অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: ড. ইউনূস
- আপডেট সময় : ০৯:৫১:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫ ৯১ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে নতুন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার, যা ভবিষ্যতে অন্তর্ভুক্তিমূলক, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে জাতিসংঘ মানবাধিকার মিশন, ঢাকা আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
ড. ইউনূস বলেন, “আমরা এমন একটি সমাজ গড়তে চাই, যেখানে প্রত্যেক বাংলাদেশি স্বাধীনতা, মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবেন। এজন্য একটি অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।”
তিনি জানান, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তে জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন পরিচালনা করেছে। মিশনটি ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়কে কাভার করে এবং এর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। এতে উল্লেখ করা হয়, শুধু জুলাই মাসেই আনুমানিক ১ হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। প্রতিবেদনে ঘটনাগুলোকে “পদ্ধতিগত ও পূর্বপরিকল্পিত” বলে চিহ্নিত করা হয় এবং সম্ভাব্য মানবতাবিরোধী অপরাধের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
ড. ইউনূস বলেন, “ন্যায়বিচার মানে শুধু শাস্তি নয়, বরং এটি নিশ্চিত করা—রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা যেন আর কখনো জনগণের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার না হয়।”
তিনি জানান, সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সংশোধন করা হয়েছে ফৌজদারি কার্যবিধি, গুম প্রতিরোধে যোগ দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক সনদে। ওএইচসিএইচআরের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মাধ্যমে ঢাকায় একটি সহায়ক মিশন প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই মিশন সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজকে কারিগরি সহায়তা দেবে।
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ড. ইউনূস বলেন, “জাতিসংঘ আমাদের সবচেয়ে অন্ধকার সময়ে পাশে ছিল। আমি মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, মানবাধিকার হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক এবং আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইসসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।”
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “গত বছরের ওই মুহূর্তে হাজার হাজার মানুষ—বিশেষ করে তরুণরা—অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। তাদের আত্মত্যাগ আমাদের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান, রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা।














