ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বিশ্বকে দেখিয়েছে, ইরানের ভিত্তি কতটা মজবুত: খামেনি
- আপডেট সময় : ১১:১১:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫ ১৩৪ বার পড়া হয়েছে

ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে, ইরানের ভিত্তি কতটা শক্ত—এমন মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তাঁর ভাষায়, এই যুদ্ধ ইরানের সাহস, শক্তি ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
যুদ্ধবিরতির ৪০তম দিন উপলক্ষে আয়োজিত শহীদ স্মরণসভায় সোমবার (২৮ জুলাই) তিনি এসব কথা বলেন। খবর মেহের নিউজের।
খামেনি বলেন, “শত্রুরা আমাদের বিরোধিতা করে, কারণ তারা ইরানের ধর্ম, জ্ঞান ও ঐক্যকে ভয় পায়। কিন্তু আল্লাহর রহমতে, ইরানি জাতি কোনো সময় তাদের পথ থেকে সরে আসবে না।” তিনি উল্লেখ করেন, এই ১২ দিনের যুদ্ধ ইরানকে আন্তর্জাতিক পরিসরে যে সম্মান এনে দিয়েছে, তা ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, “সারা বিশ্ব আজ স্বীকার করছে—ইরান একটি অদম্য শক্তির নাম, যার ভিত্তি ধৈর্য, সাহস এবং ইচ্ছাশক্তিতে গড়া।”
আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, “এই যুদ্ধে সামরিক নেতা, বিজ্ঞানী ও সাধারণ মানুষ শহীদ হয়েছেন। তাদের পরিবারের প্রতি আমি গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি।”
তিনি ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতেও ইরানের সাধারণ মানুষ ও তরুণেরা জাতীয় স্বার্থে শত্রুদের মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে খামেনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রসহ কিছু বড় শক্তি ইরানকে পছন্দ করে না। কারণ তারা জানে, ইরান ধর্ম, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং কোরআনের ছায়াতলে গড়ে ওঠা একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি। পারমাণবিক অস্ত্র বা মানবাধিকার নিয়ে তাদের বক্তব্য আসলে অজুহাত মাত্র।”
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে ইরানের সামরিক বাহিনীর কয়েকজন শীর্ষ নেতা, পরমাণু বিজ্ঞানী এবং সাধারণ নাগরিক নিহত হন। হামলায় এক হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়।
পরবর্তীতে ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্রও এই যুদ্ধে সরাসরি যুক্ত হয়। তারা ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়।
জবাবে ইরানও শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ইসরায়েলের দখল করা অঞ্চলে পাল্টা হামলা চালানোর পাশাপাশি কাতারে থাকা একটি বড় মার্কিন বিমানঘাঁটিতেও আঘাত হানে।
শেষ পর্যন্ত ২৪ জুন ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানালে লড়াই থামে।
















