সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

কারাগারে ভয়ে বাংলায় লিখিনি, উর্দুতে দেড় হাজার পৃষ্ঠা লিখেছি: মাওলানা মামুনুল হক

আইবি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:০০:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫ ১২৩ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির (ইবনে শাইখুল হাদিস) মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, লেখালেখি একজন শিক্ষিত মানুষের মৌলিক যোগ্যতা হওয়া উচিত। এই যোগ্যতা ছাড়া জ্ঞানী মানুষের পূর্ণতা আসে না।

শুক্রবার (২২ আগস্ট) বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরামের যুগপূর্তি উৎসব ও লেখক সম্মিলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আমিরে মজলিস বলেন, একজন লেখকের কলম থেকে সমাজ সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একজন হাজি যদি লেখক হন, তবে তাঁর হজ সফর একটি মূল্যবান সফরনামায় রূপ নেয়, যা শত বছর পরও ইতিহাস হয়ে থাকে। আবার বহু মানুষ কারাগারে যায়, কিন্তু একজন লেখক কারাগারে গেলে জন্ম নেয় গুরুত্বপূর্ণ কারা-সাহিত্য। তখনই জানা যায় বন্দির অন্তর্জগৎ কেমন ছিল, শাসকের দমন-নিপীড়ন কীভাবে চলেছে, কিংবা চার দেওয়ালের ভেতরে তারা কী ভাবতো।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “২০১৩ সালে আমি ৮৩ দিন কারাগারে ছিলাম। তখন কারাগার থেকে বলছি নামে একটি বই লিখেছিলাম, যেখানে যারা কখনো কারাগারে যাননি তারা ভেতরের জীবনের বাস্তব ছবি দেখতে পারবেন।”

তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক কারাবাসে তিনি টানা ৩ বছর ১৫ দিন ছিলেন এবং প্রতিদিন লিখেছেন। কঠোর নজরদারির কারণে বাংলায় লেখা সম্ভব হয়নি, তবে উর্দুতে লিখে প্রায় দেড় হাজার পৃষ্ঠার পান্ডুলিপি তৈরি করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই লেখাগুলো বাংলায় অনূদিত হয়ে শিগগিরই পাঠকের সামনে আসবে। তাঁর ভাষায়, “সেই লেখায় সুসময়ের চিন্তা ও কঠিন সময়ের ভাবনা মিলেমিশে আছে। পাঠকেরা তখন আমাদের সততা ও দুর্বলতা যাচাই করতে পারবেন।”

নবীন লেখকদের উদ্দেশে আমিরে মজলিস বলেন, প্রত্যেককে সবসময় নিজেকে লেখক হিসেবে ভাবতে হবে। প্রতিটি অভিজ্ঞতা যেন একটি লেখায় রূপ নেয়। লেখক সত্তা যেন পরিস্থিতির চাপে ঝরে না পড়ে—এ দায়িত্ব লেখক নিজে যেমন বহন করবেন, তেমনি তাঁর চারপাশের সমাজও।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

কারাগারে ভয়ে বাংলায় লিখিনি, উর্দুতে দেড় হাজার পৃষ্ঠা লিখেছি: মাওলানা মামুনুল হক

আপডেট সময় : ১২:০০:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫

 

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির (ইবনে শাইখুল হাদিস) মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, লেখালেখি একজন শিক্ষিত মানুষের মৌলিক যোগ্যতা হওয়া উচিত। এই যোগ্যতা ছাড়া জ্ঞানী মানুষের পূর্ণতা আসে না।

শুক্রবার (২২ আগস্ট) বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরামের যুগপূর্তি উৎসব ও লেখক সম্মিলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আমিরে মজলিস বলেন, একজন লেখকের কলম থেকে সমাজ সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একজন হাজি যদি লেখক হন, তবে তাঁর হজ সফর একটি মূল্যবান সফরনামায় রূপ নেয়, যা শত বছর পরও ইতিহাস হয়ে থাকে। আবার বহু মানুষ কারাগারে যায়, কিন্তু একজন লেখক কারাগারে গেলে জন্ম নেয় গুরুত্বপূর্ণ কারা-সাহিত্য। তখনই জানা যায় বন্দির অন্তর্জগৎ কেমন ছিল, শাসকের দমন-নিপীড়ন কীভাবে চলেছে, কিংবা চার দেওয়ালের ভেতরে তারা কী ভাবতো।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “২০১৩ সালে আমি ৮৩ দিন কারাগারে ছিলাম। তখন কারাগার থেকে বলছি নামে একটি বই লিখেছিলাম, যেখানে যারা কখনো কারাগারে যাননি তারা ভেতরের জীবনের বাস্তব ছবি দেখতে পারবেন।”

তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক কারাবাসে তিনি টানা ৩ বছর ১৫ দিন ছিলেন এবং প্রতিদিন লিখেছেন। কঠোর নজরদারির কারণে বাংলায় লেখা সম্ভব হয়নি, তবে উর্দুতে লিখে প্রায় দেড় হাজার পৃষ্ঠার পান্ডুলিপি তৈরি করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই লেখাগুলো বাংলায় অনূদিত হয়ে শিগগিরই পাঠকের সামনে আসবে। তাঁর ভাষায়, “সেই লেখায় সুসময়ের চিন্তা ও কঠিন সময়ের ভাবনা মিলেমিশে আছে। পাঠকেরা তখন আমাদের সততা ও দুর্বলতা যাচাই করতে পারবেন।”

নবীন লেখকদের উদ্দেশে আমিরে মজলিস বলেন, প্রত্যেককে সবসময় নিজেকে লেখক হিসেবে ভাবতে হবে। প্রতিটি অভিজ্ঞতা যেন একটি লেখায় রূপ নেয়। লেখক সত্তা যেন পরিস্থিতির চাপে ঝরে না পড়ে—এ দায়িত্ব লেখক নিজে যেমন বহন করবেন, তেমনি তাঁর চারপাশের সমাজও।