সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

গাজায় গণহত্যা বন্ধে ধর্মীয় নেতাদের উঠে দাঁড়ানোর আহ্বান মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের

আইবি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:১৫:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫ ১২৯ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

ইসরায়েলের গণহত্যার মুখে গাজার জন্য ধর্মীয় নেতাদের শুধু প্রচারে সীমাবদ্ধ না থেকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসতে আহ্বান জানিয়েছে মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ধর্মীয় নেতাদের এক সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়।

‘সংঘাত নিরসনে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা’ শীর্ষক এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ইসলাম, খ্রিস্টান, হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মসহ বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা সহিংসতা প্রতিরোধ, ধর্মীয় কূটনীতি, গাজায় চলমান গণহত্যা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় ধর্মীয় নেতাদের দায়িত্ব নিয়ে মতবিনিময় করেন।

মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের মহাসচিব শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল করিম আল-ইসা উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, এই সম্মেলন ধর্মীয় নেতাদের তাদের নিজ নিজ ধর্মের মূল্যবোধের প্রতি দায়িত্বশীল হতে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। সেই মূল্যবোধ বিশ্ব শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় কাজে লাগাতে হবে।

তিনি বলেন, “আজ গাজা উপত্যকায় যে গণহত্যা ও দুর্ভিক্ষ চলছে, তা মানবাধিকারের নীতির জন্য একটি ভয়াবহ নজির। জাতিসংঘের সার্বজনীন সনদ ঘোষণার পর থেকে বিশ্ব এমন পরিস্থিতি আর দেখেনি। দুঃখজনক হলেও সত্য, এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।”

আল-ইসা ধর্মীয় নেতাদের উদ্দেশে বলেন, শুধু প্রচারে সীমাবদ্ধ না থেকে তাদের সক্রিয়ভাবে শান্তি গঠনে এগিয়ে আসতে হবে এবং অনুসারীদের মানবিক মর্যাদা রক্ষার প্রতিশ্রুতির দিকে পরিচালিত করতে হবে।

সম্মেলনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীম বলেন, “প্রতিদিন শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে, ঘরবাড়ি ধ্বংস হচ্ছে, মানুষ বোমার নিচে মারা যাচ্ছে। এই পৃথিবীতে কী ঘটছে? আমাদের নৈতিক মূল্যবোধ ও বিশ্বাস রক্ষার কণ্ঠস্বর কোথায়? ধর্মীয় নেতাদের এখন আরও দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।”

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের আগ্রাসী যুদ্ধে গাজায় কমপক্ষে ৬২ হাজার ৮৯৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ আহত হয়ে চিকিৎসা না পেয়ে ও খাদ্যের অভাবে বহু মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন।

দখলদার ইসরায়েল গাজার অধিকাংশ অবকাঠামো ধ্বংস করেছে এবং চিকিৎসা সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে খাদ্য অবরোধ করায় অঞ্চলটিতে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে।

সম্মেলনে ৫৪টি দেশের প্রায় ১৫০ জন বিদেশি ধর্মীয় প্রতিনিধি এবং মোট প্রায় ১,৫০০ জন অতিথি অংশ নেন।

এসইউটি/

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

গাজায় গণহত্যা বন্ধে ধর্মীয় নেতাদের উঠে দাঁড়ানোর আহ্বান মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের

আপডেট সময় : ০৯:১৫:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫

 

ইসরায়েলের গণহত্যার মুখে গাজার জন্য ধর্মীয় নেতাদের শুধু প্রচারে সীমাবদ্ধ না থেকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসতে আহ্বান জানিয়েছে মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ধর্মীয় নেতাদের এক সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়।

‘সংঘাত নিরসনে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা’ শীর্ষক এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ইসলাম, খ্রিস্টান, হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মসহ বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা সহিংসতা প্রতিরোধ, ধর্মীয় কূটনীতি, গাজায় চলমান গণহত্যা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় ধর্মীয় নেতাদের দায়িত্ব নিয়ে মতবিনিময় করেন।

মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের মহাসচিব শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল করিম আল-ইসা উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, এই সম্মেলন ধর্মীয় নেতাদের তাদের নিজ নিজ ধর্মের মূল্যবোধের প্রতি দায়িত্বশীল হতে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। সেই মূল্যবোধ বিশ্ব শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় কাজে লাগাতে হবে।

তিনি বলেন, “আজ গাজা উপত্যকায় যে গণহত্যা ও দুর্ভিক্ষ চলছে, তা মানবাধিকারের নীতির জন্য একটি ভয়াবহ নজির। জাতিসংঘের সার্বজনীন সনদ ঘোষণার পর থেকে বিশ্ব এমন পরিস্থিতি আর দেখেনি। দুঃখজনক হলেও সত্য, এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।”

আল-ইসা ধর্মীয় নেতাদের উদ্দেশে বলেন, শুধু প্রচারে সীমাবদ্ধ না থেকে তাদের সক্রিয়ভাবে শান্তি গঠনে এগিয়ে আসতে হবে এবং অনুসারীদের মানবিক মর্যাদা রক্ষার প্রতিশ্রুতির দিকে পরিচালিত করতে হবে।

সম্মেলনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীম বলেন, “প্রতিদিন শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে, ঘরবাড়ি ধ্বংস হচ্ছে, মানুষ বোমার নিচে মারা যাচ্ছে। এই পৃথিবীতে কী ঘটছে? আমাদের নৈতিক মূল্যবোধ ও বিশ্বাস রক্ষার কণ্ঠস্বর কোথায়? ধর্মীয় নেতাদের এখন আরও দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।”

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের আগ্রাসী যুদ্ধে গাজায় কমপক্ষে ৬২ হাজার ৮৯৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ আহত হয়ে চিকিৎসা না পেয়ে ও খাদ্যের অভাবে বহু মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন।

দখলদার ইসরায়েল গাজার অধিকাংশ অবকাঠামো ধ্বংস করেছে এবং চিকিৎসা সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে খাদ্য অবরোধ করায় অঞ্চলটিতে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে।

সম্মেলনে ৫৪টি দেশের প্রায় ১৫০ জন বিদেশি ধর্মীয় প্রতিনিধি এবং মোট প্রায় ১,৫০০ জন অতিথি অংশ নেন।

এসইউটি/