গর্জনিয়া-রামু সড়ক: জনদুর্ভোগের আরেক নাম
- আপডেট সময় : ০২:৫৯:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫ ৬০৮ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা হলো রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ি। এই উপজেলার কিছু ইউনিয়ন যেমন: কচ্ছপিয়া, গর্জনিয়া, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ও দোছড়ি — তাদের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদে অনন্য।
কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন রামু উপজেলার পূর্বাংশে অবস্থিত। এটি পাহাড়ি ও সমতল ভূমির সংমিশ্রণে গঠিত। তার পাশাপাশি গর্জনিয়া রামু উপজেলার অন্যতম বৃহৎ ইউনিয়ন এবং এটি পাহাড়, ঝরনা ও নদীঘেরা। গর্জনিয়া খাল ও বাঁকখালী নদী এখানে প্রবাহিত।
অপরদিকে, নাইক্ষ্যংছড়ি বান্দরবান জেলার সীমান্তবর্তী একটি ইউনিয়ন, যা মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা। এ অঞ্চলের অধিকাংশ এলাকা পাহাড়ি। রয়েছে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা।
রাস্তাঘাট বা যোগাযোগ ব্যবস্থা একটি এলাকার উন্নয়নের অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত। কক্সবাজার ও বান্দরবানের সীমান্তবর্তী এসব ইউনিয়নের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য যেমন বিস্ময়কর, তেমনি দীর্ঘদিন যাবৎ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে রয়েছে বেশ কিছু ঘাটতি।
বৃহৎ জনগোষ্ঠীর এই ইউনিয়নগুলোর বেশিরভাগ সড়কই কাঁচা ও আধাপাকা। কিছু প্রধান রাস্তায় ইট-সোলিং করা হলেও বর্ষাকালে চলাচলে ভোগান্তির শেষ নেই। কক্সবাজার জেলার বৃহত্তর একটি বাজার হলো গর্জনিয়া বাজার, যেখান থেকে প্রতিবছর সরকারি রাজস্ব খাতে জমা পড়ে কোটি কোটি টাকা। সরকার ও প্রশাসন আরও সচেতনতার সহিত সীমান্তবর্তী ব্যবসা-বাণিজ্য এবং এই এলাকার বাজারসমূহ সঠিক ইজারা প্রদানের মাধ্যমে রাজস্ব খাতে আরও বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জনের সম্ভাবনা রয়েছে।
কিন্তু সেই তুলনায় রাস্তাঘাটের উন্নয়ন চোখে পড়ার মতো নয়। বিশেষ করে গর্জনিয়া বাজার থেকে রামু সদরে যাওয়ার একমাত্র প্রধান সড়কটি এখন যেন চরম অব্যবস্থাপনার প্রতিচ্ছবি। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কপথে প্রতিদিন হাজারো মানুষের যাতায়াত, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষিপণ্যবাহী যানবাহন ও সাধারণ পথচারীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সড়কের কিছু অংশ ভালো থাকলেও অধিকাংশ জায়গায় গর্ত, ঝুঁকিপূর্ণ কালভার্ট এবং বেহাল কাঁচা রাস্তা। বর্ষা মৌসুমে এসব গর্ত পানিতে ঢেকে গিয়ে দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কোথাও কোথাও রাস্তার পাশে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় অল্প বৃষ্টিতেই সড়ক ডুবে যায়।
এছাড়া, চলাচলরত যানবাহনের সংখ্যাও দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। জরুরি সময়ে রোগী নিয়ে দ্রুত সময়ে হাসপাতালে পৌঁছাটা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে, যার ফলে জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের জীবন হুমকির মুখে পড়ছে। একদিকে যেমন অর্থনৈতিক ক্ষতি, অন্যদিকে যেমন শিক্ষার প্রতিবন্ধকতা — সবকিছুতেই এই সড়কের অব্যবস্থা এক ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে।
এমনকি সরকারি প্রকল্পে রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নিম্নমানের কাজ এবং অধূরে থেমে যাওয়া প্রকল্প আরও ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে। স্থানীয় জনগণের মাঝে অভিযোগ রয়েছে, সঠিক তদারকি ও পরিকল্পনার অভাবেই বারবার এই অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে।
জনগণের প্রত্যাশা:
– এই সড়কটিকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পাকা ও টেকসই করার প্রকল্প গ্রহণ।
– ড্রেনেজ, কালভার্ট ও সেতুসমূহ পুনঃনির্মাণ।
– সরকারের উন্নয়ন তহবিল ও স্থানীয় প্রশাসনের আন্তরিক হস্তক্ষেপ।
একটি এলাকার রাস্তা মানে শুধু মাটি আর বিটুমিন নয় — এটি মানুষের জীবনযাত্রার মান, অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গর্জনিয়া-রামু সড়ক দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে পড়ে থাকায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। এখনই যদি কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে এই দুর্ভোগের মূল্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও চড়া সুদে দিতে হবে।














জাযাকাল্লাহ প্রিয় ভাই এতো সুন্দর করে গুছিয়ে প্রতিবেদনটি সাজানোর জন্য।