গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার ওপর জোর দিতে প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান
- আপডেট সময় : ০৯:১৬:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫ ৯৪ বার পড়া হয়েছে

দেশের সমুদ্র ও প্রাণিসম্পদ খাতে বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তা পুরোপুরি কাজে লাগাতে না পারায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার কার্যক্রম জোরদার করা এবং প্রাণিসম্পদ খাতকে আধুনিকায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। পরে তার ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এটি এমন একটি মন্ত্রণালয় যার অধীনে আছে আমাদের সমুদ্র ও খামার—কিন্তু আমরা এখনও সমুদ্রের দুনিয়ায় প্রবেশ করিনি।”
তিনি বঙ্গোপসাগরে আধুনিক জরিপ পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “আমাদের জানতে হবে কী ধরনের মৎস্যসম্পদ রয়েছে, কী হারাচ্ছি, কেন পিছিয়ে আছি। প্রয়োজনে জাপান বা থাইল্যান্ডের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।”
প্রফেসর ইউনূস জানান, জাপান ইতোমধ্যে সহায়তার আগ্রহ দেখিয়েছে এবং যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া এগোনো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, “এটা কেবল মাছ ধরার নয়, বরং একটি শক্তিশালী শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ।”
গবেষণায় বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে ইউনূস বলেন, গবেষণার ফল যেন সরাসরি নীতিনির্ধারণে প্রতিফলিত হয়।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে গভীর সমুদ্র মৎস্যচর্চা অন্তর্ভুক্তিরও পরামর্শ দেন।
প্রাণিসম্পদ বিষয়ে তিনি বলেন, “গবাদিপশুর খাদ্য, রোগ ও ভ্যাকসিনের দাম নিয়ে খামারিরা সংকটে আছেন। দেশীয়ভাবে উৎপাদনই এর সমাধান।”
বিশ্বের হালাল মাংস বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন ইউনূস। তিনি জানান, মালয়েশিয়া এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী।
কোরবানির ঈদের কাঁচা চামড়া বাজারে সিন্ডিকেট ঠেকাতে আগাম প্রস্তুতির ওপর জোর দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “ন্যায্য ও স্বচ্ছ বাজার নিশ্চিত করতে এখন থেকেই কাজ শুরু করতে হবে।”
জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে ইউনূস বলেন, “পশুদের কষ্ট দিয়ে রাখা হয়েছে, খাবার চুরি হয়েছে—এটা অমানবিক। পুরো চিড়িয়াখানাটির সংস্কার দরকার।”
তিনি দেশের পশু হাসপাতালগুলোর আধুনিকায়ন ও কার্যকারিতা বাড়ানোর নির্দেশ দেন।
বৈঠকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফারিদা আখতার, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফায়েজ আহমাদ তাইয়্যেব এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।















