সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

সিলেটে পাথর লুট: জড়িত বিএনপি, আ.লীগ, জামায়াত ও সমন্বয়কদের সিন্ডিকেট

আইবি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৩৫:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫ ১৫৫ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

<<আখলাকুস সাফা>>

সিলেটের শাহ আরেফিন টিলা—১৩৭ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই টিলা এখন অতীত। জায়গায় জায়গায় গর্ত, ধ্বংসস্তূপ ছাড়া আর কিছু নেই। ১৯৯৫ সালে আইন হওয়ার পরও ১৯৯৯ সালে সরকারিভাবে ইজারা দিয়ে শুরু হয় টিলা কেটে পাথর উত্তোলন। মামলা-মোকদ্দমায় কিছুদিন বন্ধ থাকলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আবার দেদারসে চলতে থাকে পাথর লুট। মাত্র এক বছরে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে প্রায় ৫০ ফুট উঁচু ঐতিহাসিক শাহ আরেফিন টিলা মাজার। শুধু এই টিলা থেকেই লুট হয়েছে শতকোটি টাকার পাথর।

যমুনা টেলিভিশনের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, এ ধ্বংসযজ্ঞের পেছনে রয়েছে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াতসহ সমন্বয়কদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বাবুল আহমদ বাবুল, ইসলমাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেবুল আহমদ, বিএনপি নেতা ইসমাঈল মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হুঁশিয়ার আলী, যুবলীগ সভাপতি ফয়জুর রহমান, জামায়াত কর্মী ইয়াকুব আলীসহ অন্তত ২০ জন ছিলেন সরাসরি জড়িত।

বাবুল ‘চেয়ারম্যান বাবুল’ নামে এলাকায় পরিচিত। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করলেও স্থানীয়দের দাবি, তিনিই অন্যতম হোতা। অপরদিকে জামায়াত কর্মী ইয়াকুব আলী স্বীকার করেছেন, তিনি পাথর কিনে পরিবহন ও বিক্রি করতেন। আওয়ামী লীগের যেসব নেতা লুটে জড়িত ছিলেন তারা এখন পলাতক। ক্ষমতায় থাকতে তারাই এগিয়ে ছিলেন বলে অভিযোগ।

স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন লুট ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। বরং পুলিশের বিরুদ্ধেই ট্রাক ও ট্রাক্টর থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। যমুনা টিভির হাতে আসা ফুটেজেও তা ধরা পড়ে।

৫ আগস্টের পর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাব উদ্দিন ও যুবদল নেতা সাজ্জাদ দুদু ছিলেন লাভের শীর্ষে। জেলা যুবদল নেতা বাহার আহমেদ রুহেল, উপজেলা যুবদল নেতা রজন মিয়া, গিয়াস মিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা দুলাল মিয়া, আমিনুল ইসলাম ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শাহাবুদ্দিনও যুক্ত ছিলেন।

লুটপাটে জড়িত ছিলেন আরও অন্তত ৫১ জন। তালিকায় আছেন জেলা যুবদল সদস্য মোস্তাকিম আহমেদ ফরহাদ, ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি আলিমুদ্দিন, উপজেলা বিএনপি নেতা হাজী কামাল, যুবদল কর্মী আজিজুল মাহমুদসহ বহু প্রভাবশালী। এমনকি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয়ে হুমায়ুন আহমেদ হুমন ও সাব্বিরের নামও এসেছে।

পরিবেশবাদী সংগঠন বেলা’র বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ সাহেদা আক্তার বলেন, “চেহারা পাল্টেছে, কিন্তু অবৈধ কাজ থামেনি।” তার মতে, প্রশাসন চোখের সামনে লুট চলতে দেখেও হাত গুটিয়ে বসে থেকেছে। জুলাইয়ের ফুটেজে দেখা গেছে, নদী থেকে পাথর তোলা হচ্ছে, পাশে দাঁড়িয়ে আছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। অথচ তাকেই এখন তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সাদাপাথর, জাফলং, আরেফিন টিলা ও রাংপানি থেকে গত এক বছরে লুট হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ঘনফুট পাথর। উদ্ধার করা গেছে মাত্র ৫ লাখ ঘনফুট। বাকিগুলো বিক্রি হয়ে গেছে বা চূর্ণ করে ফেলা হয়েছে।

সূত্র: যমুনা টেলিভিশন

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

সিলেটে পাথর লুট: জড়িত বিএনপি, আ.লীগ, জামায়াত ও সমন্বয়কদের সিন্ডিকেট

আপডেট সময় : ১২:৩৫:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫

 

<<আখলাকুস সাফা>>

সিলেটের শাহ আরেফিন টিলা—১৩৭ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই টিলা এখন অতীত। জায়গায় জায়গায় গর্ত, ধ্বংসস্তূপ ছাড়া আর কিছু নেই। ১৯৯৫ সালে আইন হওয়ার পরও ১৯৯৯ সালে সরকারিভাবে ইজারা দিয়ে শুরু হয় টিলা কেটে পাথর উত্তোলন। মামলা-মোকদ্দমায় কিছুদিন বন্ধ থাকলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আবার দেদারসে চলতে থাকে পাথর লুট। মাত্র এক বছরে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে প্রায় ৫০ ফুট উঁচু ঐতিহাসিক শাহ আরেফিন টিলা মাজার। শুধু এই টিলা থেকেই লুট হয়েছে শতকোটি টাকার পাথর।

যমুনা টেলিভিশনের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, এ ধ্বংসযজ্ঞের পেছনে রয়েছে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াতসহ সমন্বয়কদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বাবুল আহমদ বাবুল, ইসলমাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেবুল আহমদ, বিএনপি নেতা ইসমাঈল মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হুঁশিয়ার আলী, যুবলীগ সভাপতি ফয়জুর রহমান, জামায়াত কর্মী ইয়াকুব আলীসহ অন্তত ২০ জন ছিলেন সরাসরি জড়িত।

বাবুল ‘চেয়ারম্যান বাবুল’ নামে এলাকায় পরিচিত। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করলেও স্থানীয়দের দাবি, তিনিই অন্যতম হোতা। অপরদিকে জামায়াত কর্মী ইয়াকুব আলী স্বীকার করেছেন, তিনি পাথর কিনে পরিবহন ও বিক্রি করতেন। আওয়ামী লীগের যেসব নেতা লুটে জড়িত ছিলেন তারা এখন পলাতক। ক্ষমতায় থাকতে তারাই এগিয়ে ছিলেন বলে অভিযোগ।

স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন লুট ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। বরং পুলিশের বিরুদ্ধেই ট্রাক ও ট্রাক্টর থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। যমুনা টিভির হাতে আসা ফুটেজেও তা ধরা পড়ে।

৫ আগস্টের পর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাব উদ্দিন ও যুবদল নেতা সাজ্জাদ দুদু ছিলেন লাভের শীর্ষে। জেলা যুবদল নেতা বাহার আহমেদ রুহেল, উপজেলা যুবদল নেতা রজন মিয়া, গিয়াস মিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা দুলাল মিয়া, আমিনুল ইসলাম ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শাহাবুদ্দিনও যুক্ত ছিলেন।

লুটপাটে জড়িত ছিলেন আরও অন্তত ৫১ জন। তালিকায় আছেন জেলা যুবদল সদস্য মোস্তাকিম আহমেদ ফরহাদ, ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি আলিমুদ্দিন, উপজেলা বিএনপি নেতা হাজী কামাল, যুবদল কর্মী আজিজুল মাহমুদসহ বহু প্রভাবশালী। এমনকি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয়ে হুমায়ুন আহমেদ হুমন ও সাব্বিরের নামও এসেছে।

পরিবেশবাদী সংগঠন বেলা’র বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ সাহেদা আক্তার বলেন, “চেহারা পাল্টেছে, কিন্তু অবৈধ কাজ থামেনি।” তার মতে, প্রশাসন চোখের সামনে লুট চলতে দেখেও হাত গুটিয়ে বসে থেকেছে। জুলাইয়ের ফুটেজে দেখা গেছে, নদী থেকে পাথর তোলা হচ্ছে, পাশে দাঁড়িয়ে আছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। অথচ তাকেই এখন তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সাদাপাথর, জাফলং, আরেফিন টিলা ও রাংপানি থেকে গত এক বছরে লুট হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ঘনফুট পাথর। উদ্ধার করা গেছে মাত্র ৫ লাখ ঘনফুট। বাকিগুলো বিক্রি হয়ে গেছে বা চূর্ণ করে ফেলা হয়েছে।

সূত্র: যমুনা টেলিভিশন