সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

লাউয়াছড়ার হাতেম আলীর দুই ছেলেও এখন খ্রিস্টান

ইলিয়াছ আহমদ, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১০:৫০:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫ ১৫৫ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

শতাব্দীর স্মারক সিলেট মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া উদ্যান আমাদের নিকট শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত নয়; বরং বেহিসাব সুখ-দুঃখ মাখা গল্প আর ভাঙাগড়ার উপাখ্যানের সাক্ষী এই এলাকা। যে গল্প হৃদয়কে নাড়া দেয়, যে আখ্যান নিয়ে যায় ভাবনার ভিন্ন এক জগতে। যার সাথে ঈমান আর কুফর অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।

ঢাকা থেকে আগত বিদগ্ধ আলেমে দীন ইলিয়াস রিফায়ী (হাফি.)-কে নিয়ে আমরা লাউয়াছড়া সফর করি। তিনি একজন উম্মাহ-দরদী দাঈ ইলাল্লাহ। হৃদয়ে উম্মতের আকাশসম টান নিয়ে ছুটে এসেছেন রাজধানীর পথঘাট মাড়িয়ে।

আমাদের সফরাঞ্চল ছিল লাউয়াছড়ার খাসিয়া পুঞ্জিতে। সেখানে ৪০ পরিবারের বসবাস। তন্মধ্যে ৩৯টি খ্রিস্টান, মাত্র ১টি পরিবার মুসলিম। মুসলমান ব্যক্তির নাম হাতেম আলী। তিনি একজন খালিস আল্লাহওয়ালা মানুষ। লাউয়াছড়ার ভেতরে প্রবেশ করলে প্রথমে যে মসজিদটা পাওয়া যায়, সেটা হাতেম আলীর হাত ধরে নির্মিত হয়েছে। সার্বিক দেখাশোনা নিজেই করেন। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলো, হাতেম আলীর রাজু-সাজু নামের যে দু’জন ছেলে আছেন—তারা উভয়ই এখন খ্রিস্টান! বিয়েও করেছেন খ্রিস্টান মহিলাদের।

হাতেম আলীর ছেলে রাজুর সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হয়। বড়সড় একটা গির্জার ঠিক সম্মুখে তার ছোটখাটো একটি দোকান। বাইরে কাজকর্ম সেরে এই দোকানেই রাজুর অবসর সময় কাটে। আমাদের নিকট তার খ্রিস্টান হওয়ার বিষয়টা গোপন করার চেষ্টা করলেও আদতে ঈমানের মহা বৈভব আর অবশিষ্ট নেই—তার ললিত হৃদয়ে। তাকে তার বাবার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে বলে, ‘আমি এখন বাবার সাথে নেই।’

হাতেম আলীর ছেলে সাজুর ঘরে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার স্ত্রী বললেন, ‘আমি বাংলা বুঝি না’—বলে আমাদের কাছে যেতে নিষেধ করছিলেন। পরে তার স্বামীর জন্য হাদিয়া বুঝিয়ে দিয়ে, ফোন নম্বর নিয়ে আসা হয়।

ঠিক পাশের ঘর থেকে আকস্মিক এক মহিলা আমাদের দেখে বলে ওঠেন, ‘আমি তো আপনাদের মত মুসলমান। আমার ছেলের নাম রুহান, মুহাম্মদ রুহান।’ মহিলা বড় আক্ষেপ নিয়ে সরলভাবে বলেন, ‘এখানে অনেক এনজিও আসে, তাদেরকে অনেক কিছু দিয়ে যায়, কিন্তু আমাদের নিকট কেউ আসে না!’ তখন তার জন্যও হাদিয়া প্রদান করা হয়। তার হাসিতে রাজ্যের খুশি ছড়িয়ে পড়ে খাসিয়া পুঞ্জিতে। ঈমানি আলোকরশ্মি ঠিকরে পড়ছিল তার অবয়বজুড়ে।

সূর্য তার সমস্ত উত্তাপ বিস্তার করেছে ঘন অরণ্যে। গাছগাছালির ডালপালা ভেদ করে আসা আলোতে পাতাগুলো চিকচিক করছে। আমরা লাউয়াছড়ার দীর্ঘ রেললাইন পেরিয়ে মাগুরছড়া পুঞ্জিতে এসে হাজির হই। মাগুরছড়াতে বাস করে ৬৫ পরিবার। এখানে সবাই খ্রিস্টান। ঘুরে ঘুরে তাদের দেখা হলো, কয়েকজনের সাথে আলাপের সুযোগও হলো। সবকিছুর পর তাদের মধ্যে এক ভিন্ন সারল্য মনোভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।

দ্বিপ্রহরের পাপিয়া এসে উঁকি দিলে, আমরা ব্যথাহত ভগ্নহৃদয় নিয়ে ফিরে আসি।

 

শেষকথা:

যেখানে অন্ধকার বেশি, আলো সেখানে টিকে থাকতে পারে না। কারণ দু’টিতে রয়েছে সীমাহীন বৈপরীত্য। হাতেম আলীর দুই ছেলে হেরে গেল এমনই অন্ধকারের কাছে। নিজেদের ধরে রাখতে পারেনি ঈমানের পরিশুদ্ধ আঙিনায়। কিন্তু তারা এমনি-এমনিই ইসলাম ত্যাগ করেছে, বিষয়টা আদৌ এমন নয়। এর পেছনে রয়েছে কতশত মেহনত আর লোলুপতার ঘৃণ্য অধ্যায়। অথচ দুঃখজনক হলো, আমাদের কোনো মেহনত নেই। যেখানে কথা ছিল দাওয়াতি কাজের মাধ্যমে অমুসলিমদের মুসলমান বানানো, সেখানে চোখের সামনে মুসলমানরাই ঈমান হারিয়ে বেদীন হয়ে যাচ্ছে। আফসোস হলো, আমাদের কোনো আফসোস নাই!

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

লাউয়াছড়ার হাতেম আলীর দুই ছেলেও এখন খ্রিস্টান

আপডেট সময় : ১০:৫০:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

 

শতাব্দীর স্মারক সিলেট মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া উদ্যান আমাদের নিকট শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত নয়; বরং বেহিসাব সুখ-দুঃখ মাখা গল্প আর ভাঙাগড়ার উপাখ্যানের সাক্ষী এই এলাকা। যে গল্প হৃদয়কে নাড়া দেয়, যে আখ্যান নিয়ে যায় ভাবনার ভিন্ন এক জগতে। যার সাথে ঈমান আর কুফর অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।

ঢাকা থেকে আগত বিদগ্ধ আলেমে দীন ইলিয়াস রিফায়ী (হাফি.)-কে নিয়ে আমরা লাউয়াছড়া সফর করি। তিনি একজন উম্মাহ-দরদী দাঈ ইলাল্লাহ। হৃদয়ে উম্মতের আকাশসম টান নিয়ে ছুটে এসেছেন রাজধানীর পথঘাট মাড়িয়ে।

আমাদের সফরাঞ্চল ছিল লাউয়াছড়ার খাসিয়া পুঞ্জিতে। সেখানে ৪০ পরিবারের বসবাস। তন্মধ্যে ৩৯টি খ্রিস্টান, মাত্র ১টি পরিবার মুসলিম। মুসলমান ব্যক্তির নাম হাতেম আলী। তিনি একজন খালিস আল্লাহওয়ালা মানুষ। লাউয়াছড়ার ভেতরে প্রবেশ করলে প্রথমে যে মসজিদটা পাওয়া যায়, সেটা হাতেম আলীর হাত ধরে নির্মিত হয়েছে। সার্বিক দেখাশোনা নিজেই করেন। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলো, হাতেম আলীর রাজু-সাজু নামের যে দু’জন ছেলে আছেন—তারা উভয়ই এখন খ্রিস্টান! বিয়েও করেছেন খ্রিস্টান মহিলাদের।

হাতেম আলীর ছেলে রাজুর সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হয়। বড়সড় একটা গির্জার ঠিক সম্মুখে তার ছোটখাটো একটি দোকান। বাইরে কাজকর্ম সেরে এই দোকানেই রাজুর অবসর সময় কাটে। আমাদের নিকট তার খ্রিস্টান হওয়ার বিষয়টা গোপন করার চেষ্টা করলেও আদতে ঈমানের মহা বৈভব আর অবশিষ্ট নেই—তার ললিত হৃদয়ে। তাকে তার বাবার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে বলে, ‘আমি এখন বাবার সাথে নেই।’

হাতেম আলীর ছেলে সাজুর ঘরে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার স্ত্রী বললেন, ‘আমি বাংলা বুঝি না’—বলে আমাদের কাছে যেতে নিষেধ করছিলেন। পরে তার স্বামীর জন্য হাদিয়া বুঝিয়ে দিয়ে, ফোন নম্বর নিয়ে আসা হয়।

ঠিক পাশের ঘর থেকে আকস্মিক এক মহিলা আমাদের দেখে বলে ওঠেন, ‘আমি তো আপনাদের মত মুসলমান। আমার ছেলের নাম রুহান, মুহাম্মদ রুহান।’ মহিলা বড় আক্ষেপ নিয়ে সরলভাবে বলেন, ‘এখানে অনেক এনজিও আসে, তাদেরকে অনেক কিছু দিয়ে যায়, কিন্তু আমাদের নিকট কেউ আসে না!’ তখন তার জন্যও হাদিয়া প্রদান করা হয়। তার হাসিতে রাজ্যের খুশি ছড়িয়ে পড়ে খাসিয়া পুঞ্জিতে। ঈমানি আলোকরশ্মি ঠিকরে পড়ছিল তার অবয়বজুড়ে।

সূর্য তার সমস্ত উত্তাপ বিস্তার করেছে ঘন অরণ্যে। গাছগাছালির ডালপালা ভেদ করে আসা আলোতে পাতাগুলো চিকচিক করছে। আমরা লাউয়াছড়ার দীর্ঘ রেললাইন পেরিয়ে মাগুরছড়া পুঞ্জিতে এসে হাজির হই। মাগুরছড়াতে বাস করে ৬৫ পরিবার। এখানে সবাই খ্রিস্টান। ঘুরে ঘুরে তাদের দেখা হলো, কয়েকজনের সাথে আলাপের সুযোগও হলো। সবকিছুর পর তাদের মধ্যে এক ভিন্ন সারল্য মনোভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।

দ্বিপ্রহরের পাপিয়া এসে উঁকি দিলে, আমরা ব্যথাহত ভগ্নহৃদয় নিয়ে ফিরে আসি।

 

শেষকথা:

যেখানে অন্ধকার বেশি, আলো সেখানে টিকে থাকতে পারে না। কারণ দু’টিতে রয়েছে সীমাহীন বৈপরীত্য। হাতেম আলীর দুই ছেলে হেরে গেল এমনই অন্ধকারের কাছে। নিজেদের ধরে রাখতে পারেনি ঈমানের পরিশুদ্ধ আঙিনায়। কিন্তু তারা এমনি-এমনিই ইসলাম ত্যাগ করেছে, বিষয়টা আদৌ এমন নয়। এর পেছনে রয়েছে কতশত মেহনত আর লোলুপতার ঘৃণ্য অধ্যায়। অথচ দুঃখজনক হলো, আমাদের কোনো মেহনত নেই। যেখানে কথা ছিল দাওয়াতি কাজের মাধ্যমে অমুসলিমদের মুসলমান বানানো, সেখানে চোখের সামনে মুসলমানরাই ঈমান হারিয়ে বেদীন হয়ে যাচ্ছে। আফসোস হলো, আমাদের কোনো আফসোস নাই!