বিদায় পরমাণুবিজ্ঞানী ড. এম শমশের আলীর: এক আলোকবর্তিকার অবসান
- আপডেট সময় : ১২:৩৫:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫ ৯৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের খ্যাতিমান পরমাণুবিজ্ঞানী ও শিক্ষা সংগঠক অধ্যাপক ড. এম শমশের আলী (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) মারা গেছেন। শনিবার দিবাগত রাত দুইটায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।
ড. শমশের আলী ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) ও সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য। তিনি দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। জানাজা অনুষ্ঠিত হবে আজ বাদ জোহর ধানমন্ডির বায়তুল আমান জামে মসজিদে।
বাউবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বাউবির বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “ড. শমশের আলী ছিলেন উচ্চশিক্ষা ও বিজ্ঞানচর্চায় এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। প্রান্তিক মানুষের কাছে উচ্চশিক্ষা পৌঁছে দিতে তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, যা আজ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক মাইলফলক।”
ড. এম শমশের আলীর জন্ম ১৯৩৭ সালের ২১ নভেম্বর, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায়। পৈত্রিক নিবাস যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া গ্রামে। শৈশব ও কৈশোর কাটে চুয়াডাঙ্গা, রানাঘাট ও যশোরে। ১৯৫৪ সালে যশোর জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৫৬ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে আইএসসি, এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানে অনার্স (১৯৫৯) ও এমএসসি (১৯৬০) সম্পন্ন করেন।
এরপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের জন্য যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। ১৯৬৫ সালে থিওরেটিক্যাল নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।
কর্মজীবনের সূচনা ১৯৬১ সালে পাকিস্তান আণবিক শক্তি কমিশনে যোগদানের মাধ্যমে। পরবর্তীতে দেশে ফিরে ঢাকায় আণবিক শক্তি কেন্দ্রে সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার হিসেবে যোগ দেন। ১৯৭০ সালে তিনি কমিশনের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান এবং ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত ওই পদে ছিলেন। ১৯৮২ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯২-১৯৯৬ মেয়াদে তিনি ছিলেন বাউবির প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য এবং ২০০২ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন। এছাড়াও ২০০৪ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, শিক্ষা বিস্তার ও মানবকল্যাণে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে
















