সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

চাঁদাবাজি-অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর বিএনপি, একদিনে বহিষ্কার ২০ নেতা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:০৮:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫ ১২৪ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

কমিটি বিলুপ্ত চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি, আরও শাস্তির মুখে বহুজন

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, চাঁদাবাজি, দখলদারি, হানাহানি ও নানা অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগে একদিনেই বিএনপির ২০ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হয় বলে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে চাঁদাবাজি, তদবির বাণিজ্য, সন্ত্রাস ও দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ বাড়তে থাকে। এই পরিস্থিতিতে দলটি ব্যাপক সাংগঠনিক শুদ্ধি অভিযানে নেমেছে। ইতোমধ্যে শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেই বহিষ্কৃত হয়েছেন।

দলের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরাসরি এই শুদ্ধি অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছে হাইকমান্ড। প্রয়োজনে ওইসব নেতাকে আইনের হাতে তুলে দেওয়ারও প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রামে সংঘর্ষ, বহিষ্কার ও কমিটি বিলুপ্তি

গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপির দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জেরে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকার ও ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস কাদের চৌধুরী পদ হারান। গিয়াস কাদেরের প্রাথমিক সদস্য পদসহ ভাইস চেয়ারম্যান পদও স্থগিত করা হয়।

এছাড়া একই দিনে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, মিরসরাইয়ের গাজী নিজাম উদ্দিন, বারৈয়ারহাটের দিদারুল ইসলাম মিয়াজী, যুবদল নেতা সিরাজুল ইসলাম ও কামাল উদ্দিনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

দেশজুড়ে বহিষ্কার ও শৃঙ্খলা ব্যবস্থা

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় মো. সৈয়দ আলম ও ড. টিএম মাহবুবুর রহমানকে বহিষ্কার করা হয়েছে। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ইমাম হোসেন গাজী, মতলব দক্ষিণের আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া, জেলা বিএনপির আব্দুল মান্নান লস্কর এবং কুমিল্লার লাকসামের মো. শফিউল্লাহ একইভাবে বহিষ্কারের শাস্তি পেয়েছেন।

এছাড়া বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাবের আট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সদস্যপদ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। বহিষ্কৃতরা হলেন ডা. খায়রুল ইসলাম, ডা. রফিকুল কবির লাবু, ডা. ফারুক হোসেন, ডা. রেজানুর রঞ্জু, ডা. কামাল, ডা. সাজিদ, ডা. শাওন ও ডা. রাকিব।

শুদ্ধি অভিযানে তারেক রহমানের ‘জিরো টলারেন্স’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “তারেক রহমান এখন পর্যন্ত ৪ হাজারের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—দলীয় নাম ভাঙিয়ে কেউ কোনো অপকর্ম করলে, সে যত বড় নেতাই হোক, রেহাই পাবে না।”

দলের একাধিক সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিএনপির জন্য কিছুটা অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। সেই সুযোগে কিছু ‘হাইব্রিড’ নেতাকর্মী দলে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় হাইকমান্ড আগেভাগেই ব্যবস্থা নিতে শুরু করে।

মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএসএস-এর তথ্যমতে, গত এক বছরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে ৮০ জনের বেশি নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। আইন ও সালিশ কেন্দ্র বলছে, গত ১০ মাসে ৬৮ জন খুনের শিকার হয়েছেন।

বিএনপির দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্টের পর থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৩ হাজার ২৪৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮০০ জনকে বহিষ্কার, ৭০০ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ, ৫০ জনের পদ স্থগিত, ১০০ জনকে সতর্ক এবং ১৫০ জনকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বহিষ্কারের আবেদন পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনা

সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে প্রায় ১,৬০০ বহিষ্কৃত নেতাকর্মী তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। তবে নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হতে পারে।

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “অপরাধ প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। গণতান্ত্রিক দল হিসেবে আমরা শৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

চাঁদাবাজি-অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর বিএনপি, একদিনে বহিষ্কার ২০ নেতা

আপডেট সময় : ০১:০৮:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫

 

কমিটি বিলুপ্ত চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি, আরও শাস্তির মুখে বহুজন

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, চাঁদাবাজি, দখলদারি, হানাহানি ও নানা অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগে একদিনেই বিএনপির ২০ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হয় বলে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে চাঁদাবাজি, তদবির বাণিজ্য, সন্ত্রাস ও দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ বাড়তে থাকে। এই পরিস্থিতিতে দলটি ব্যাপক সাংগঠনিক শুদ্ধি অভিযানে নেমেছে। ইতোমধ্যে শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেই বহিষ্কৃত হয়েছেন।

দলের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরাসরি এই শুদ্ধি অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছে হাইকমান্ড। প্রয়োজনে ওইসব নেতাকে আইনের হাতে তুলে দেওয়ারও প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রামে সংঘর্ষ, বহিষ্কার ও কমিটি বিলুপ্তি

গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপির দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জেরে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকার ও ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস কাদের চৌধুরী পদ হারান। গিয়াস কাদেরের প্রাথমিক সদস্য পদসহ ভাইস চেয়ারম্যান পদও স্থগিত করা হয়।

এছাড়া একই দিনে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, মিরসরাইয়ের গাজী নিজাম উদ্দিন, বারৈয়ারহাটের দিদারুল ইসলাম মিয়াজী, যুবদল নেতা সিরাজুল ইসলাম ও কামাল উদ্দিনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

দেশজুড়ে বহিষ্কার ও শৃঙ্খলা ব্যবস্থা

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় মো. সৈয়দ আলম ও ড. টিএম মাহবুবুর রহমানকে বহিষ্কার করা হয়েছে। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ইমাম হোসেন গাজী, মতলব দক্ষিণের আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া, জেলা বিএনপির আব্দুল মান্নান লস্কর এবং কুমিল্লার লাকসামের মো. শফিউল্লাহ একইভাবে বহিষ্কারের শাস্তি পেয়েছেন।

এছাড়া বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাবের আট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সদস্যপদ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। বহিষ্কৃতরা হলেন ডা. খায়রুল ইসলাম, ডা. রফিকুল কবির লাবু, ডা. ফারুক হোসেন, ডা. রেজানুর রঞ্জু, ডা. কামাল, ডা. সাজিদ, ডা. শাওন ও ডা. রাকিব।

শুদ্ধি অভিযানে তারেক রহমানের ‘জিরো টলারেন্স’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “তারেক রহমান এখন পর্যন্ত ৪ হাজারের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—দলীয় নাম ভাঙিয়ে কেউ কোনো অপকর্ম করলে, সে যত বড় নেতাই হোক, রেহাই পাবে না।”

দলের একাধিক সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিএনপির জন্য কিছুটা অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। সেই সুযোগে কিছু ‘হাইব্রিড’ নেতাকর্মী দলে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় হাইকমান্ড আগেভাগেই ব্যবস্থা নিতে শুরু করে।

মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএসএস-এর তথ্যমতে, গত এক বছরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে ৮০ জনের বেশি নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। আইন ও সালিশ কেন্দ্র বলছে, গত ১০ মাসে ৬৮ জন খুনের শিকার হয়েছেন।

বিএনপির দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্টের পর থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৩ হাজার ২৪৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮০০ জনকে বহিষ্কার, ৭০০ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ, ৫০ জনের পদ স্থগিত, ১০০ জনকে সতর্ক এবং ১৫০ জনকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বহিষ্কারের আবেদন পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনা

সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে প্রায় ১,৬০০ বহিষ্কৃত নেতাকর্মী তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। তবে নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হতে পারে।

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “অপরাধ প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। গণতান্ত্রিক দল হিসেবে আমরা শৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।”