সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

গাজা পুরোপুরি দখলের প্রস্তাব আনছেন নেতানিয়াহু: বলছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:২০:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫ ৮৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গাজা উপত্যকা পুরোপুরি পুনর্দখলের প্রস্তাব দিতে যাচ্ছেন বলে দাবি করেছে দেশটির গণমাধ্যম। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিষয়টি জানায় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের নিরাপত্তা ক্যাবিনেটের সঙ্গে বৈঠকে নেতানিয়াহু গাজা দখলের এ প্রস্তাব তুলবেন। এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, “নির্ধারিত হয়ে গেছে— আমরা গাজা পুরোপুরি দখল করব এবং হামাসকে পরাজিত করব।”

তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীপ্রধান ও সামরিক কর্মকর্তারা এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করছেন বলে জানিয়েছে গণমাধ্যমগুলো। এমন খবরে ওই কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, “সেনাপ্রধানের যদি এটা পছন্দ না হয়, তাহলে তার পদত্যাগ করা উচিত।”

নেতানিয়াহুর প্রস্তাব ঘিরে গাজায় বন্দি ইসরায়েলি নাগরিকদের পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মোট ৫০ জন বন্দির মধ্যে ২০ জন এখনও জীবিত। সম্প্রতি এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি চারজন ইসরায়েলির মধ্যে তিনজন যুদ্ধবিরতির পক্ষে মত দিয়েছেন, যাতে বন্দিদের মুক্তি সম্ভব হয়।

ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্ররাও নেতানিয়াহুর পরিকল্পনার বিরোধিতা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারা যুদ্ধ বন্ধ এবং মানবিক সহায়তা বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। একইসঙ্গে ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও ব্যাপক বিরোধিতা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পাঠানো এক যৌথ চিঠিতে শতাধিক সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা নেতানিয়াহুর ওপর চাপ প্রয়োগ করে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান।

তাদের একজন, শিন বেতের সাবেক প্রধান আমি আয়ালন বিবিসিকে বলেন, “সামরিকভাবে হামাস ধ্বংস হয়ে গেছে, কিন্তু একটি আদর্শ হিসেবে এটি আরও শক্তিশালী হচ্ছে, ফিলিস্তিনিদের মধ্যে, আরব বিশ্বে, এমনকি পুরো মুসলিম বিশ্বেই।”

তিনি আরও বলেন, “হামাসের আদর্শকে পরাজিত করতে হলে বিকল্প ও আরও ভালো ভবিষ্যতের দৃষ্টান্ত রাখতে হবে।”

বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়, নেতানিয়াহুর ঘোষণাগুলো হয়তো হামাসকে নতুন চুক্তির জন্য চাপ দেওয়ার কৌশলও হতে পারে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইতোমধ্যে গাজার ৭৫ শতাংশ এলাকার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে নতুন পরিকল্পনায় পুরো গাজা দখলের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গাজায় বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনি বাস করেন। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা জানায়, এই যুদ্ধে গাজার ৯০ শতাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত এবং মানবিক সংকটে পড়েছেন। জাতিসংঘের অভিযোগ, ইসরায়েল গাজায় ত্রাণ সরবরাহে বাধা দিচ্ছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

গাজা পুরোপুরি দখলের প্রস্তাব আনছেন নেতানিয়াহু: বলছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম

আপডেট সময় : ১০:২০:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫

 

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গাজা উপত্যকা পুরোপুরি পুনর্দখলের প্রস্তাব দিতে যাচ্ছেন বলে দাবি করেছে দেশটির গণমাধ্যম। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিষয়টি জানায় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের নিরাপত্তা ক্যাবিনেটের সঙ্গে বৈঠকে নেতানিয়াহু গাজা দখলের এ প্রস্তাব তুলবেন। এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, “নির্ধারিত হয়ে গেছে— আমরা গাজা পুরোপুরি দখল করব এবং হামাসকে পরাজিত করব।”

তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীপ্রধান ও সামরিক কর্মকর্তারা এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করছেন বলে জানিয়েছে গণমাধ্যমগুলো। এমন খবরে ওই কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, “সেনাপ্রধানের যদি এটা পছন্দ না হয়, তাহলে তার পদত্যাগ করা উচিত।”

নেতানিয়াহুর প্রস্তাব ঘিরে গাজায় বন্দি ইসরায়েলি নাগরিকদের পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মোট ৫০ জন বন্দির মধ্যে ২০ জন এখনও জীবিত। সম্প্রতি এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি চারজন ইসরায়েলির মধ্যে তিনজন যুদ্ধবিরতির পক্ষে মত দিয়েছেন, যাতে বন্দিদের মুক্তি সম্ভব হয়।

ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্ররাও নেতানিয়াহুর পরিকল্পনার বিরোধিতা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারা যুদ্ধ বন্ধ এবং মানবিক সহায়তা বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। একইসঙ্গে ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও ব্যাপক বিরোধিতা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পাঠানো এক যৌথ চিঠিতে শতাধিক সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা নেতানিয়াহুর ওপর চাপ প্রয়োগ করে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান।

তাদের একজন, শিন বেতের সাবেক প্রধান আমি আয়ালন বিবিসিকে বলেন, “সামরিকভাবে হামাস ধ্বংস হয়ে গেছে, কিন্তু একটি আদর্শ হিসেবে এটি আরও শক্তিশালী হচ্ছে, ফিলিস্তিনিদের মধ্যে, আরব বিশ্বে, এমনকি পুরো মুসলিম বিশ্বেই।”

তিনি আরও বলেন, “হামাসের আদর্শকে পরাজিত করতে হলে বিকল্প ও আরও ভালো ভবিষ্যতের দৃষ্টান্ত রাখতে হবে।”

বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়, নেতানিয়াহুর ঘোষণাগুলো হয়তো হামাসকে নতুন চুক্তির জন্য চাপ দেওয়ার কৌশলও হতে পারে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইতোমধ্যে গাজার ৭৫ শতাংশ এলাকার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে নতুন পরিকল্পনায় পুরো গাজা দখলের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গাজায় বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনি বাস করেন। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা জানায়, এই যুদ্ধে গাজার ৯০ শতাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত এবং মানবিক সংকটে পড়েছেন। জাতিসংঘের অভিযোগ, ইসরায়েল গাজায় ত্রাণ সরবরাহে বাধা দিচ্ছে।