গাজায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ অনাহারে, চিকিৎসা দরকার ৯০ হাজার নারী-শিশুর
- আপডেট সময় : ১০:৪২:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫ ১২০ বার পড়া হয়েছে

গাজা উপত্যকার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ অভুক্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। বাড়ছে অপুষ্টি, বাড়ছে মৃত্যুও। মানবিক বিপর্যয়ের এই চিত্র জাতিসংঘের খাদ্যবিষয়ক সংস্থা ডব্লিউএফপির সাম্প্রতিক বিবৃতিতে উঠে এসেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, গাজায় বর্তমানে ৯০ হাজার নারী ও শিশুর জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
শুক্রবার হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অপুষ্টিতে ভুগে নতুন করে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এমন মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২২ জনে।
ইসরায়েল, যাদের নিয়ন্ত্রণে গাজার সব সরবরাহ প্রবেশপথ, বলছে, তারা ত্রাণ সহায়তায় কোনো বাধা দিচ্ছে না। বরং অপুষ্টির জন্য হামাসকেই দায়ী করছে তারা। ইসরায়েলের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিমান থেকে সাহায্য দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হতে পারে। যদিও বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থা বলছে, এ ধরনের পদক্ষেপ মোটেও যথেষ্ট নয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডান বিমান থেকে ত্রাণ ফেলার উদ্যোগ নিতে পারে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে জর্ডানের এক কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, ইসরায়েল এখনো তাদের অনুমতি দেয়নি।
এই অবস্থায় গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতি অবিলম্বে সব মানবিক বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা মানতে হবে ইসরায়েলকে। বেসামরিক নাগরিকদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা বন্ধ করা চলবে না।
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস শুক্রবার এক বক্তৃতায় বলেন, “সহানুভূতি, সত্যতা ও মানবিকতার অভাব এতটাই প্রকট হয়ে উঠেছে যে, তা ব্যাখ্যা করাও কঠিন।” তিনি জানান, ২৭ মে থেকে খাদ্য সংগ্রহের সময় এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এ অবস্থায় বিতর্কিত হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের (জিএইচএফ) ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ঠিকাদার অ্যান্থনি আগুইলার বিবিসিকে বলেন, “আমি প্রশ্নহীনভাবে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হতে দেখেছি।” তিনি দাবি করেন, ট্যাংক থেকে গুলি চালিয়ে বেসামরিকদের হত্যা করা হচ্ছে, গোলাবারুদ ব্যবহার করা হচ্ছে খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রে।
তবে জিএইচএফ জানিয়েছে, এসব অভিযোগ একজন বরখাস্তকৃত ক্ষুব্ধ সাবেক ঠিকাদারের, যাকে অসদাচরণের অভিযোগে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কাতারে চলমান যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি বিনিময়ের আলোচনায় অংশগ্রহণকারী দল প্রত্যাহার করে নেওয়ায় সমঝোতা প্রক্রিয়া ফের অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
















