সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

গভীর সংস্কার না করলে স্বৈরাচার আবার ফিরে আসবে: ড. ইউনূস

আইবি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:২৩:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫ ১০৮ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

গভীর সংস্কার ছাড়া স্বৈরাচার আবার ফিরে আসবে বলে সতর্ক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “এটা ওপরে প্রলেপ দেওয়ার পরিবর্তন নয়, এটা মনের গভীরতম জায়গার সংস্কার। যদি সে রকম গভীর পরিবর্তন না করি, তাহলে যে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমরা আজ কথা বলছি, কাল আবার সে ফিরে আসবে।”

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে জাতিসংঘ আয়োজিত ‘জুলাই স্মরণ অনুষ্ঠানে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ড. ইউনূস বলেন, “আমার আবেদন হচ্ছে, আমাদের জাতির ভেতরে এমন কিছু থেকে গেছে, যেটা যত শাস্তি দেই, তবুও মুছে যায় না। আমাদের সে বীজ থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে হবে। এই সংস্কার কাগজে-কলমে নয়, মনের গভীরে প্রয়োজন। আজকের শিক্ষা হলো, কীভাবে আমরা নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করব—এটাই হবে আমাদের জাতিগত পুনর্জন্ম। জুলাই মাস কেবল স্বৈরাচারমুক্তির নয়, এটি আমাদের পুনর্জন্মের মাস।”

তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি নতুন রাজনৈতিক কাঠামোর চারপাশে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তুলতে চাই, যা অংশগ্রহণমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করে। আমাদের লক্ষ্য একটি এমন সমাজ গড়া, যেখানে সব বাংলাদেশি শান্তি, মর্যাদা ও স্বাধীনতার সঙ্গে বাস করতে পারে।”

জাতিসংঘের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ড. ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশের সবচেয়ে অন্ধকার সময়ে আমাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য জাতিসংঘকে ধন্যবাদ জানাই। আগামীতেও এই অংশীদারত্ব অব্যাহত থাকবে বলে আমি আশা করি।”

আলোচনায় অংশ নিয়ে মানবাধিকার আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, “গত এক বছরে কিছু অর্জন এসেছে, কিন্তু মানবাধিকার লঙ্ঘন এখনও হচ্ছে। ‘তোষামোদী’ করার মতো কাজ কোনো ফৌজদারি অপরাধ নয়, কিন্তু অনেকেই এই অভিযোগে এখনও কারাবন্দি। এটি আমাদের সংবিধান ও আইনের অপব্যাখ্যা।”

তিনি শিশুদের গ্রেপ্তার ও আসামিদের হাতকড়া পরানোর বিষয়েও আরও মানবিক ও সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “জুলাই গণহত্যার বিচার ও জরুরি সংস্কার চাই আমরা। তবে মনে রাখতে হবে—জনগণের প্রতিনিধিত্ব ছাড়া কোনো সরকার কার্যকর হতে পারে না। ম্যান্ডেটবিহীন শাসন আর ম্যান্ডেটভিত্তিক শাসনের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য আছে।”

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, “বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন—এই তিনটি একসঙ্গে চলতে হবে। বিচার ও সংস্কারের আগে নির্বাচন হলে সেটা জাতির জন্য দুর্যোগ হয়ে আসবে। শহীদ পরিবারগুলোর দাবি, বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো নির্বাচন চায় না।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘ বাংলাদেশের সিনিয়র মানবাধিকার উপদেষ্টা হুমা খান, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, মানবাধিকার ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

বক্তারা জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, জাতিসংঘের তথ্য অনুসন্ধান প্রতিবেদন বাস্তবায়ন, এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

গভীর সংস্কার না করলে স্বৈরাচার আবার ফিরে আসবে: ড. ইউনূস

আপডেট সময় : ১১:২৩:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫

 

গভীর সংস্কার ছাড়া স্বৈরাচার আবার ফিরে আসবে বলে সতর্ক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “এটা ওপরে প্রলেপ দেওয়ার পরিবর্তন নয়, এটা মনের গভীরতম জায়গার সংস্কার। যদি সে রকম গভীর পরিবর্তন না করি, তাহলে যে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমরা আজ কথা বলছি, কাল আবার সে ফিরে আসবে।”

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে জাতিসংঘ আয়োজিত ‘জুলাই স্মরণ অনুষ্ঠানে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ড. ইউনূস বলেন, “আমার আবেদন হচ্ছে, আমাদের জাতির ভেতরে এমন কিছু থেকে গেছে, যেটা যত শাস্তি দেই, তবুও মুছে যায় না। আমাদের সে বীজ থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে হবে। এই সংস্কার কাগজে-কলমে নয়, মনের গভীরে প্রয়োজন। আজকের শিক্ষা হলো, কীভাবে আমরা নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করব—এটাই হবে আমাদের জাতিগত পুনর্জন্ম। জুলাই মাস কেবল স্বৈরাচারমুক্তির নয়, এটি আমাদের পুনর্জন্মের মাস।”

তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি নতুন রাজনৈতিক কাঠামোর চারপাশে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তুলতে চাই, যা অংশগ্রহণমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করে। আমাদের লক্ষ্য একটি এমন সমাজ গড়া, যেখানে সব বাংলাদেশি শান্তি, মর্যাদা ও স্বাধীনতার সঙ্গে বাস করতে পারে।”

জাতিসংঘের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ড. ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশের সবচেয়ে অন্ধকার সময়ে আমাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য জাতিসংঘকে ধন্যবাদ জানাই। আগামীতেও এই অংশীদারত্ব অব্যাহত থাকবে বলে আমি আশা করি।”

আলোচনায় অংশ নিয়ে মানবাধিকার আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, “গত এক বছরে কিছু অর্জন এসেছে, কিন্তু মানবাধিকার লঙ্ঘন এখনও হচ্ছে। ‘তোষামোদী’ করার মতো কাজ কোনো ফৌজদারি অপরাধ নয়, কিন্তু অনেকেই এই অভিযোগে এখনও কারাবন্দি। এটি আমাদের সংবিধান ও আইনের অপব্যাখ্যা।”

তিনি শিশুদের গ্রেপ্তার ও আসামিদের হাতকড়া পরানোর বিষয়েও আরও মানবিক ও সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “জুলাই গণহত্যার বিচার ও জরুরি সংস্কার চাই আমরা। তবে মনে রাখতে হবে—জনগণের প্রতিনিধিত্ব ছাড়া কোনো সরকার কার্যকর হতে পারে না। ম্যান্ডেটবিহীন শাসন আর ম্যান্ডেটভিত্তিক শাসনের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য আছে।”

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, “বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন—এই তিনটি একসঙ্গে চলতে হবে। বিচার ও সংস্কারের আগে নির্বাচন হলে সেটা জাতির জন্য দুর্যোগ হয়ে আসবে। শহীদ পরিবারগুলোর দাবি, বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো নির্বাচন চায় না।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘ বাংলাদেশের সিনিয়র মানবাধিকার উপদেষ্টা হুমা খান, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, মানবাধিকার ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

বক্তারা জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, জাতিসংঘের তথ্য অনুসন্ধান প্রতিবেদন বাস্তবায়ন, এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করেন।