সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

হামাসকে নিরস্ত্র করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল তুরস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৩৪:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫ ১১৮ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত ফিলিস্তিন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে হামাসকে নিরস্ত্র করার প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে তুরস্ক। দেশটি জানিয়েছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে হামাসসহ ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনকে নিরস্ত্র করার পক্ষপাতী নয় তারা। শনিবার (২ আগস্ট) রাতে টিআরটি ওয়ার্ল্ড এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

গত ২৮-৩০ জুলাই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে “ফিলিস্তিন প্রশ্নের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং দুই-রাষ্ট্র ভিত্তিক পথ বাস্তবায়ন” শীর্ষক তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সৌদি আরব ও ফ্রান্স সম্মেলনটির আয়োজন করে। এতে জাতিসংঘের ১২২টি সদস্য দেশ ও ছয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থা অংশ নেয়।

সম্মেলনের চূড়ান্ত ঘোষণার ১১ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়, হামাস যেন গাজা শাসনের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে অস্ত্র ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। অনেকে এটিকে হামাসকে নিরস্ত্র করার আহ্বান হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তবে তুরস্ক জানায়, তাদের হস্তক্ষেপের ফলে দলিল থেকে ‘নিরস্ত্রীকরণ’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয় এবং বিষয়টিকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক লক্ষ্যসংশ্লিষ্ট করে পুনর্গঠন করা হয়।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, “ইসরায়েলের আগ্রাসী ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে তুরস্ক মনে করে, হামাসসহ ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ কেবল স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সঙ্গে যুক্ত কোনো চুক্তির অধীনেই হতে পারে।”

তারা আরও জানায়, আন্তর্জাতিক ঐকমত্য রক্ষায় সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক আপত্তি তোলা হয়নি। তবে ভবিষ্যতে যাতে তুরস্কের উদ্বেগ যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়, সে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে। তুরস্ক একইসঙ্গে জানায়, তারা হামাসকে বিনাশর্তে জিম্মি মুক্তির আহ্বান জানায়নি।

সম্মেলনের ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে মিসর, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, সকল জিম্মি মুক্তি, ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিনিময়, মরদেহ হস্তান্তর ও গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তাব সমর্থন করা হয়েছে।

সম্মেলনের সহসভাপতি ছিলেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান ও ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল বারো। ফিলিস্তিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মুস্তাফা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারসেন আগাবেকিয়ান। এছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও সাধারণ পরিষদের সভাপতি ফিলেমন ইয়াং সম্মেলনে বক্তব্য দেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

Categories

হামাসকে নিরস্ত্র করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল তুরস্ক

আপডেট সময় : ১১:৩৪:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫

 

জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত ফিলিস্তিন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে হামাসকে নিরস্ত্র করার প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে তুরস্ক। দেশটি জানিয়েছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে হামাসসহ ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনকে নিরস্ত্র করার পক্ষপাতী নয় তারা। শনিবার (২ আগস্ট) রাতে টিআরটি ওয়ার্ল্ড এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

গত ২৮-৩০ জুলাই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে “ফিলিস্তিন প্রশ্নের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং দুই-রাষ্ট্র ভিত্তিক পথ বাস্তবায়ন” শীর্ষক তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সৌদি আরব ও ফ্রান্স সম্মেলনটির আয়োজন করে। এতে জাতিসংঘের ১২২টি সদস্য দেশ ও ছয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থা অংশ নেয়।

সম্মেলনের চূড়ান্ত ঘোষণার ১১ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়, হামাস যেন গাজা শাসনের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে অস্ত্র ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। অনেকে এটিকে হামাসকে নিরস্ত্র করার আহ্বান হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তবে তুরস্ক জানায়, তাদের হস্তক্ষেপের ফলে দলিল থেকে ‘নিরস্ত্রীকরণ’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয় এবং বিষয়টিকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক লক্ষ্যসংশ্লিষ্ট করে পুনর্গঠন করা হয়।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, “ইসরায়েলের আগ্রাসী ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে তুরস্ক মনে করে, হামাসসহ ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ কেবল স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সঙ্গে যুক্ত কোনো চুক্তির অধীনেই হতে পারে।”

তারা আরও জানায়, আন্তর্জাতিক ঐকমত্য রক্ষায় সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক আপত্তি তোলা হয়নি। তবে ভবিষ্যতে যাতে তুরস্কের উদ্বেগ যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়, সে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে। তুরস্ক একইসঙ্গে জানায়, তারা হামাসকে বিনাশর্তে জিম্মি মুক্তির আহ্বান জানায়নি।

সম্মেলনের ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে মিসর, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, সকল জিম্মি মুক্তি, ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিনিময়, মরদেহ হস্তান্তর ও গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তাব সমর্থন করা হয়েছে।

সম্মেলনের সহসভাপতি ছিলেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান ও ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল বারো। ফিলিস্তিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মুস্তাফা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারসেন আগাবেকিয়ান। এছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও সাধারণ পরিষদের সভাপতি ফিলেমন ইয়াং সম্মেলনে বক্তব্য দেন।