রিমান্ড শেষে কারাগারে মাই টিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন
- আপডেট সময় : ০৮:২১:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫ ৯৭ বার পড়া হয়েছে

যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা আসাদুল হক বাবু হত্যা মামলায় রিমান্ড শেষে মাই টিভির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসির উদ্দিন সাথীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শনিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হাসানের আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির পরিদর্শক খান মো. এরফান আদালতে বলেন, নাসির উদ্দিন সাথী হত্যাকাণ্ডে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে জড়িত। সাংবাদিকতার অবস্থান ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি দলীয় স্বার্থে হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই-বাছাই চলছে।
তিনি আরও জানান, আসামি জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। তাই তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন।
নাসির উদ্দিন সাথীর আইনজীবী মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম জামিনের আবেদন করে বলেন, তার বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। মামলার বাদী নিজেই এফিডেভিট দিয়ে জানিয়েছেন, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আসামি করা হয়েছে এবং জামিনে আপত্তি নেই। তিনি আরও জানান, সাথী অসুস্থ এবং তিনি পলাতক হবেন না; বরং নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার সুযোগ তার প্রাপ্য।
রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী কাইয়ুম হোসেন নয়ন জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, এটি একটি গুরুতর হত্যা মামলা। আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। জামিন দিলে তদন্ত বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
সব পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে নাসির উদ্দিন সাথীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে বৈষম্যবিরোধী ‘জুলাই আন্দোলনে’ অংশ নেওয়ার সময় মো. আসাদুল হক বাবু গুলিবিদ্ধ হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর নিহতের বাবা জয়নাল আবেদীন ৩০ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনকে আসামি করা হয়। সেখানে নাসির উদ্দিন সাথী ২২ নম্বর এবং তার ছেলে তৌহিদ আফ্রিদি ১১ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি।
গত ১৮ আগস্ট গুলশান এলাকা থেকে নাসির উদ্দিন সাথীকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
















