‘কোনো টেনশন কইরেন না, পলক ভাই, কাইন্দেন না’ — আদালত থেকে কারাগারে ফেরত নেয়ার সময়
- আপডেট সময় : ০৮:০২:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫ ৪৫০ বার পড়া হয়েছে

মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে দায়ের করা দুর্নীতির এক মামলায় সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলককে বুধবার (২৩ জুলাই) সকাল আটটায় আদালতে হাজির করা হয়। ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয় তাঁকে।
দুদকের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন থাকলেও তা জমা হয়নি। শুনানি শেষে তাকে ফের হাজতখানায় নেয় পুলিশ। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর জন্য পলককে বের করা হয়।
এ সময় তার দুই হাতে ছিল হাতকড়া, মাথায় হেলমেট, বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট। তাকে প্রিজনভ্যানের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল পুলিশ। কাছাকাছি থাকা কয়েকজন নাটোরের মানুষ তাকে দেখে এগিয়ে আসেন এবং বলেন, “আপনার জন্য দোয়া করি।” পলক তখন হেসে বলেন, “আমার জন্য দোয়া করবেন।”
পরে তাকে প্রিজনভ্যানে তোলা হয়। সেখানে মাথা উঁচু করে লোহার ফোকর দিয়ে উপস্থিত জনতার দিকে তাকিয়ে পলক আবারও বলেন, “সবাই সাবধানে থাকেন, আমার জন্য দোয়া করবেন।”
এই সময় এক ব্যক্তি উচ্চস্বরে বলেন, “কোনো টেনশন কইরেন না, ভাই।” এই কথা শুনেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন পলক, চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। লোকটি তখন আরও বলেন, “পলক ভাই, কাইন্দেন না।”
একপর্যায়ে আদালতের হাজতখানার দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তা এগিয়ে আসেন। এরপর দ্রুতই প্রিজনভ্যানটি কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের দিকে রওনা দেয়। পলক ভ্যানে উঠে চুপচাপ বসে থাকেন।
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ১৫ আগস্ট গ্রেপ্তার হন জুনায়েদ আহমেদ পলক। তাঁর আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন জানান, এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে ৭০টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং মোট ৬২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর পলক ও তাঁর স্ত্রী আরিফা জেসমিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করে। এই মামলায় চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি পলককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম বলেন, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের ভিত্তিতে পলক ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত চলছে।
















