপনে পরিচালিত নারীদের সব বিউটি পার্লার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে তালেবান সরকার। এক ঘোষণায় জানানো হয়েছে, এক মাসের মধ্যে এসব পার্লার বন্ধ না হলে মালিক ও কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালেবান সরকারের দাবি, নারীদের জন্য বিউটি পার্লার ইসলামী শরিয়াহবিরোধী, তাই এগুলো চালু থাকতে দেওয়া যাবে না। এতে জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হিসেবে পার্লার চালানো নারীরা নতুন করে ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

২০২৩ সালে আফগানিস্তানে আনুষ্ঠানিকভাবে সব বিউটি পার্লার বন্ধ করে দেয় তালেবান। এতে প্রায় ১২ হাজার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায় এবং অন্তত ৫০ হাজার নারী চাকরি হারান। তবে স্থানীয়ভাবে লুকিয়ে কিছু পার্লার চালু ছিল। এবার সেগুলোও বন্ধে কঠোর অবস্থানে গেল তালেবান প্রশাসন।

স্থানীয় কমিউনিটি নেতা ও প্রবীণদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, গোপন পার্লারের খোঁজ দিয়ে মালিকদের পুলিশের হাতে তুলে দিতে।

৩৮ বছর বয়সী এক নারী, ফ্রেশতা (ছদ্মনাম), জানান—২০২৩ সালে পার্লার বন্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি লুকিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছিলেন। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। অসুস্থ স্বামী ও তিন সন্তানের ভরণপোষণ তার ওপর নির্ভরশীল।

তিনি বলেন, “যখন কোনো নারী আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হাসতেন, তার আনন্দ আমার আনন্দ হয়ে যেত। শুধু টাকার জন্য নয়, কাজের জন্যও খুশি হতাম। কিন্তু এখন ঝুঁকি এত বেশি যে হয়তো আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। অন্য কোনো কাজ জানি না, অথচ আমাদের অবস্থা খুব খারাপ।”

২০২১ সালের আগস্টে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে নারীদের ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তালেবান। নারীদের চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, মেয়েদের মাধ্যমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পড়াশোনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, তালেবান কার্যত নারীদের বিরুদ্ধে এক ধরনের “লিঙ্গভিত্তিক বর্ণবাদ” চালু করেছে। নারীরা এখন পার্কে যেতে পারেন না, জিম বা সেলুন ব্যবহার করতে পারেন না, পুরুষ অভিভাবক ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন না। এমনকি জনসমক্ষে তাদের কণ্ঠস্বর শোনাও প্রায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এসইউটি/

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

আফগানিস্তানে গোপন নারীদের বিউটি পার্লার বন্ধের নির্দেশ তালেবানের

আপডেট সময় : ১১:৪১:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

 

আফগানিস্তানে গোপনে পরিচালিত নারীদের সব বিউটি পার্লার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে তালেবান সরকার। এক ঘোষণায় জানানো হয়েছে, এক মাসের মধ্যে এসব পার্লার বন্ধ না হলে মালিক ও কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালেবান সরকারের দাবি, নারীদের জন্য বিউটি পার্লার ইসলামী শরিয়াহবিরোধী, তাই এগুলো চালু থাকতে দেওয়া যাবে না। এতে জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হিসেবে পার্লার চালানো নারীরা নতুন করে ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

২০২৩ সালে আফগানিস্তানে আনুষ্ঠানিকভাবে সব বিউটি পার্লার বন্ধ করে দেয় তালেবান। এতে প্রায় ১২ হাজার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায় এবং অন্তত ৫০ হাজার নারী চাকরি হারান। তবে স্থানীয়ভাবে লুকিয়ে কিছু পার্লার চালু ছিল। এবার সেগুলোও বন্ধে কঠোর অবস্থানে গেল তালেবান প্রশাসন।

স্থানীয় কমিউনিটি নেতা ও প্রবীণদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, গোপন পার্লারের খোঁজ দিয়ে মালিকদের পুলিশের হাতে তুলে দিতে।

৩৮ বছর বয়সী এক নারী, ফ্রেশতা (ছদ্মনাম), জানান—২০২৩ সালে পার্লার বন্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি লুকিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছিলেন। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। অসুস্থ স্বামী ও তিন সন্তানের ভরণপোষণ তার ওপর নির্ভরশীল।

তিনি বলেন, “যখন কোনো নারী আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হাসতেন, তার আনন্দ আমার আনন্দ হয়ে যেত। শুধু টাকার জন্য নয়, কাজের জন্যও খুশি হতাম। কিন্তু এখন ঝুঁকি এত বেশি যে হয়তো আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। অন্য কোনো কাজ জানি না, অথচ আমাদের অবস্থা খুব খারাপ।”

২০২১ সালের আগস্টে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে নারীদের ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তালেবান। নারীদের চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, মেয়েদের মাধ্যমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পড়াশোনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, তালেবান কার্যত নারীদের বিরুদ্ধে এক ধরনের “লিঙ্গভিত্তিক বর্ণবাদ” চালু করেছে। নারীরা এখন পার্কে যেতে পারেন না, জিম বা সেলুন ব্যবহার করতে পারেন না, পুরুষ অভিভাবক ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন না। এমনকি জনসমক্ষে তাদের কণ্ঠস্বর শোনাও প্রায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এসইউটি/