আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ
- আপডেট সময় : ০৩:১৭:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫ ১৬৯ বার পড়া হয়েছে

বিশ্ববরেণ্য আলেমে দ্বীন, খ্যাতিমান ইসলামী চিন্তাবিদ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট)।
২০২৩ সালের এই দিনে রাত ৮টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। সেদিন তার ছেলে মাসুদ সাঈদী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন— “ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, কোরআনের পাখি ৮টা ৪০ মিনিটে দুনিয়ার সফর শেষ করেছেন।”
প্রায় পাঁচ দশক ধরে আল্লামা সাঈদী দেশ-বিদেশে কোরআনের ভাষ্য তুলে ধরেছেন। তার সুললিত কণ্ঠ, সাহিত্যসম্মত উচ্চারণ, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণভিত্তিক তাফসির এবং ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের আহ্বান লাখো মানুষকে তার অনুসারীতে পরিণত করেছিল।
১৯৪০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার সাঈদখালী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা মাওলানা ইউসুফ সাঈদী ছিলেন একজন প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ। ১৯৬৪ সালে মাদরাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনের পর পাঁচ বছর গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন।
১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন এবং ২০০৯ সাল পর্যন্ত নায়েবে আমিরের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে পিরোজপুর-১ আসন থেকে পরপর দু’বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০১০ সালের ২৯ জুন শহীদবাগের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রথমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ, পরে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের মামলা হয়। ২০১৩ সালে ফাঁসির রায় দেওয়া হলেও আপিলে তা যাবজ্জীবনে কমানো হয়। প্রায় ১৩ বছর কারাবন্দি ছিলেন তিনি।
২০২৩ সালের ১৩ আগস্ট বিকেলে কাশিমপুর কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে গাজীপুর ও পরে ঢাকায় আনা হয়। পরিবারের অভিযোগ— হার্টের রিং, ডায়াবেটিসসহ একাধিক রোগ থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়নি এবং সিসিইউ সাপোর্টহীন অ্যাম্বুলেন্সে স্থানান্তর করা হয়।
দু’দফা নামাজে জানাজা শেষে নিজের প্রতিষ্ঠিত সাঈদী ফাউন্ডেশনের বায়তুল হামদ জামে মসজিদের পাশে দাফন করা হয় তাকে। এখানেই শায়িত আছেন তার ছোট ভাই হুমায়ুন কবীর সাঈদী ও জ্যেষ্ঠ পুত্র মাওলানা রাফিক বিন সাঈদী।















