সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

বিমান থেকে ফেলা ধুলোমাখা চাল কুড়াতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৩২:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫ ৯৮ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

গাজা উপত্যকায় অবরোধ ও টানা যুদ্ধের মধ্যে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে একদিকে প্রাণ হারাচ্ছে সাধারণ ফিলিস্তিনিরা, অন্যদিকে ক্ষুধার্ত মানুষকে লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। এরইমধ্যে আকাশপথে খাদ্যসাহায্য পাঠাচ্ছে কিছু দেশ। কিন্তু সেই খাদ্য যখন ধূলিমাখা অবস্থায় মাটিতে পড়ে, তখন তা কুড়াতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা।

অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, বিমান থেকে ফেলা চালে বালি ও ধুলো লেগে থাকলেও গাজার বাসিন্দারা তা সংগ্রহ করতে মরিয়া হয়ে পড়ছেন। খাবারের আশায় ছুটছে শিশু ও বৃদ্ধরা। সেই ফুটেজে দেখা গেছে, লোকজন ধূলিবালি মেশানো চাল কুড়িয়ে নিচ্ছেন, যেন বেঁচে থাকার শেষ চেষ্টায় একসাথে লড়ছেন সবাই।

গাজা থেকে সাংবাদিক মোতাসেম আদলি আল জাজিরাকে বলেন, “বিমানগুলো সাহায্য ফেলে দেয়। মরিয়া লোকগুলো বেঁচে থাকার জন্য এগুলো নিতে প্রতিযোগিতা করে। চারদিক থেকে অবরুদ্ধ মানুষের ট্র্যাজেডির সারসংক্ষেপ এটি।”

গাজার আরেক সাংবাদিক সালমা কাদ্দৌমি ভিডিও শেয়ার করে লিখেছেন, “ক্ষুধার্ত মানুষকে বালুভর্তি চাল খাওয়ানো হচ্ছে। বিমান থেকে বোমা ফেলার মতো করে বাস্তুচ্যুতদের ওপর অপমানজনকভাবে ফেলে দেওয়া হচ্ছে।”

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) নামে একটি বিতর্কিত কাঠামোর মাধ্যমে আলাদা ত্রাণ বিতরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগ জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোকে এড়িয়ে পরিচালিত হচ্ছে এবং তা বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারকর্মীদের কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছে।

ফিলিস্তিনিরা জানান, এই তথাকথিত ত্রাণকেন্দ্রগুলোর কাছেই প্রতিনিয়ত হামলা চালাচ্ছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। ক্ষুধার্ত মানুষের ভিড় লক্ষ্য করে চালানো গুলিতে প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি এই ধরনের হামলায় নিহত হয়েছেন।

২০২৩ সাল থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতির আন্তর্জাতিক আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে ইসরায়েল যেভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, তাকে অনেকেই গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করছেন। ফিলিস্তিনে নিহত মানুষের সংখ্যা ৫৯ হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। একইসঙ্গে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলার মুখোমুখি হয়েছে।

ক্ষুধার্ত মানুষের ওপর গুলিবর্ষণ, ধূলিমাখা খাদ্য ফেলা এবং মানবিক সংস্থাগুলোর বাইপাস করে বিতর্কিত ত্রাণ কাঠামো তৈরির ফলে গাজার মানবিক সংকট নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন পর্যবেক্ষকরা।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

বিমান থেকে ফেলা ধুলোমাখা চাল কুড়াতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিরা

আপডেট সময় : ০১:৩২:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫

 

গাজা উপত্যকায় অবরোধ ও টানা যুদ্ধের মধ্যে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে একদিকে প্রাণ হারাচ্ছে সাধারণ ফিলিস্তিনিরা, অন্যদিকে ক্ষুধার্ত মানুষকে লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। এরইমধ্যে আকাশপথে খাদ্যসাহায্য পাঠাচ্ছে কিছু দেশ। কিন্তু সেই খাদ্য যখন ধূলিমাখা অবস্থায় মাটিতে পড়ে, তখন তা কুড়াতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা।

অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, বিমান থেকে ফেলা চালে বালি ও ধুলো লেগে থাকলেও গাজার বাসিন্দারা তা সংগ্রহ করতে মরিয়া হয়ে পড়ছেন। খাবারের আশায় ছুটছে শিশু ও বৃদ্ধরা। সেই ফুটেজে দেখা গেছে, লোকজন ধূলিবালি মেশানো চাল কুড়িয়ে নিচ্ছেন, যেন বেঁচে থাকার শেষ চেষ্টায় একসাথে লড়ছেন সবাই।

গাজা থেকে সাংবাদিক মোতাসেম আদলি আল জাজিরাকে বলেন, “বিমানগুলো সাহায্য ফেলে দেয়। মরিয়া লোকগুলো বেঁচে থাকার জন্য এগুলো নিতে প্রতিযোগিতা করে। চারদিক থেকে অবরুদ্ধ মানুষের ট্র্যাজেডির সারসংক্ষেপ এটি।”

গাজার আরেক সাংবাদিক সালমা কাদ্দৌমি ভিডিও শেয়ার করে লিখেছেন, “ক্ষুধার্ত মানুষকে বালুভর্তি চাল খাওয়ানো হচ্ছে। বিমান থেকে বোমা ফেলার মতো করে বাস্তুচ্যুতদের ওপর অপমানজনকভাবে ফেলে দেওয়া হচ্ছে।”

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) নামে একটি বিতর্কিত কাঠামোর মাধ্যমে আলাদা ত্রাণ বিতরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগ জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোকে এড়িয়ে পরিচালিত হচ্ছে এবং তা বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারকর্মীদের কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছে।

ফিলিস্তিনিরা জানান, এই তথাকথিত ত্রাণকেন্দ্রগুলোর কাছেই প্রতিনিয়ত হামলা চালাচ্ছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। ক্ষুধার্ত মানুষের ভিড় লক্ষ্য করে চালানো গুলিতে প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি এই ধরনের হামলায় নিহত হয়েছেন।

২০২৩ সাল থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতির আন্তর্জাতিক আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে ইসরায়েল যেভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, তাকে অনেকেই গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করছেন। ফিলিস্তিনে নিহত মানুষের সংখ্যা ৫৯ হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। একইসঙ্গে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলার মুখোমুখি হয়েছে।

ক্ষুধার্ত মানুষের ওপর গুলিবর্ষণ, ধূলিমাখা খাদ্য ফেলা এবং মানবিক সংস্থাগুলোর বাইপাস করে বিতর্কিত ত্রাণ কাঠামো তৈরির ফলে গাজার মানবিক সংকট নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন পর্যবেক্ষকরা।