সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

এনসিপির নিবন্ধন নেই, বড় দল হিসেবে কীভাবে ডাকে সরকার : নুর

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৩৯:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫ ৮০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষপাতমূলক আচরণ ও দলীয় বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তিনি বলেছেন, এনসিপির কোনো নিবন্ধন নেই, সদ্য গঠিত একটি দল—তাদের বড় দল হিসেবে সরকার কীভাবে বিবেচনা করলো, সেটি জনগণের প্রশ্ন।

বুধবার (২৩ জুলাই) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ১৩টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

নুর বলেন, “গতকাল রাতে প্রধান উপদেষ্টা চারটি দলকে আলাদা করে বৈঠকে ডেকেছিলেন। এর মধ্যে একটি দলের—এনসিপির—কোনো নিবন্ধন নেই। সদ্য গঠিত একটি দল কেবল। তাহলে সরকার তাদের কোন মানদণ্ডে বড় দল হিসেবে বিবেচনা করলো? এই প্রশ্ন শুধু আমাদের না, আজকের বৈঠকে উপস্থিত সব দলই এ বিষয়ে আপত্তি তুলেছে।”

তিনি বলেন, “বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল, আজও মাঠে একটি বড় শক্তি। তাদের সঙ্গে আলোচনা করাটা স্বাভাবিক। কিন্তু অন্য দলগুলোর মধ্যে নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃতি নেই, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তেমন সরব নয়, অথচ সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ মর্যাদা পাচ্ছে—এটি অস্পষ্টতা তৈরি করছে।”

বৈঠকে এনসিপির প্রতি সরকারের পক্ষপাতী ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নুর। তিনি বলেন, “যে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই সরকার এসেছে, সেই আন্দোলনের মূল চেতনার বিরোধী আচরণ এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি। এটা সরকারের জনপ্রিয়তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।”

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন। সম্প্রতি চট্টগ্রামে আইনজীবী চিন্ময় দাস হত্যাকাণ্ড এবং গোপালগঞ্জের সম্ভাব্য হামলা সম্পর্কে সরকার আগে থেকে জানত না, এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নুর। বলেন, “সাধারণ মানুষ হিসেবে আমরা যেটা আগেই আঁচ করছিলাম, সেটা যদি গোয়েন্দা সংস্থা না করতে পারে, তাহলে তাদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আর যদি জানেও, কিন্তু ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে বুঝতে হবে সরকার-প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়হীনতা আছে।”

নুর আরও বলেন, “পতিত স্বৈরাচারী শক্তি নানা ইস্যুকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করতে পারে। এ বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকার কথা বলেছি।”

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, “এক-দুইটি দলের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত বদলের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বৃহত্তর জনআকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে বা চাপের মুখে কোনো পক্ষের প্রতি পক্ষপাত যেন না হয়—এই আহ্বান জানানো হয়েছে।”

স্থানীয় সরকারের নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সরকারের কোনো জনপ্রতিনিধি নেই। এতে করে এলাকাভিত্তিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। প্রশাসন এককভাবে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। তাই ধাপে ধাপে স্থানীয় নির্বাচন দিয়ে প্রশাসনের প্রস্তুতিও যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছি।”

শিক্ষাক্ষেত্রে এনসিপি-ঘনিষ্ঠ সংগঠন ছাড়া অন্য ছাত্র সংগঠনের প্রতি অবহেলার কথাও তুলে ধরেন নুর। বলেন, “গত ১১ মাসে আমরা এনসিপি ছাড়া অন্য কোনো ছাত্রসংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সরকারকে বসতে দেখিনি। আজ আমরা প্রস্তাব দিয়েছি—সকল ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি সভা আয়োজনের। প্রধান উপদেষ্টা এ বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন।”

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

এনসিপির নিবন্ধন নেই, বড় দল হিসেবে কীভাবে ডাকে সরকার : নুর

আপডেট সময় : ১১:৩৯:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫

 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষপাতমূলক আচরণ ও দলীয় বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তিনি বলেছেন, এনসিপির কোনো নিবন্ধন নেই, সদ্য গঠিত একটি দল—তাদের বড় দল হিসেবে সরকার কীভাবে বিবেচনা করলো, সেটি জনগণের প্রশ্ন।

বুধবার (২৩ জুলাই) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ১৩টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

নুর বলেন, “গতকাল রাতে প্রধান উপদেষ্টা চারটি দলকে আলাদা করে বৈঠকে ডেকেছিলেন। এর মধ্যে একটি দলের—এনসিপির—কোনো নিবন্ধন নেই। সদ্য গঠিত একটি দল কেবল। তাহলে সরকার তাদের কোন মানদণ্ডে বড় দল হিসেবে বিবেচনা করলো? এই প্রশ্ন শুধু আমাদের না, আজকের বৈঠকে উপস্থিত সব দলই এ বিষয়ে আপত্তি তুলেছে।”

তিনি বলেন, “বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল, আজও মাঠে একটি বড় শক্তি। তাদের সঙ্গে আলোচনা করাটা স্বাভাবিক। কিন্তু অন্য দলগুলোর মধ্যে নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃতি নেই, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তেমন সরব নয়, অথচ সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ মর্যাদা পাচ্ছে—এটি অস্পষ্টতা তৈরি করছে।”

বৈঠকে এনসিপির প্রতি সরকারের পক্ষপাতী ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নুর। তিনি বলেন, “যে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই সরকার এসেছে, সেই আন্দোলনের মূল চেতনার বিরোধী আচরণ এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি। এটা সরকারের জনপ্রিয়তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।”

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন। সম্প্রতি চট্টগ্রামে আইনজীবী চিন্ময় দাস হত্যাকাণ্ড এবং গোপালগঞ্জের সম্ভাব্য হামলা সম্পর্কে সরকার আগে থেকে জানত না, এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নুর। বলেন, “সাধারণ মানুষ হিসেবে আমরা যেটা আগেই আঁচ করছিলাম, সেটা যদি গোয়েন্দা সংস্থা না করতে পারে, তাহলে তাদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আর যদি জানেও, কিন্তু ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে বুঝতে হবে সরকার-প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়হীনতা আছে।”

নুর আরও বলেন, “পতিত স্বৈরাচারী শক্তি নানা ইস্যুকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করতে পারে। এ বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকার কথা বলেছি।”

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, “এক-দুইটি দলের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত বদলের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বৃহত্তর জনআকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে বা চাপের মুখে কোনো পক্ষের প্রতি পক্ষপাত যেন না হয়—এই আহ্বান জানানো হয়েছে।”

স্থানীয় সরকারের নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সরকারের কোনো জনপ্রতিনিধি নেই। এতে করে এলাকাভিত্তিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। প্রশাসন এককভাবে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। তাই ধাপে ধাপে স্থানীয় নির্বাচন দিয়ে প্রশাসনের প্রস্তুতিও যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছি।”

শিক্ষাক্ষেত্রে এনসিপি-ঘনিষ্ঠ সংগঠন ছাড়া অন্য ছাত্র সংগঠনের প্রতি অবহেলার কথাও তুলে ধরেন নুর। বলেন, “গত ১১ মাসে আমরা এনসিপি ছাড়া অন্য কোনো ছাত্রসংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সরকারকে বসতে দেখিনি। আজ আমরা প্রস্তাব দিয়েছি—সকল ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি সভা আয়োজনের। প্রধান উপদেষ্টা এ বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন।”