সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

ভারতে নির্দোষ মুসলমানরা বছরের পর বছর জেলে, আসল অপরাধীরা মুক্ত: পিনাকী

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৬:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫ ১৬৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

ভারতে সন্ত্রাসবাদ মামলায় হাজারো নির্দোষ মুসলমান বছরের পর বছর জেল খাটলেও প্রকৃত অপরাধীরা থেকে যাচ্ছে মুক্ত— এমন অভিযোগ তুলেছেন বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার পিনাকী ভট্টাচার্য। মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলায় প্রধান হিন্দুত্ববাদী অভিযুক্তদের খালাস পাওয়ার পর সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে তিনি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান।

২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে রমজান মাসে মহারাষ্ট্রের মালেগাঁও শহরে একটি মোটরসাইকেলে পেতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে ৯ মুসলমান নিহত হন। তদন্তে উঠে আসে, মোটরসাইকেলটি ছিল সাধ্বী প্রজ্ঞা ঠাকুরের নামে নিবন্ধিত। মামলায় অভিযুক্ত করা হয় তাকে, সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্রসাদ পুরোহিতসহ কয়েকজনকে। প্রাথমিকভাবে মহারাষ্ট্র ATS ও পরে NIA জানায়, হামলার পেছনে ছিল একটি হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক। তবে দীর্ঘ ১৬ বছর পর আদালত সব অভিযুক্তকে খালাস দেয়।

পিনাকী বলেন, “যে দেশে হাজার হাজার মুসলমানকে সন্ত্রাসবাদী আখ্যা দিয়ে জেলে পোরা হয়, কিন্তু কোর্টে গিয়ে ৯৮ শতাংশ নির্দোষ প্রমাণিত হয়, সে দেশে আসল অপরাধীদের বিচার তো দূরের কথা, সঠিকভাবে চিহ্নিতই করা হয় না।”

তিনি অভিযোগ করেন, “যেদিন সাধ্বী প্রজ্ঞার বাইক ব্যবহার করে বিস্ফোরণ হয়, সেদিনের ATS প্রধান হেমন্ত কারকারে বলেছিলেন তিনি ডিসেম্বরে হিন্দুত্ববাদী নেটওয়ার্ক নিয়ে হোয়াইট পেপার প্রকাশ করবেন। কিন্তু তার আগেই নভেম্বর মাসে মুম্বাই হামলায় রহস্যজনকভাবে নিহত হন। তার শরীরে ৯ মিমি বুলেটের চিহ্ন পাওয়া যায়, যা সেই হামলার অস্ত্রের সঙ্গে মিলেনি।”

পিনাকী কালসাংরার নিখোঁজ হওয়া এবং অসীমানন্দের স্বীকারোক্তির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “অসীমানন্দ স্বীকার করেছিলেন যে, হায়দরাবাদের মক্কা মসজিদ, মালেগাঁওসহ বহু হামলায় নির্দোষ মুসলমানদের ফাঁসানো হয়েছে।”

সম্প্রতি ২০০৬ সালের মুম্বাই ট্রেন বিস্ফোরণ মামলায় ১২ মুসলমান প্রায় ১৮ বছর জেল খাটার পর হাইকোর্টে খালাস পেয়েছেন। এ নিয়ে পিনাকী বলেন, “যদি তারা নির্দোষ হয়, তাহলে প্রকৃত অপরাধীরা কে? কার স্বার্থে তাদের চিহ্নিত করা হয়নি?”

তিনি বলেন, “ভারতের পুলিশ বহুবার বাংলাদেশি ইসলামপন্থী ও রোহিঙ্গাদের দোষারোপ করেছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত একজনকেও আদালতে দোষী প্রমাণ করা যায়নি।”

পিনাকীর ভাষায়, “ভারতের বিচারব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন হিন্দুত্ববাদীদের আড়াল করতে সচেষ্ট, আর নির্দোষ মুসলমানদের বলির পাঁঠা বানাতে দ্বিধাহীন।”

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

ভারতে নির্দোষ মুসলমানরা বছরের পর বছর জেলে, আসল অপরাধীরা মুক্ত: পিনাকী

আপডেট সময় : ০৭:৩৬:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫

 

ভারতে সন্ত্রাসবাদ মামলায় হাজারো নির্দোষ মুসলমান বছরের পর বছর জেল খাটলেও প্রকৃত অপরাধীরা থেকে যাচ্ছে মুক্ত— এমন অভিযোগ তুলেছেন বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার পিনাকী ভট্টাচার্য। মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলায় প্রধান হিন্দুত্ববাদী অভিযুক্তদের খালাস পাওয়ার পর সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে তিনি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান।

২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে রমজান মাসে মহারাষ্ট্রের মালেগাঁও শহরে একটি মোটরসাইকেলে পেতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে ৯ মুসলমান নিহত হন। তদন্তে উঠে আসে, মোটরসাইকেলটি ছিল সাধ্বী প্রজ্ঞা ঠাকুরের নামে নিবন্ধিত। মামলায় অভিযুক্ত করা হয় তাকে, সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্রসাদ পুরোহিতসহ কয়েকজনকে। প্রাথমিকভাবে মহারাষ্ট্র ATS ও পরে NIA জানায়, হামলার পেছনে ছিল একটি হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক। তবে দীর্ঘ ১৬ বছর পর আদালত সব অভিযুক্তকে খালাস দেয়।

পিনাকী বলেন, “যে দেশে হাজার হাজার মুসলমানকে সন্ত্রাসবাদী আখ্যা দিয়ে জেলে পোরা হয়, কিন্তু কোর্টে গিয়ে ৯৮ শতাংশ নির্দোষ প্রমাণিত হয়, সে দেশে আসল অপরাধীদের বিচার তো দূরের কথা, সঠিকভাবে চিহ্নিতই করা হয় না।”

তিনি অভিযোগ করেন, “যেদিন সাধ্বী প্রজ্ঞার বাইক ব্যবহার করে বিস্ফোরণ হয়, সেদিনের ATS প্রধান হেমন্ত কারকারে বলেছিলেন তিনি ডিসেম্বরে হিন্দুত্ববাদী নেটওয়ার্ক নিয়ে হোয়াইট পেপার প্রকাশ করবেন। কিন্তু তার আগেই নভেম্বর মাসে মুম্বাই হামলায় রহস্যজনকভাবে নিহত হন। তার শরীরে ৯ মিমি বুলেটের চিহ্ন পাওয়া যায়, যা সেই হামলার অস্ত্রের সঙ্গে মিলেনি।”

পিনাকী কালসাংরার নিখোঁজ হওয়া এবং অসীমানন্দের স্বীকারোক্তির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “অসীমানন্দ স্বীকার করেছিলেন যে, হায়দরাবাদের মক্কা মসজিদ, মালেগাঁওসহ বহু হামলায় নির্দোষ মুসলমানদের ফাঁসানো হয়েছে।”

সম্প্রতি ২০০৬ সালের মুম্বাই ট্রেন বিস্ফোরণ মামলায় ১২ মুসলমান প্রায় ১৮ বছর জেল খাটার পর হাইকোর্টে খালাস পেয়েছেন। এ নিয়ে পিনাকী বলেন, “যদি তারা নির্দোষ হয়, তাহলে প্রকৃত অপরাধীরা কে? কার স্বার্থে তাদের চিহ্নিত করা হয়নি?”

তিনি বলেন, “ভারতের পুলিশ বহুবার বাংলাদেশি ইসলামপন্থী ও রোহিঙ্গাদের দোষারোপ করেছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত একজনকেও আদালতে দোষী প্রমাণ করা যায়নি।”

পিনাকীর ভাষায়, “ভারতের বিচারব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন হিন্দুত্ববাদীদের আড়াল করতে সচেষ্ট, আর নির্দোষ মুসলমানদের বলির পাঁঠা বানাতে দ্বিধাহীন।”