সমন্বয়ক পরিচয়ে মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ কুবি শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে
- আপডেট সময় : ০৪:৫৬:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫ ৭৫ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লার জগন্নাথপুর ইউনিয়নে মামলার ভয় দেখিয়ে অসহায় মানুষদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সাবেক সদস্য আরাফ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার মদদ ও অর্থায়নে বৈষম্যবিরোধী মামলায় নিরীহ মানুষদের আসামি করে আরাফ ভূঁইয়া অর্থ আদায় করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ৫ আগস্ট কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের শোডাউনের সামনের সারিতেও অবস্থান নেন।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর কোতয়ালী মডেল থানায় সাবেক মেয়র ডা. তাহসীন বাহার সূচনা ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের ১৭৯ নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাতনামা আরও শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার এজাহারে সময় ও স্থানসংক্রান্ত অসংগতি লক্ষ্য করা যায়। বলা হয়, ৪ আগস্ট ‘শুক্রবার’ টমছমব্রিজ ও সালাহউদ্দিন মোড়ে সহিংসতা ঘটে, অথচ ওই দিনটি ছিল রোববার।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, ছাত্র-জনতার মিছিলে ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলি ছোড়া হয়, বহু শিক্ষার্থী আহত হন, পথ অবরোধ করে চিকিৎসা বাধাগ্রস্ত করা হয়। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ৪ আগস্ট ওই এলাকায় কোনো আন্দোলন হয়নি। বরং মূল কর্মসূচি হয় কোটবাড়ি বিশ্বরোড ও পরে আলেখারচরে।
প্রথম সাক্ষী কুবির শিক্ষার্থী ইকবাল বলেন, টমছমব্রিজে কোনো ঘটনা হয়নি। আমি কোটবাড়িতে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছিলাম। মামলায় কী উল্লেখ ছিল জানি না। সংবাদ সম্মেলনের পর বাদীকে জানিয়ে দিয়েছি—এই দায় আমরা নিচ্ছি না।
আরেক সাক্ষী ইমতেহাদ উল হক বলেন, টমছমব্রিজে কিছু ঘটেছে কি না জানি না। সাক্ষী হিসেবে নাম আসা বা স্বাক্ষরের বিষয়ে কিছু জানি না।
আসামিপক্ষের অভিযোগ আরও বিস্তৃত। আল আমিনের স্ত্রী সীমা আক্তার বলেন, আমার স্বামী নয় মাস ধরে জেলে। আরাফকে অনুরোধ করলে তিন লাখ টাকা দাবি করেন। রিয়াজ খান জানান, তাকে মিথ্যা মামলায় তিন মাসের বেশি জেলে থাকতে হয়েছে, দুই লাখ টাকা না দিলে আরাফ মুক্তির ব্যবস্থা করবেন না বলে জানান। ব্যবসায়ী শাহীন মিয়া বলেন, রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না হয়েও তিনি মামলা ও হয়রানির শিকার।
অভিযোগের বিষয়ে আরাফ ভূঁইয়া দাবি করেন, ৪ আগস্টের হামলার ভিডিও ফুটেজ দেখে মামলা করা হয়েছে। সাক্ষীদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের তিনি চেনেন না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনি সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন বলেও জানান তিনি।
কোতয়ালী থানার ওসি মইনুল ইসলাম জানান, মানববন্ধনকারীদের বিষয়ে তারা অবগত নন। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।















