সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বিশ্বকে দেখিয়েছে, ইরানের ভিত্তি কতটা মজবুত: খামেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:১১:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫ ১৩৪ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে, ইরানের ভিত্তি কতটা শক্ত—এমন মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তাঁর ভাষায়, এই যুদ্ধ ইরানের সাহস, শক্তি ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

যুদ্ধবিরতির ৪০তম দিন উপলক্ষে আয়োজিত শহীদ স্মরণসভায় সোমবার (২৮ জুলাই) তিনি এসব কথা বলেন। খবর মেহের নিউজের।

খামেনি বলেন, “শত্রুরা আমাদের বিরোধিতা করে, কারণ তারা ইরানের ধর্ম, জ্ঞান ও ঐক্যকে ভয় পায়। কিন্তু আল্লাহর রহমতে, ইরানি জাতি কোনো সময় তাদের পথ থেকে সরে আসবে না।” তিনি উল্লেখ করেন, এই ১২ দিনের যুদ্ধ ইরানকে আন্তর্জাতিক পরিসরে যে সম্মান এনে দিয়েছে, তা ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, “সারা বিশ্ব আজ স্বীকার করছে—ইরান একটি অদম্য শক্তির নাম, যার ভিত্তি ধৈর্য, সাহস এবং ইচ্ছাশক্তিতে গড়া।”

আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, “এই যুদ্ধে সামরিক নেতা, বিজ্ঞানী ও সাধারণ মানুষ শহীদ হয়েছেন। তাদের পরিবারের প্রতি আমি গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি।”

তিনি ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতেও ইরানের সাধারণ মানুষ ও তরুণেরা জাতীয় স্বার্থে শত্রুদের মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে খামেনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রসহ কিছু বড় শক্তি ইরানকে পছন্দ করে না। কারণ তারা জানে, ইরান ধর্ম, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং কোরআনের ছায়াতলে গড়ে ওঠা একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি। পারমাণবিক অস্ত্র বা মানবাধিকার নিয়ে তাদের বক্তব্য আসলে অজুহাত মাত্র।”

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে ইরানের সামরিক বাহিনীর কয়েকজন শীর্ষ নেতা, পরমাণু বিজ্ঞানী এবং সাধারণ নাগরিক নিহত হন। হামলায় এক হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়।

পরবর্তীতে ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্রও এই যুদ্ধে সরাসরি যুক্ত হয়। তারা ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়।

জবাবে ইরানও শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ইসরায়েলের দখল করা অঞ্চলে পাল্টা হামলা চালানোর পাশাপাশি কাতারে থাকা একটি বড় মার্কিন বিমানঘাঁটিতেও আঘাত হানে।

শেষ পর্যন্ত ২৪ জুন ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানালে লড়াই থামে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বিশ্বকে দেখিয়েছে, ইরানের ভিত্তি কতটা মজবুত: খামেনি

আপডেট সময় : ১১:১১:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫

 

ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে, ইরানের ভিত্তি কতটা শক্ত—এমন মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তাঁর ভাষায়, এই যুদ্ধ ইরানের সাহস, শক্তি ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

যুদ্ধবিরতির ৪০তম দিন উপলক্ষে আয়োজিত শহীদ স্মরণসভায় সোমবার (২৮ জুলাই) তিনি এসব কথা বলেন। খবর মেহের নিউজের।

খামেনি বলেন, “শত্রুরা আমাদের বিরোধিতা করে, কারণ তারা ইরানের ধর্ম, জ্ঞান ও ঐক্যকে ভয় পায়। কিন্তু আল্লাহর রহমতে, ইরানি জাতি কোনো সময় তাদের পথ থেকে সরে আসবে না।” তিনি উল্লেখ করেন, এই ১২ দিনের যুদ্ধ ইরানকে আন্তর্জাতিক পরিসরে যে সম্মান এনে দিয়েছে, তা ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, “সারা বিশ্ব আজ স্বীকার করছে—ইরান একটি অদম্য শক্তির নাম, যার ভিত্তি ধৈর্য, সাহস এবং ইচ্ছাশক্তিতে গড়া।”

আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, “এই যুদ্ধে সামরিক নেতা, বিজ্ঞানী ও সাধারণ মানুষ শহীদ হয়েছেন। তাদের পরিবারের প্রতি আমি গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি।”

তিনি ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতেও ইরানের সাধারণ মানুষ ও তরুণেরা জাতীয় স্বার্থে শত্রুদের মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে খামেনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রসহ কিছু বড় শক্তি ইরানকে পছন্দ করে না। কারণ তারা জানে, ইরান ধর্ম, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং কোরআনের ছায়াতলে গড়ে ওঠা একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি। পারমাণবিক অস্ত্র বা মানবাধিকার নিয়ে তাদের বক্তব্য আসলে অজুহাত মাত্র।”

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে ইরানের সামরিক বাহিনীর কয়েকজন শীর্ষ নেতা, পরমাণু বিজ্ঞানী এবং সাধারণ নাগরিক নিহত হন। হামলায় এক হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়।

পরবর্তীতে ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্রও এই যুদ্ধে সরাসরি যুক্ত হয়। তারা ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়।

জবাবে ইরানও শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ইসরায়েলের দখল করা অঞ্চলে পাল্টা হামলা চালানোর পাশাপাশি কাতারে থাকা একটি বড় মার্কিন বিমানঘাঁটিতেও আঘাত হানে।

শেষ পর্যন্ত ২৪ জুন ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানালে লড়াই থামে।